সারাদেশ

আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ইউপি সদস্য গুলিবিদ্ধ

  প্রতিনিধি ১৮ আগস্ট ২০২২ , ১১:১২:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার খোকসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হায়দার আলী নামে এক ইউপি সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে দেবিনগরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান বাবলুর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান বাবলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান।

 

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ওসমানপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হায়দার আলী (৫৫)। তিনি শ্রীপুর গ্রামের মৃত ছলিম মণ্ডলের ছেলে। মারপিটে আহত আব্দুর রশিদ (৪৫) দেবিনগর গ্রামের নাদের হোসেন মিয়ার ছেলে।

গ্রেপ্তার আনিচুর রহমান বাবলু দেবিনগর গ্রামের আনোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ওসমানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

 

গুলিবিদ্ধ হায়দার আলীকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তাকে রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত রশিদও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রশিদকে কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তারা দুজন হাসপাতালে ভর্তি হন।

জানা গেছে, ১৭ আগস্টের জর্জ এমপির সমাবেশে যুক্ত হওয়ার জন্য ইউপি সদস্য হায়দার আলী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের এলাকার লোকজনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। একই দিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান বাবলু ও তার লোকজন এলাকাবাসীকে হুমকি দেন এবং সমাবেশে যেতে না করেন। এ ছাড়া সমাবেশে গেলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। এ সময় খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আক্তার ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গালিগালাজ করেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এরই জের ধরে বুধবার রাত ১০টার দিকে বাবলের নেতৃত্বে ১৫ জনের মত একদল যুবক ইউপি সদস্য হায়দার আলীকে গুলি করে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

হায়দার মেম্বার বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবলুর নেতৃত্বে আনিস, ফারুক, পাপ্পু, সামিরুল, মিজান, আলিম, হানিফ, আলাই, হাবিবুল সহ ১৫ জন আমাকে গুলি করে। ২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট সারা দেশে বিএনপি-জামাতের মদদপুষ্ঠ নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবি কর্তৃক একযোগে ঘৃণ্য ও নারকীয় হামলার প্রতিবাদে খোকসার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে যাওয়ার কারণে আমাকে তারা গুলি করে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমি কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপির লোক আর বাবলু খোকসার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুল রহমান তারেকের লোক। তারা এমপির বিরোধিতা করে। আমি এমপির লোক, এমপির সমাবেশে যাওয়ার কারণে আমাকে গুলি করা হয়।

স্থানীয়রা বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু ও বর্তমান ইউপি সদস্য হায়দার দুজনেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। তাদের দ্বন্দ্বের জেরে কিছুদিন পরপরই এই গ্রামে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে। আমরা এলাকায় শান্তি চাই।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কয়েকজন। একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওসমানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও খবর: সারাদেশ