নীলাকাশ টুডেঃ রাজধানী ঢাকার কদমতলীর একটি বাসা থেকে একই পরিবারের তিন জনের হাত- পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে আরও দুজনকে। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা- বাবা ও বোনকে হত্যার পর স্বামী ও কন্যাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মেহজাবিন ইসলাম মুন। তিন জনকে হত্যার পর মুন জাতীয় জরুরি সেবা ট্রিপল নাইনে (৯৯৯) কল করেন। অন্যথায় স্বামী ও কন্যাকেও হত্যার হুমকি দেন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। আর স্বজনদের একটি অংশের অভিযোগ, মুনের বোনের সঙ্গে স্বামীর অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে ঘিরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

শনিবার সকালে কদমতলীর মুরাদপুর এলাকার লালমিয়া সরকার রোডের ২৮ নম্বর ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মেহজাবিনের মা মৌসুমী ইসলাম (৪০), বাবা মাসুদ রানা (৫০) ও বোন জান্নাতুলের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান স্বামী শফিকুল ইসলাম ও মেয়ে মারজান তাবাসসুম তৃপ্তিয়া (৬)। আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে। ওয়ারী জোনের ডিসি ইফতেখারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি, মেহজাবিন হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে ফোন দেন। পুলিশ দ্রুত না গেলে তার স্বামী ও সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি।

পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে। আটক মেহজাবিন ইসলামের খালা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাগ্নি মেহজাবীনের স্বামী শফিক একজন খুনি ও একাধিক মামলার আসামি। ৫ বছর আগে কেরানীগঞ্জে একজনকে হত্যা করেন। সে মামলা থেকে রেহাই পেতে টাকার জন্য ভাগ্নি মেহজাবিনের সঙ্গে তার স্বামী শফিকুল ইসলামের প্রায় ঝগড়া হতো। তাছাড়া শফিক তার শালি আমার আরেক ভাগ্নি জান্নাতুল ইসলামের সঙ্গে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করত। এ ঘটনা আমার নিহত বোন মৌসুমী জানতে পেরে জামাতা শফিককে বাধা দিতেন।

এ নিয়ে আমার বোনের সঙ্গে শফিকের প্রায় ঝগড়া হতো। শফিকের সঙ্গে আমার বোন পেরে উঠতে না পেরে তার ছোট মেয়ে জান্নাতুল ইসলামকে (শফিকের শালিকে) কারাগারে দিয়ে দেন। শফিক তদবির করে ৫ মাস পর তাকে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে এসে আবার তার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেন। এ নিয়ে আমার ভাগ্নি ও বোনের সঙ্গে শফিকের কলহ লেগেই থাকত। ৪ বছর আগে সফিক আমার বোনকে (তার শাশুড়ি) হত্যার উদ্দেশ্যে গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। চিকিৎসা করতেও বাধা দেয়। দরজা-জানালা বন্ধ করে আমার বোন ও ভাগ্নিকে প্রায়ই মারধর করত। এ বিষয়ে কদমতলী থানায় অভিযোগ জানিয়ে কোনো ফল না পেয়ে কোর্টে মামলাও করা হয়েছে। ঘাতকের চাচাতো বোন পরিচয় দেওয়া শিলা গণমাধ্যমকে বলেন, গত দুদিন আগে স্বামী -সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে মেহজাবিন। এসেই তার ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর পরকীয়া রয়েছে বলে বাবা- মাকে অভিযোগ করে। এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয়। তার জেরেই হয়তো এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মেহজাবিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আরও পড়ুন

 

নীলাকাশ টুডেঃ রাত দুপুরে যে বন্ধুর সঙ্গে বোট ক্লাবে যান আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি, সেই তুহিন সিদ্দিকী অমি তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টায় সহযোগিতা করেন। ঘটনার পর থেকেই তাকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

পরীমনির করা মামলায় দুই নম্বর আসামি অমিই নায়িকাকে ফাঁদে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্লাবপাড়ায় অমিও একজন পরিচিত মুখ। তার বাবা তোফাজ্জল হোসেন এক সময় বিদেশে ছোটখাটো চাকরি করতেন। এরপর দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন।

