নীলাকাশ টুডেঃ করোনায় বিপর্যস্ত খুলনা। রোজ মৃত্যু ও শনাক্ত রোগীর নতুন রেকর্ড হচ্ছে এখানে। বুধবার খুলনা বিভাগে কোভিডে ৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যা এ যাবৎকালে এই বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে সোমবার সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছিল খুলনা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে।

করোনায় রেকর্ড সংক্রমণের পরদিনই মৃত্যুতে রেকর্ড হলো খুলনায়। মঙ্গলবার একদিনে সর্বোচ্চ ১৮৬৫ রোগী শনাক্ত হয় এই বিভাগে। আজ রেকর্ড মৃত্যুর খবর এল।

খুলনা জেলার চার হাসপাতালেই আজ ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে করোনা পজেটিভ ছিলেন ২১ জন এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ জন।

বুধবার সকালে খুলনার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মুখপাত্ররা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১০ জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৫ জন এবং শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ২জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগের অন্যান্য এলাকা হাসপাতালগুলোতে বাকি ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে গত ২৪ ঘণ্টায়।

গতকালই খুলনায় করোনায় মৃত্যু ১৩ শ’ ছাড়িয়ে গেছে।

খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ।

এদিকে বরিশাল বিভাগে প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা, ভাঙছে একের পর এক পেছনের রেকর্ড। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা এ যাবৎকালেরও সর্বোচ্চ। আর এই সময়ে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে নতুন করে ৬২২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর আগের দিন ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল জন। আর সর্বশেষ বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২০ হাজার ১৫৪ জনে।

এ ছাড়া একই সময়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনার আইসোলেশন ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গেল ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল জেলায় চার ও ঝালকঠিতে একজনসহ বিভাগে মোট পাঁচজন করোনা রোগীর মৃত্যু শনাক্ত হয়েছে, যা নিয়ে বরিশাল বিভাগে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, মোট আক্রান্ত ২০ হাজার ১৫৪ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজার ৪৭০ জন।

অপর দিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে তারা মারা যান। এর আগে গত ২৮ জুন সর্বোচ্চ ২৫ জন মারা যান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, নতুন করে মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে দুজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য ১৭ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। একজন করোনা নেগেটিভ হওয়ার পর মারা যান।

মৃত ২০ জনের মধ্যে রাজশাহীর সাতজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুজন, নাটোরের দুজন, নওগাঁর তিন, পাবনার চার, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের একজন করে রোগী ছিলেন।

হাসপাতালটিতে এ মাসের সাত দিনে ১২১ জনের মৃত্যু হলো। এর আগে জুন মাসে করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৩৫৪ জন।

হাসপাতালের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬ জন।

বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন ৪৭০ জন। হাসপাতালে মোট করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা এখন ৪৫৪টি।