সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
সাতক্ষীরায় একজনের ফাঁসি শ্যামনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় অফিসার সহ আহত ৩ সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় গৃহবধূ নিহত হিরো আলমকে তথ্যমন্ত্রীর অভিনন্দন তাদেরকে হেদায়েত কর, না হলে মাটিতে মিশিয়ে দাও! শ্যামনগরে হরিণের মাংস সহ ডিঙ্গি নৌকা আটক বেনাপোলে ফেনসিডিল সহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক ওয়াজ মাহফিলে দাওয়াত না পেয়ে আ.লীগের দু’পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা গ্রাহকদের কাছ থেকে দাম বেশি নিয়ে ডাকাতি করছেন গ্যাস ব্যবসায়ীরা! স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব, ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে শেষ করলেন স্বামী ঢাকায় ‘ছোঁ পার্টির’ ১৬ জন গ্রেফতার স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে যত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক ফেসবুক লাইভে এসে যা বললেন হিরো আলম

৩০০ কোটি টাকা লোপাট, ব্যবসায়ী গ্রেফতার

রিপোর্টারের নাম
আপডেট সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২, ৪:০৮ অপরাহ্ন

 

নীলাকাশ টুডেঃ শিপব্রেকিং ব্যবসার ৩০০ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ব্যবসায়ী আবুল কালাম হাবিব (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার বিকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আবুল কালাম হাবিব উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের লালবাগ এলাকার মেসার্স তানিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক ও একই এলাকার মৃত ওমর হোসেনের পুত্র।

তার বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালতে ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া এক ব্যাংকে বন্ধক রাখা সম্পত্তি অন্য ব্যাংকে বন্ধক দেওয়াসহ কয়েকটি প্রতারণার মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে ৮টি মামলায় তার এক বছর করে সাজা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ব্যবসার জন্য ২০১০ সালে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নেওয়ার পর থেকে সেই ব্যাংকের কোনো টাকা ফেরত দেননি এই ব্যবসায়ী।

তবে তার প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া এসব ঋণ খেলাপির তালিকায় পড়ে গেলে নতুন করে ঋণ নেন ছেলেকে দিয়ে। ছেলের নামে গড়ে তোলা মেসার্স শাহেদ শিপ ব্রেকার্সের ঋণগুলোও বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে। পিতা-পুত্রের কাছে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

২০২০ সালে জাতীয় সংসদে প্রকাশিত ঋণখেলাপির তালিকায় ৫০ নম্বরে আছে তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নাম। তালিকায় আবুল কালাম হাবিবের এ প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ দেখানো হয়েছে ২১২ কোটি টাকা। ৭২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে তালিকার ২৭৭ নম্বরে রয়েছে তার ছেলের প্রতিষ্ঠান শাহেদ শিপ ব্রেকার্স। শাহেদ শিপ ব্রেকার্সের স্বত্বাধিকারীর নাম শাহেদ মিয়া।

পাওনাদার ব্যাংকের তথ্যমতে, সংসদে প্রকাশ করা তালিকায় আবুল কালাম হাবিব ও তার ছেলের মোট খেলাপি ঋণ দেখানো হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে পিতা-পুত্র মিলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি টাকার বেশি লোপাট করেছেন। ব্যাংক ঋণ ছাড়াও স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি থেকে ব্যবসার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আবুল কালাম হাবিব ও তার ছেলের কাছে আইএফআইসি ব্যাংক শেখ মুজিব রোড শাখার ১০৩ কোটি টাকা, এবি ব্যাংক পোর্ট কানেক্টিং রোড শাখার ১০০ কোটি, পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) খাতুনগঞ্জ শাখার ৪৬ কোটি, রূপালী ব্যাংক স্টেশন রোড শাখার ১৩ কোটি টাকা ছাড়াও প্রাইম ব্যাংক পাহাড়তলী শাখা ও ইউসিবিএল হাটহাজারী শাখার বড় অংকের পাওনা রয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই হারুন উর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, ১২টি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আসামি আবুল কালাম হাবিব ৩ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, হাটহাজারী, ঢাকার শ্যামপুর ও মতিঝিল থানায় ১২টি মামলা রয়েছে। রোববার বিশেষ এক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম হাবিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর