মোঃ নুরুজ্জামানঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী রমজাননগর নুরনগর ইউনিয়নের কালিন্দী নদী পার হয়ে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য আসার খবর মাঝে মধ্যে সিমান্তে এলাকার মানুষের মাঝে গুঞ্জন থাকলেও নতুন করে আলোচনায় আসে মাদক ব্যবসায়ী কতৃক র‌্যাবের উপর হামলার ঘটনার পর থেকে।

সিমান্তে নিয়োজিত বিজিবি, থানা পুলিশ ও র‌্যাব বাহিনীর লোক জনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা রাতের আধারে প্রাইভেট কার যোগে মাদকদ্রব্য পাচার করে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

কে বা কারা মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত তা সাধারণ মানুষের বুঝতে বাকি নেই। তবে মাদক ব্যসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

 

মাঝে মধ্যে র‌্যাব ও পুলিশের হাতে দুই একজন চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও অধরা থেকে যায় রাঘববোয়ালরা। ক্ষমতাশীন দলের সাইনবোর্ড লাগিয়ে অনেকেই মাদক ব্যবসা করেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের হাত এতই শক্তিশালি যে তারা কারো পরোয়া করেন না। উদাহরণ স্বরুপ শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগরের শুক্রবার রাতে র‌্যাবের উপর হামলার ঘটনা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে র‌্যাবের উপর হামলার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ও রমজাননগর ইউনিয়নে মাদক চোরাকারবারিদের দুই দফা হামলায় তিন র‌্যাব সদস্য সহ আটজন আহত হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অস্ত্রও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে চোরাকারবারিরা।

এ সময় হামলাকারিরা র‍্যাব সদস্যদের ব্যবহৃত সাতটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে। আহতদের শ্যামনগর ও খুলনায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজন র‍্যাব সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার যোগে ঢাকাতে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম গুলো বলছে।

 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন র‌্যাব সদস্য বিশ্বজিৎ ও আসলাম এবং পাঁচজন সোর্স মো. আব্দুল্লাহ, রবিউল ইসলাম, আব্দুল হামিদ লাল্টু, মনির ও সাদেক হোসেন। র‌্যাব এ ঘটনায় রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন ও তার চাচাতো ভাই একই ইউনিয়নের মেম্বর জাহাঙ্গীর সহ কয়েকজনকে আটক করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র‌্যাবের একজন সোর্স ও স্থানীয়দের বরাদ দিয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জাগরণ ও দৈনিক যুগান্তর লিখেছে, গত শুক্রবার রাতে একটি প্রাইভেটকার ও ৫টি মোটর সাইকেলসহ র‌্যাব ও কয়েকজন সোর্স কৈখালি এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিল। মাদক কেনা বেচার ভান করে তা জব্দ করার সময় চোরাচালানিরা তাদের ওপর হামলা করে। তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে কৈখালির একটি ঘরে আটকে রাখে। এসময় তাদের কাছে থাকা একটি অস্ত্রও ছিনিয়ে নেয় চোরাকারবারিরা।

খবর পেয়ে নদীর অপর পাড়ে রমজাননগরে থাকা র‌্যাবের কয়েকজন সোর্স ও সদস্য কৈখালি থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। রমজাননগরে আসার পরপরই তাদের পথরোধ করে আবারও হামলা করে আরেকদল চোরাকারবারি। এ সময় তাদের মারধর করে দ্বিতীয় দফায় অন্য একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত কয়েক জন সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চোরাকারবারিরা তাদের ছেড়ে পালিয়ে যায়। র‌্যাব এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন ও তার ভাই একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর সহ ৫ জনকে আটক করেছে।

র‍্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর শরিফ উল্লেখিত সাংবাদিকদের বলেন, র‍্যাবের একটি টহল দল রাতে ওই এলাকায় অভিযানে গেলে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পরে অতিরিক্ত ফোর্স গিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে এনেছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনকে ক্যাম্পে আনা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেছেন, মাদক নির্মূল শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স থাকলেও মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কতিপয় অসাধু ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে উক্ত মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের মাঝে মধ্যে আটক করলেও আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারও মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠে মাদক ব্যবসায়ীরা। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরও সজাগ দৃষ্টি দেওয়ার আহবান করেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না নিলে ধংস হয়ে যাবে যুব সমাজ।