মোঃ নুরুজ্জামানঃ সাংবাদিক জাতির বিবেক। সেই বিবেক আজ অর্ধ পতন হচ্ছে, সাংবাদিকদের গ্রুপিংয়ের কারনে। একদল সাংবাদিক নির্যাতন হচ্ছে, সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উল্টো লিখেছেন আরেক দল সাংবাদিক! বাহ কি চমৎকার! সম্প্রতি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে সালেম নূর নামে এক সাংবাদিককে বেধড়ক মারপিট করেছেন কক্সবাজারের এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিক নির্যাতনের পর এই বিষয়ে সংবাদ প্রচার না করতে অপর সাংবাদিকদের সেই ইউএনও’র বাসভবনে ডেকে নিয়ে নগদ অর্থ দিয়েছেন।

এর পর উল্টো নির্যাতিত সাংবাদিক এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করতে চাপ সৃষ্টি করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইউএনও অফিস কক্ষেই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। মারধর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় সালেম নূরকে।

নির্যাতিত সাংবাদিক সালেম নূর কক্সবাজারে স্থানীয় দৈনিক আপন কণ্ঠ পত্রিকা ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম প্রহর পত্রিকার প্রতিনিধি। মারধরে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী সালেম নূর এর অভিযোগ, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে বুধবার বিকেলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। ওই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর সন্ধ্যার ৬টার দিকে ওই দেহরক্ষী ইউএনওর বরাত দিয়ে ফোন করে সালেম নূরকে এক ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও অফিসে যাওয়ার জন্য বলেন। ফোন পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে যান সালেম নূর।

ইউএনও অফিসে গেলেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তার ব্যক্তিগত, কর্মচারী, ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার তাকে রাবারের পাইপ দিয়ে পেটান। খবর পেয়ে সালেম নূরে স্ত্রী ও মা সেখানে যান। তাদের সামনেও সালেম নূরকে বেড়ধক পেটানো হয়। এ সময় তার মা ইউএনওর পায়ে ধরে ক্ষমা চান বলে দাবি করেন সালেম। তবু ছাড় দেওয়া হয়নি।

নির্যাতিত সাংবাদিক এর শরীরে আঘাত এর চিহ্ন
মারধর করে ‘ভবিষ্যতে ফেসবুকে এমন পোস্ট দেবেন না’ মর্মে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। স্বাক্ষর দিতে না চাওয়ায় ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন সালেম নূর।

মারধরের অভিযোগ বিষয় অস্বীকার করেন সেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইনের খবরে বলা হয়, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা জানা জানি হলে স্থানীয় কর্মরত অন্যান্য সাংবাদিকদের বাসভবনে ডেকে পাঠান অভিযুক্ত ইউএনও । বাসভবনে উপস্থিত সকলের হাতে একটি করে খাম দেন তার কর্মচারীরা। খামে করে অর্থ প্রদানের সত্যতা স্বীকার করেন কয়েকজন সাংবাদিক।

এর আগে বহু সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছে। খুনও হয়েছে সাগর রুনী সহ আরও অনেকেই। একটির বিচারও হয়েছে কিনা তেমন নজির নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যম বান্ধব সরকার। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন এটা সত্যি কথা, যদিও মফস্বলে যারা কাজ করে সেই সুযোগ সুবিধাগুলো দুই একজন সাংবাদিক পেলেও অধিকাংশ সাংবাদিকরা পায়না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানাচ্ছি সাংবাদিকদের নির্যাতনকারীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যদি কোন সাংবাদিক অপরাধ করেও তারও বিচার আমি চাই। তাই বলে কোন কর্মকর্তা সাংবাদিককে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে পারেন না৷ কক্সবাজারের সাংবাদিক নির্যাতনের উক্ত ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে নির্যাতনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। লেখক, সম্পাদক, নীলাকাশ টুডে