নীলাকাশ টুডেঃ সমর্থকদের মধ্যে দিনভর ধাওয়া -পাল্টাধাওয়া ও ভোটদানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

রোববার রাতে ব্যালট কেটে বাক্সে ঢোকানোর অভিযোগে স্থগিত করা হয় কলারোয়ার কেড়াগাছি ইউনিয়নের কেড়াগাছি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ।

সোমবার সকালে কলারোয়ার ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ভোট কারচুপির অভিযোগে ওই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।

কেড়াগাছি ইউনিয়নের হঠাৎগঞ্জ ও পশ্চিম বোয়ালিয়া কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট দিতে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার সমর্থক ভোটাররা রামকৃষ্ণপুর, বেইলিসহ তিনটি কেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি।

অপরদিকে একই ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে সদস্য পদপ্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া -পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

রোববার রাতে এই ইউনিয়নে সংঘর্ষের জেরে আহত হওয়া মেম্বার পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্য দিকে কলারোয়ার কয়লা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিক মোল্লা ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন।

এদিকে তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের হাজরাপাড়া কেন্দ্র দখলের অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

একই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে ভোট গ্রহণকা লে কেন্দ্রের বাইরে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে বলে জানা গেলেও প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে।

সোমবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটারদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। চলতে থাকে ভোটগ্রহণ। কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

আরও পড়ুন

ভোটকেন্দ্রে গোলাগুলি, আ.লীগ নেতাসহ দুইজন নিহত

নীলাকাশ টুডেঃ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে ভোটকেন্দ্রে গোলাগুলিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

নিহতরা হলেন- নৌকার এজেন্ট আবদুল হালিম (৩৫) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আবুল কালাম (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আবদুল হালিম নিহত হন।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুতুবদিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

আবদুল হালিম বড়ঘোপ ইউনিয়নের গোলদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। নির্বাচনে তিনি ৫নং ওয়ার্ডের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট ছিলেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মাঝে আহত ১৮ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক মোঃ শরীফ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু লোক ভোটকেন্দ্রে উশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এটি ঠেকাতে জটলার ভেতর ঢুকে যান হালিম। ছিনতাই ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য গুলি চালালে গুলিতে আবদুল হালিম আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুতুবদিয়া থানার ওসি মোঃ ওমর হায়দার ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা নিয়ন্ত্রণের সময় আবদুল হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। তার লাশ কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে হালিম নিহত হয়েছেন।

ঊড়গুপ ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ওই কেন্দ্রে আপাতত ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোলাগুলির ঘটনা শুনেছি। তবে কাদের গুলিতে নিহত হয়েছে, তা সঠিকভাবে এখনও জানা যায়নি।

এদিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে নৌকার সমর্থকের গুলিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন।

নিহতের নাম আবুল কালাম। তিনি স্থানীয় পশ্চিমপাড়ার ছোট মিয়ার ছেলে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।

 

এ ঘটনায় আহত আরও গুলিবিদ্ধ ১০ জন মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

কুতুবজোম ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মাসুদ কুতবী জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নৌকা ও চশমার সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার জন্য ৪ ও ৫নং কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণও শুরু হয়েছে।

মহেশখালী থানার ওসি আবদুল হাই জানান, বর্তমানে কুতুবজোম ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভোটগ্রহণও চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে কঠোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।