নীলাকাশ টুডেঃ নাটোরের গুরুদাসপুরে হালখাতার কার্ডে নামের আগে আলহাজ না লেখায় নারীসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দাদুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, দাদুয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সিট কাপরের দোকানে প্রতিবেশি আমিনুল হকের বকেয়া ছিলো। কয়েকমাস আগে সেই বকেয়ার হালখাতার কার্ডে নামের আগে আলহাজ্ব না লেখায় দোকানী আনোয়ার হোসেনের ওপর আমিনুল হকের স্বজনদের ক্ষোভ ছিলো। এ নিয়ে আমিনুল হকের স্বজনদের সাথে দোকানী আনোয়ার হোসেনের স্বজনদের কথাকাটাকাটিও হয়।

ওসি আরও জানান, ওই ঘটনার সুত্র ধরেই বুধবার সকালে আমিনুল হকের স্বজন জিয়ারুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, কামাল হোসেন, রঞ্জু ইসলাম, কিরন, স্বপন আলীসহ প্রায় ৩০ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আনোয়ার হোসেনের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করতে থাকে। এসময় বাধা দিতে গেলে আনোয়ার হোসেনসহ তার স্বজন সুফিয়া বেগম, রিক্তা খাতুন, সাহাবুল ইসলাম ও আবু জাফরকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

বর্তমানে আহত পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন আছেন। এঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

আমিনুল হকের স্বজন জিয়ারুল ইসলাম জানান, তারা কারও ওপর হামলা করেননি। আলহাজ না লেখার কারণ জানতে চাইলে আমিনুলের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে।

আরও পড়ুন

কেরোসিন ঢেলে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

 

নীলাকাশ টুডেঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শরীফ মাহমুদ ফারুকী নামের মজজিদের এক খতিবের বিরুদ্ধে। দগ্ধ স্ত্রী খুশি বেগম (২১) বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তিনি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার বদলাগাড়ী এলাকার হাসান শেখের দ্বিতীয় কন্যা। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় ভুক্তভোগীর বাবা হাসান শেখ একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের বিবরণ ও বাদী হাসান শেখের ভাষ্যমতে, দুই বছর আগে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার বল্লমঝাড় গ্রামের শরীফ মাহমুদ ফারুকীর সঙ্গে পারিবারিক ভাবে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ফারুকী যৌতুক দাবি করতেন। দাবি অনুযায়ী বিভিন্ন সময় নগদ দুই লাখ টাকা ও এক লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়। এক বছর আগে ফারুকী শ্রীপুর উপজেলার বহেরারচালা ইয়াকুব আলী জামে মসজিদে খতিবের দায়িত্ব নেন। সেই সুবাদে ছয় মাস আগে থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বহেরারচালা আনসার রোড এলাকার রেজাউল করিমের বাসায় ভাড়া ওঠেন। সম্প্রতি অভিযুক্ত শরীফ মাহমুদ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

হাসান শেখ জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত শরীফ মাহমুদ স্ত্রী খুশি বেগমের কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে মারধর করে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখে। পরে অভিযুক্ত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্স বাজানো শুরু করে। এ সময় স্ত্রী খুশি বেগমের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সে বাথরুমে গিয়ে দরজা আটকে দেয়। পরে দগ্ধ অবস্থায় খুশি বেগম ঘরের দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করে। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এসে তার গায়ের আগুন নেভায় ও স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। ঘটনার পর রংপুর থেকে শ্রীপুর এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করেন বাবা। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর (রোববার) অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে দগ্ধ খুশি বেগমকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে ফারুকী পালিয়ে যায়। পরে বুধবার শ্রীপুর থানায় সশরীরে উপস্থিত থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করেন বাবা।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. এম এ হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুশি বেগমের শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হতে সময় লাগবে।’

শ্রীপুর থানার ওসি ইমাম হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।