নীলাকাশ টুডেঃ যথাযথ নিয়মকানুন অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনা না করায় ১০টি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করেছে বিকাশ।

শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিকাশ কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে এসব কোম্পানির সঙ্গে সেবা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন এই ১০ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটাসংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করে ব্র্যাক ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ধামাকা শপিং, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, নিডস, কিউকুম, আলাদিনের প্রদীপ, আদিয়ান মার্ট ও বুম বুম।

জানা গেছে, ১০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই বিকাশের চুক্তি ছিল। কিন্তু ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ নিয়মকানুন অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছিল না বলে বিকাশের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

২৩ জুন ব্যাংক এশিয়া ও ঢাকা ব্যাংক এবং ২৪ জুন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকও গ্রাহকের স্বার্থের কথা বলে একইভাবে ওই সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কার্ড ব্যবহার স্থগিত করে।

আরও পড়ুন

সেই বৃদ্ধ বললেন,

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার (১৬ জুলাই) সকালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণের সময় নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এক বৃদ্ধকে ‘ঘুষি’ মারার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই কাদের মির্জা।

তবে এ বিষয়ে খুলেছেন এনামুল হক কালু নামের সেই বৃদ্ধ। শনিবার (১৭ জুলাই) তিনি বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয়ে এসেছেন চাল নিতে। পৌরসভা এলাকার এ বাসিন্দা বলেন, ‘কাপড় দেওয়ার সময় আমাদের ঝামেলা দেখে, মেয়র সাহেব (আবদুল কাদের মির্জা) হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেন। আমারে কোনও মারে নাই, কিচ্ছু করে নাই। তিনি (কাদের মির্জা) খুব ভালো মানুষ। গরিব মানুষকে তিনি সাহায্য করেন।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি আজকে আবার এসেছি, মেয়র সাহেবের কাছ থেকে চাল নেওয়ার জন্য। আমি নিজ থেকে এসেছি। ওনার বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নাই। উনি সবসময় আমাদের সাহায্য করেন।’

২০ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ফেসবুক লাইভ ভিডিওর মধ্যে ১৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে দেখা যায়, মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এক বৃদ্ধকে একটি শাড়ি দিয়েছেন। বৃদ্ধ শাড়িটি পরিবর্তন করতে চাইলে কাদের মির্জা তার বুকে ‘ঘুষি’ মেরে সরিয়ে দেন।

আজও পৌরসভা কার্যালয়ে আসেন সেই বৃদ্ধ
বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দেওয়া লকডাউনে জনজীবন অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমি আমার পৌরসভার নিম্ন আয়ের মানুষদের সহযোগিতা করে আসছি। এর আগেও আমি সর্বদা চেষ্টা করতাম, অসহায় গরিব- দুঃখী মানুষের পাশে থাকতে। পৌরসভা ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আমি শুধু কোম্পানীগঞ্জ নয়, কবিরহাট, দাগনভূঞা, সোনাগাজী, সেনবাগসহ বিভিন্ন উপজেলার অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করে আসছি। কখনও কোনও মানুষ সাহায্য প্রত্যাশা করে আমার কাছ থেকে খালি হাতে ফিরে যায়নি।

আজও (শুক্রবার) আমার পৌরসভাতে অসহায় মানুষদের এক হাজারের বেশি শাড়ি-লুঙ্গি, ৫০০ জনকে নগদ অর্থ ও প্রায় দুই হাজার জনের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। পৌরসভার ছোট্ট আঙিনায় সহস্রাধিক মানুষ একত্রিত হয়ে যাওয়ায় দ্রুততার সঙ্গে কাপড় বিতরণ করতে হয়েছিলো।

যাদের দেওয়া হয়েছে, তাদের দ্রুত চলে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছিলো। তখন একজন মানুষ কাপড় পাওয়ার পরও দাঁড়িয়ে থাকায় এবং একাধিকবার বলার পরও সে মাস্ক না লাগানোর কারণে তাকে দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য হাত দিয়ে সরানো হচ্ছিলো। এখানে তাকে আঘাত করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি কোনও আক্ষেপও করেননি।

সহস্রাধিক মানুষের মাঝে এতগুলো ত্রাণ বিতরণ করার সময় অজান্তে কিছু অসাবধানতা হতে পারে, এক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত কোনো কিছু করা হয়নি। আমি সবসময় অসহায় গরিব মানুষের পাশে আছি। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, অসহায় গরিব মানুষের সেবা করে যাবো।

সবার কাছে প্রত্যাশা রাখব, অন্যের সমালোচনা না করে, যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় গরিব মানুষের দিকে সহযোগিতায় হাত বাড়ান। একজনের সমালোচনা না করে মানুষকে সহযোগিতা করুন।

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদে বিত্তশালীদের আত্মীয় কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপহার না দিয়ে অসহায় গরিবদের দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের এমপির সহযোগিতায় প্রায় চার হাজার অসহায় গরিবের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি, খাদ্য এবং নগদ অর্থ উপহার দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহস্রাধিক মানুষের মাঝে এক সঙ্গে এত ত্রাণ বিতরণ করার সময় অজান্তে কিছু অসাবধানতা হতে পারে। এক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনও কিছু করা হয়নি। একটি মানুষ কাপড় পাওয়ার পরও দাঁড়িয়ে থাকায় এবং একাধিকবার বলার পরও সে মাস্ক না লাগানোর কারণে তাকে দ্রুত সরে যেতে হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলাম। তাকে কোনও আঘাত করা হয়নি।

সূত্র বাংলা ট্রিবিউন