নীলাকাশ টুডেঃ বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আব্দুল্যাহ আল মামুনের একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরছে। ওই পোস্টে তার লেখাটি নীলাকাশ টুডে এর পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে পশ্চাৎপদ চিন্তার সূতিকাগার বলা হলে-ও সাধারণ মানুষের জীবনে এই শিক্ষার ফসল সত্যিই প্রায়োগিক।
সাধারণ স্কুল /কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সামাজিক দৃষ্টিতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত মানুষের আসন দখল করলেও তারা গণমানুষের খুব একটা কাজে আসেনা।
আপনার এলাকার কেউ বিসিএস ক্যাডার,সরকারি চাকুরে কিংবা প্রতিষ্ঠিত কোনো বেসরকারি বা কর্পোরেট কোম্পানিতে খুব ভাল পদে অধিষ্ঠিত আছে এটা শুনতে ভালো লাগলেও প্রকৃতপক্ষে সে আপনার কি কাজে আসে? একেবারে নিতান্তই কম।
এই শ্রেণির মানুষ বরং আপনাকে নিতান্ত সাধারণ এবং নিজের চেয়ে অধমই মনে করে। আপনি বিভিন্ন মহলে ঐ প্রতিষ্ঠিত মানুষটার গল্প বললেও বাস্তবে সে আপনার কতটুকু কাজে আসে একবার ভেবেছেন?
কেউ জন্ম নিলে আযান দেওয়া, মৃত ব্যক্তির জানাজায় অংশগ্রহণ, অসুস্থ ব্যাক্তির জন্য দোয়া কামনা,জানাজার নামাজ পড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মানুষের খেদমত করা,প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপর্যয়ে সম্মিলিত প্রার্থনা ইত্যাদি মানব জীবনের বহু আনন্দঘন কিংবা দুঃসময়ে এতিমখানা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মানুষের পাশে থাকে।
নিঃস্ব, দুস্থ এবং এতিমদের আশ্রয় হয় এই মাদ্রাসাগুলোতে। আজ পর্যন্ত কথিত মানবতাবাদী, প্রগতিশীল এবং উচ্চ শিক্ষিত হয়ে সমাজে বিত্তবান হওয়া কেউ কি এতিমদের জন্য ভেবেছেন? বহু কথিত প্রগতিশীল’রা এই মাদ্রাসা ও এতিমখানা গুলোর বিলুপ্তি কামনা করেন এই বলে যে,এখানে ধর্মের নামে শিশুদের মগজধোলাই করা হয় কিন্তু ঐসব কথিত প্রগতিশীল মানবতাবাদীরা কখনও অসহায় ঐ বাচ্চাদেরকে একবেলা খেতে দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেননা।

মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া কেউ সমাজের উঁচু জায়গায় হয়তো পৌঁছাতে পারেননা আর তাই তাদের দ্বারা কেউ প্রতারিত কিংবা নিপীড়িতও হননা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করা ছাত্রটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে প্রায়শই দুর্নীতিবাজ, লুম্পেন,লুটেরা,ক্ষমতার অপব্যবহারকারী হয় অথচ পশ্চাৎপদ মাদ্রাসা ছাত্রটি গণমানুষের ভরসার কেন্দ্র হয়ে উঠে।