নীলাকাশ টুডেঃ লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে স্কুলে যাওয়ার পথে দুই শিশুসহ এক মা নিখোঁজ হয়েছেন। এই ঘটনায় শিশুদের বাবা মোঃ হেলাল বৃহস্পতিবার রাতে রামগতি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

একই দিন সকালে উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের চর নেয়ামত গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রামদয়াল বাজার আইডিয়াল প্রিক্যাডেট একাডেমির উদ্দেশ্য যাওয়ার পথে তারা নিখোঁজ হন।

নিখোঁজরা হচ্ছে মা মারজাহান (২৭), বড় মেয়ে সুরাইয়া জাহান সামিয়া (৮) ছোট মেয়ে বিবি ফাতেমা (৪)।

মো. হেলাল জানান, বড় মেয়ে সুরাইয়া জাহান সামিয়ার দ্বিতীয় শ্রেণির পরীক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সামিয়াকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তার মা মারজাহান বাড়ি থেকে বের হয় ওই সময় ছোট মেয়ে বিবি ফাতেমাকেও তার সঙ্গে নেন। সকাল ১০টায় স্কুল থেকে শিক্ষিকা শিলা আক্তার মোবাইল ফোনে সামিয়া পরীক্ষা কেন্দ্রে না পৌঁছার কথা জানালে তিনি তাদের খুঁজতে বের হয়। তাদেরকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

রামগতি থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, দুই মেয়েসহ মা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ মারজাহানের স্বামী মো. হেলাল রামগতি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং নিখোঁজের খবরটি সব জায়গায় দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

নীলাকাশ টুডেঃ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ খেলায় ১৬২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে বাংলাদেশ। ৮.৫ ওভারে ৪৬ রানে স্বাগতিকরা হারায় লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ নাঈম ও মুশফিকুর রহিমের উইকেট।

মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে মাত্র ২৬ রানের ‍জুটি গড়ে ফেরেন লিটন দাস। আগের দুই ম্যাচে ৬ ও ১৫ রানে আউট হওয়া এ ওপেনার এদিন ফেরেন ১২ বলে ১০ রান করে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে (১,৩৩,১৫,৬ ও ১০) ১৩ গড়ে মাত্র ৬৫ রান করেন লিটন। শুক্রবার শেষ ম্যাচে লিটনের বিদায়ে ২৬ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।

তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেননি এ তারকা ব্যাটসম্যান। চার ম্যাচ পর দলে ফিরে ৯ বলে মাত্র ৪ রানেই আউট হন।

শুরু থেকে ভালোই খেলছিলেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। ২১ বলে ২৩ রান করে ফেরেন এ ওপেনার। নাঈম আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মুশফিকুর রহিমও। ৮ বলে ৩ রান করে ক্যাচ তুলে দেন সাবেক এ অধিনায়ক। তার বিদায়ে ৮.৫ ওভারে ৪৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এর আগে ফিন অ্যালান ও টম ল্যাথামের ঝড়ো ইনিংসে শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০* রান করেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। এছাড়া ৪১ রান করেন ওপেনার ফিন অ্যালান।

শেষ ম্যাচে জয় পেতে হলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলকে ১৬২ রান করতে হবে। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ আগেই ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সুচনা করে নিউজিল্যান্ড। উদ্বোধনীতে ৫.৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে ৫৮ রান তুলেন দুই ওপেনার ফিন অ্যালান ও রাচিন রবীন্দ্র। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় সফরকারীরা।

প্রথম ৯ বলে ৩০ রান দিয়ে উইকেটের দেখা পাননি শরিফুল ইসলাম। এরপর কিউই শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন এ তরুণ পেসার। তার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালান ও রাচিন রবীন্দ্র।

১২ বলে ১৭ রান করে শরিফুলের বলে ক্যাচ তুলে দেন রবীন্দ্র। আর ২৪ বলে ৪টি চার ও তিন ছক্কায় ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বোল্ড হন ফিন অ্যালন।

এরপর আফিফ হোসেনের বলে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন উইলি ইয়াং। আগের ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করা এ তারকা ব্যাটসম্যানকে এদিন মাত্র ৬ রানে ফেরান আফিফ।

দলীয় ৮৩ রানে নাসুম আহমেদের স্পিনে বিভ্রান্ত হন কলিন ডি গ্রান্ডহোম। আগের চার ম্যাচে ৯ রান করা গ্র্যান্ডহোম এদিন ফেরেন ৯ রানে।

পঞ্চম উইকেটে হ্যানরি নিকোলসকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ২১ বলে দুই বাউন্ডারিতে ২১ রান করে নুরুল হাসান সোহানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন নিকোলস।

এরপর কোল ম্যাককলিনকে সঙ্গে নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালান টম ল্যাথাম। শেষ দিকে মাত্র ২১ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন তারা। তাদের এই জুটিতেই ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে নিউজিল্যান্ড। ৩৭ বলে দুটি চার ও সমান ছক্কায় ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন ল্যাথাম। ১০ বলে তিন চারে ১৭ রান করেন ম্যাককলিন।