নীলাকাশ টুডেঃ কথার যাদুতে বশ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। মিথ্যা আশ্বাসে আস্থা রেখে, জীবনের শেষ সম্বলটুকু খুইয়ে এখন নিঃস্ব লাখ লাখ মানুষ। বলছি এমএলএম কম্পানি ডেসটিনি’র কথা। কার্যক্রম বন্ধের প্রায় ১০ বছর পর আবারও আলোচনায় এই প্রতিষ্ঠান। সমবায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে অনুমোদনও দিয়েছে সমবায় অধিদফতর। এমএলএম ব্যবসাও করতে চায় ডেসটিনি।

কিন্তু মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে যে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে, সম্পদ তার চেয়েও অনেক কম। নিরীক্ষায় প্রমাণ মেলায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তারা এখনও জেলে, আর টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বিনিয়োগকারী।

দীর্ঘদিন পর আবারও মাঠে নেমেছে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি। এরই মধ্যে ‘ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ পরিচালনায় কমিটির অনুমোদন দিয়েছে সমবায় অধিদফতর। নতুন কমিটি’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লে. জে. অব. এম হারুন অর রশিদ। শুধু সমবায় কার্যক্রমই নয়, এমএলএম ব্যবসাও চালু করতে চায় এই কমিটি।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লি. সহ-সভাপতি জাকির হোসেন কিসলু বলেন, আমরা মাত্র অনুমোদন পেয়েছি। এখন আমাদের সকল কমিটি বসবে, বিভিন্ন ইস্যু আলোচনা হবে। এছাড়াও আমাদের ব্যাংক হিসেবগুলো পুনরায় চালু করতে হবে, আদালতে আবেদন করতে হবে। সবশেষে আমরা আমাদের অবস্থান সরকারকে জানাবো। তখন যদি সরকার বলে শুরু করা যাবে এরপরই শুরু হবে।

অনুমোদন পাবার পর কাকরাইল মোড়ে আলী’স টাওয়ারের কয়েকটি ফ্লোরে শুরু হয়েছে কার্যক্রম। কিন্তু ব্যবসার ধরণ কী হবে, আবারও কি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত নেয়া হবে? মানুষ কি আবারও ফাঁদে পা দেবে- ঘুরপাক খাচ্ছে এমন হাজারো প্রশ্ন।

২০১২ সালে ডেসটিনি কো-অপারেটিভে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকার অনিয়ম খুঁজে পায় সমবায় অধিদফতরের নিরীক্ষা দল। তারপর দশ বছরেও আমানতকারীদের অর্থ বুঝিয়ে দেয়নি কেউ। এদিকে নতুন করে কমিটি অনুমোদনের খবর জানেন না সমবায় প্রতিমন্ত্রী।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, এ ধরনের কিছু আমার জানা নেই। সমবায় অধিদফতর দিতে পারে, তবে যে ধরনের অভিযোগ তাদের নামে আছে সে হিসেবে মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে এমন করার কথা না।

বিশ্লেষকদের পরামর্শ সংকটের এই সময়ে এমন ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

সূত্র যমুনা টেলিভিশনের ওয়েবসাইট

আরও পড়ুন

৭০ বছর পর বিশ্বাসের ফল পেলো ১১০ বছর বয়সী মা

নীলাকাশ টুডেঃ ‘কুদ্দুছ তুই একদিন ফিরে আসবি এটা আমি বিশ্বাস করতাম’ – এ কথা বলেই ৮০ বছর বয়সি ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন ১১০ বছর বয়সি মা। কান্নায় ভেঙে পড়েন।

১০ বছর বয়সে রাজশাহীর আত্রাই উপজেলায় হারিয়ে যান কুদ্দুছ মুন্সী। ৭০ বছর পর সেই কুদ্দুছ ফিরলেন নিজ মায়ের কাছে। অথচ একই উপজেলায় বড় হয়েছেন বিয়ে করেছেন কুদ্দুছ।

মূলত এক ফেসবুক পোস্টের কল্যাণে ৭০ বছর পর নিজের মা ও পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন কুদ্দুছ মুন্সী।

দিন দশেক আগে আইয়ূব আলী নামের পরিচিত একজনের ফেসবুক আইডিতে হারিয়ে যাওয়ার গল্প বলেন আব্দুল কুদ্দুছ।

সেখানে তিনি শুধু পিতা -মাতা ও নিজ গ্রাম বাড্ডার নাম বলতে পারেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ -বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাড্ডা গ্রামের বাসিন্দারা সাড়া দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুছকে খুঁজে পান তার পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাঞ্ছারামপুরের আশ্রাফবাদ গ্রামের বোন ঝড়না বেগমের বাড়িতে মা ছেলের দেখা হয়।

এ সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘কুদ্দুছ তুই এক দিন ফিরে আসবি এটা আমি বিশ্বাস করতাম, আল্লার কাছে এই দোয়াই করেছি। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন। ১০ বছরের কিশোর কুদ্দুছ মুন্সি এখন ৮০ বচর বয়সী প্রবীণ। তার তিন ছেলে ও ৫ মেয়ে রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামে। তবে গ্রামে কেউ বাস করেন না। মা মেয়ের সঙ্গে থাকেন।’

কুদ্দুছ মুন্সীরও দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এক দিন মায়ের দেখা পাবেন।

তিনি জানান, ‘হারিয়ে যাওয়ার পর রাজশাহী জেলার আত্রাই উপজেলার সিংশারা গ্রামের সাদিক মিয়ার বাড়িতে বড় হয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।

আপ্লুত কণ্ঠে কুদ্দুছ বলেন, আমার মা ও বোনদের খোঁজার অনেক চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস ছিল একদিন আমার মার সন্ধান আমি পাব। মায়ের বুকে ফিরতে পেরে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমার আমাকে মনে হচ্ছে। বাকি জীবনটা মার সঙ্গেই থাকব।

ভাইকে পেয়ে মায়ের মতোই খুশি কুদ্দুছের বোন ঝরনা বেগম। বলেন, আমার মা সবসময় বলতেন একদিন আমার ছেলে ফিরে আসবে। আল্লাহ আমার মায়ের প্রার্থনা কবুল করেছেন। আমরা আমার ভাইকে ফিরে পেয়েছি।

এদিকে দাদি, ফুফুদের পেয়ে খুশি কুদ্দুছ মুন্সীর ছেলে হাফেজ সোহেল। তিনি বলেন, ‘কোনোদিন ভাবিনি আমার দাদিকে দেখতে পাব। আমার বাবা তার মাকে ফিরে পাবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হয়েছে, আল্লার কাছে শুকরিয়া।