নীলাকাশ টুডেঃ মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করা সেই পুলিশ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বাদ আছর চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে তার নামাজে জানাজা শেষে কবুরাট পারিবারিক গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে বুধবার ভোররাতে মেহেরপুরের মুজিবনগরে রতনপুর পুলিশ ক্যাম্পে ডিউটিরত অবস্থায় নিজের রাইফেল দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম। তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। তার স্ত্রীও পুলিশ সদস্য।

নিহতের চাচা লিটন হোসেন জানান, চলতি বছরের প্রথমদিকে সাইফুল নারী পুলিশ সদস্য ফরিদা খাতুনকে বিয়ে করে। বিয়ে করার সময় বেশ টাকা খরচ হয়। এর মাঝে তিনি জমিও ক্রয় করেন। সঞ্চিত সব টাকা খরচের পর থেকে সাইফুল মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। সম্প্রতি তিনি সবসময় উদভ্রান্তের মতো চলাফেরা ও কথাবার্তা বলতেন। এই কারণে তাকে ডাক্তারও দেখানো হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা খাতুন জানান, তিনি পুলিশ সদস্য হিসেবে মুজিবনগর থানায় কর্মরত আছেন। তার স্বামী সাইফুল মঙ্গলবার রাতে ফোন দিয়ে আর্থিক সংকট নিয়ে হতাশাপূর্ণ কথাবার্তা বললে তিনি শান্ত্বনা দেন এবং দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেন।

পরে বুধবার ভোরে রতনপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তাকে ফোন দিয়ে দ্রুত যেতে বললে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামী সাইফুলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ঈদের পর তাদের একই জায়গায় পোস্টিং হবার কথা ছিল বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মুজিবনগরের রতনপুর পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ সদস্য নিজ অস্ত্র দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করে। আছরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ঈদের নামাজে অংশ নেয়ায় ৪৮ বাংলাদেশি গ্রেফতার

নীলাকাশ টুডেঃ মালয়েশিয়ায় আইন ভঙ্গ করে ঈদের নামাজে অংশ নেয়ায় ৪৮ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। আটক করেছে সে দেশের স্থানীয় একজন নাগরিককেও।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় পেনাং রাজ্যের জুরু তামান পেলাংগি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলে কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে একশ মানুষকে নামাজ আদায়ের জন্য প্রবেশের অনুমতি দেয়।

এসময় মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি এমন দুই শতাধিক মানুষ মসজিদের বাইরে ঈদের নামাজ আদায় করে, যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঈদের নামাজ আদায়ের এ ঘটনায় সমালোচনায় পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

মালেশিয়া সরকারের বেঁধে দেয়া আইন অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নামাজ আদায়ের এ দৃশ্যের ভিডিও স্থানীয় একজন নাগরিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় আলোচনা- সমালোচনা।

এর পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, কাজের স্থানে না থেকে ওই এলাকার ২৩টি ব্লকে ৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসী অবস্থান করছে।

দুই শতাধিক মানুষের নামাজ আদায়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন। সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনায় স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ প্রধান ক্ষমা চান। এর পরেই আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় আইন লঙ্ঘনকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে প্রয়োজনে এসব অভিবাসীদের দেশে পাঠানো হবে বলেও কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জয়নুদ্দিন।

এদিকে করোনা ঠেকাতে দেশজুড়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। করা হচ্ছে আইন অমান্যকারীদের জেল-জরিমানা।

আরও পড়ুন

যে কারণে ঈদ গায়ে ১৪৪ ধারা জারি করলো প্রশাসন

নীলাকাশ টুডেঃ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার ভোজদত্ত ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আযহার দিন ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন এ আদেশ জারি করেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ঘাটাইল উপজেলা ভোজদত্ত গ্রাম ও কালিহাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী বীরবাসিন্দা গ্রামের অবস্থান। এই দুই গ্রামের সীমানা সংলগ্ন ভোজদত্ত ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় নিয়ে উভয় গ্রামের লোকজনের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

দুই গ্রামের বিরোধের কারণে ২১ জুলাই ঈদুল আজহার দিন ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ঈদগাহ মাঠের ৪০০ গজের মধ্যে সব প্রকার সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা, স্লোগান, লাঠিসোটা বহন, মাইক্রোফোন ব্যবহার, পিকেটিং, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা ইয়াসমিন ও কালিহাতী থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।