শিশুকে হত্যায় সৎ মায়ের স্বীকারোক্তি


MD Nuruzzaman প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২৪, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন /
শিশুকে হত্যায় সৎ মায়ের স্বীকারোক্তি

 নড়াইল প্রতিনিধি

 

নড়াইলের লোহাগড়ায় তিন বছরের কন্যাশিশু নুসরাত জাহান রোজার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সৎমা জোবায়দা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন।

নড়াইল জেলা আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক হেলাল উদ্দিনের কাছে জোবায়দা শিশু নুসরাতকে মুখ চেপে ধরে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী।

 

এর আগে মঙ্গলবার সকালে রোজার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত নুসরাত নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গিলাতলা গ্রামের সজীব কাজীর কন্যা।

আসামির স্বীকারোক্তি মোতাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, মঙ্গলবার সকালে নুসরাতকে তার বড় ভাই ইয়াসিন মারধর করলে সে কান্না করে। নুসরাতের কান্না থামাতে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। তবুও শিশুটি কান্না করতে থাকলে একপর্যায়ে তার সৎদমা জোবায়দা বেগম নুসরাতের মুখ চেপে ধরেন। এতে নুসরাত শ্বাসরোধে মারা যায়।

সৎমা জোবায়দা বেগম স্বীকারোক্তিতে আরও বলেন, নুসরাতের হত্যা কোনো পরিকল্পিত ছিল না। প্রচুর কান্না করছিল এ জন্য মুখ চেপে ধরে কান্না থামানোই ছিল তার মূল উদ্দেশ্যে। নুসরাতের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে সেটি বুঝতে পেরে জোবায়দা তাকে কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে তার শ্বশুর মো. খায়ের কাজীর বসতঘরের বারান্দার খাটে শুইয়ে রাখে।

পরে দাদা মো. খায়ের কাজী বাইরে থেকে বাড়িতে এসে নুসরাতকে গোসল করানোর জন্য ডাকাডাকি করে। দাদি পান্না বেগম নুসরাতকে না পেয়ে সৎমা জোবায়দা বেগমকে জিজ্ঞাসা করে নুসরাত কোথায়, তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। তখন জোবায়দা বেগম শাশুড়িকে বলেন, নুসরাত তার দাদার বারান্দায় ঘুমাচ্ছে। তখন দাদি পান্না বেগম বারান্দায় গিয়ে নুসরাতকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এ সময় পরিবারের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। প্রথমে লোহাগড়া থানায় নিয়ে পরবর্তীতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুসরাতের বাবা সজীব কাজী ও সৎমা জোবায়দা বেগমকে আটক করে লোহাগড়া থানা পুলিশ। তবে নুসরাতের বাবা সজীব কাজীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত রোজার দাদা মো. খায়ের কাজী সৎমা জোবায়দা বেগমকে একমাত্র আসামি করে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

লোহাগড়া থানার ওসি কাঞ্চন কুমার রায় বলেন, আদালতে স্বীকারোক্তির পর দোষী জোবায়দা বেগমকে কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।