তবে সংসারে ভাগ্য ফিরে যখন ছেলে অমি আশকোনায় তাদের সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন। এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নারী পাচার করেই প্রচুর অর্থ কামান তারা। বিত্তশালী ও তাদের বখে যাওয়া সন্তানদের বিপথে নিতে অমির জুড়ি নেই। ঢাকার উত্তরা ও আশকোনায় তাদের একাধিক বাড়ি ও প্লট রয়েছে। ওই এলাকায় এক নামে তাকে সবাই চেনেন।

শত শত কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে ও প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন অমি। বিদেশে কর্মী পাঠানোর সূত্র ধরে সাবেক এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে অমির পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। অমিদের একাধিক আলিশান বাড়িতে রয়েছে সুইমিংপুলও। তাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। সেখানে অনেক সম্পদ গড়েছেন। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমও গড়েছেন অমি। দক্ষিণখানে একটি রিসোর্টের আড়ালে প্রায় প্রতিদিন মদ-জুয়ার আসর বসাতেন তিনি। ওই রিসোর্ট তার ‘রঙশালা’ নামে পরিচিত।

সূত্রে আরও জানা গেছে, নাসির ও অমির সিন্ডিকেট আগেও অনেক নারীর ওপর একই ধরনের নিপীড়ন চালিয়েছে। তবে নানা ভয়-ভীতি ও প্রলোভন দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখা হয়। এবারও তাদের বিশ্বাস ছিল, পরীমনির ঘটনা তারা ধামাচাপা দিতে পারবেন।অবশেষে পরীমনিকাণ্ডে তাদের দীর্ঘদিনের কুকর্ম সামনে এলো।

সোমবার পরীমনির সাভার থানায় করা মামলায় নাসির উদ্দিন ও অমিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ছাড়া উত্তরার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেফতারের সময় মাদক উদ্ধার করা হয়। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অমি ও নাসিরকে মঙ্গলবার ৭ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা তিন নারীকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আরও পড়ুন

ইসলামী বক্তা নিখোঁজ, পাঁচদিন পরও সন্ধান মেলেনি

নীলাকাশ টুডেঃ সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত একজন ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পরও পুলিশ তার কোন হদিস করতে পারেনি।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধানদের বরাবরে চিঠি দিয়ে আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়েছে।

আদনানের স্ত্রী বলেছেন, পুলিশ এবং র‍্যাবের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করার পরও তারা কিছু জানতে পারছেন না।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে আদনান তার দু’জন সহকর্মী, গাড়ি চালক সহ চারজন নিখোঁজ হন। তাদের বহনকারী গাড়িটিরও কোন খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার মঙ্গলবার ঢাকায় পুলিশ এবং র‍্যাব সদর দপ্তরে গিয়ে বাহিনী দু’টির প্রধানদের বরাবরে চিঠি জমা দিয়েছেন।

এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবরেও চিঠি লিখেছেন।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে তিনি সেই চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সাবেকুন নাহার বলেছেন, তিনি তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে কিছুই জানতে পারছেন না। সেজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়ে চিঠিগুলো লিখেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

“চিঠিতে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। যদি আমার স্বামী কোন ভুল করে থাকে বা তার যদি কোন অন্যায় থাকে, তারপরওতো আমাকে তথ্য জানাতে হবে যে সে কোথায় আছে। আমার তো এতটুকু জানার অধিকার আছে। কিন্তু আমি কোন কিছু জানতে পারছি না।

তিনি অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা করার জন্যও তাকে থানায় থানায় ঘুরতে হয়েছে। আদনান রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হন। কিন্তু ঠিক কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন – এই প্রশ্ন তুলে ঢাকার মিরপুর এলাকার দু’টি থানায় প্রথমে তাদের জিডিও নেয়া হয়নি।

শেষপর্যন্ত ঘটনার পরদিন শুক্রবার নিখোঁজ ঐ ব্যক্তির মা এবং স্ত্রী রংপুরে থানায় গিয়ে দু’টি জিডি করেছিলেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেছেন, ঢাকার কাছাকাছি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে এখনও ঘটনার কোন সূত্র পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা হোসেন আরও বলেছেন, “সর্বশেষ যোগাযোগ অনুযায়ী তারা ঢাকার গাবতলী পার হয়ে মিরপুর ১১ নম্বরের কাছাকাছি ছিল। সেখান থেকে তার পরিবারের সাথেও কথা হয়েছে। সে বলেছে তারা আর ১০ বা ১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এরপর থেকেই তারা ডিসকানেক্টেড হয়ে যায়। তাদের আর ট্রেস পাওয়া যায়নি।