নীলাকাশ টুডেঃ হতদরিদ্র বৃদ্ধকে ঘুষি মেরে আবার আলোচনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। আজ শুক্রবার সকালে পৌরসভা ভবনের সামনে দরিদ্রদের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ কালে এ ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

কাদের মির্জার শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণের অনুষ্ঠানটি সরাসরি তাঁর ফেসবুকে লাইভ করা হয়। তাতে দেখা যায়, সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ানো নারী- পুরুষের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি এবং নগদ টাকা বিতরণ করছেন কাদের মির্জা। ২০ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড ওই লাইভটি প্রচার করা হয়। ওই অনুষ্ঠান লাইভের ১৭ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের সময় ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ কাদের মির্জার সামনে এলে তাঁকে একটি শাড়ি দেওয়া হয়। ওই বৃদ্ধ হাতে নেওয়ার পর পাঁচ- ছয় সেকেন্ডের মাথায় সেটির পরিবর্তে আরেকটি শাড়ি নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কাদের মির্জা বৃদ্ধের বুকে ঘুষি দিয়ে তাঁকে সরিয়ে দেন।

এ ঘটনার প্রায় ৩৫ সেকেন্ডের পর পাশের কেউ একজন এ বিষয়ে কাদের মির্জাকে কিছু বলেন। এ সময় একটি শাড়ি হাতে নিয়ে ওই ব্যক্তির দিকে ছুড়ে মারেন কাদের মির্জা। লাইভ থেকে কেটে নেওয়া ৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একজন বৃদ্ধকে এভাবে প্রকাশ্যে অপদস্থ করার ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জসহ গোটা নোয়াখালীর মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে নানা সমালোচনা মূলক মন্তব্য দেখা যায়।

কাদের মির্জার ফেসবুকের ওই লাইভে শুক্রবার রাত আটটা পর্যন্ত ২০৪ জন নানা মন্তব্য করেছেন। এমডি রুবেল হাজারী নামের একজন লেখেন ‘একটা অসহায় লোকের বুকে আঘাত করা ঠিক হয়নি।’ আলাউদ্দিন মোল্লা নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বিতরণ করেন ভালো কথা, কিন্তু গরিবের গায়ে হাত দেন কেন?’

ওই বৃদ্ধের বুকে ঘুষি মারার ঘটনার বিষয়ে জানতে শুক্রবার রাত সোয়া আটটায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তা ব্যস্ত পাওয়া যায়। এরপর পৌরসভার ল্যান্ডফোনে কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

এই বিষয়ে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ ও ভাগনে উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষকে অপমান করা, বেইজ্জতি করা এটা কাদের মির্জার কাছে নতুন কিছু না। তিনি ত্রাণ দেওয়ার নামে চাঁদাবাজি করছেন। আবার ত্রাণ বিতরণের নামে মানুষকে অপমান অপদস্থ করছেন।

আরও পড়ুন

আবার লকডাউন দিলে দুই কোটি পরিবারকে যা দিতে বললেন

 

নীলাকাশ টুডেঃ আবার লকডাউন দিলে ২ কোটি পরিবারকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে দিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, করোনাকালে দেশের মানুষ কষ্টে আছে, তাদের বাঁচাতে হবে। তাই অন্তত ২ কোটি পরিবারকে মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি। রাজনৈতিক বিবেচনা না করে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ সহায়তা দিতে হবে।

শুক্রবার জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইল মিলনায়তনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত স্মরণসভা ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কারো ঘরে খাবার না থাকলে সে কখনোই লকডাউন মানবে না। যার ঘরে ক্ষুধার জ্বালায় শিশু কাঁদবে সে বাইরে বের হবেই। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় দেশের বাজেট তৈরি হয়। ওই টাকার মালিক দেশের সাধারণ মানুষ।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা কোনো ছোট বিষয় নয়, সারা পৃথিবী ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা মোকাবেলা করছে। বাংলাদেশেও সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবেলা করতে হবে। তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, সব রাজনৈতিক দল, সব এনজিও এবং পেশাজীবিদের নিয়ে করোনা মোকাবেলা করুন।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সরকারকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, করোনা মোকাবেলায় আমরা সরকারের যে কোনো কর্মকাণ্ড সফল করতে আগ্রহী।

জি এম কাদের আরও বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব রাষ্ট্র দেশের মানুষকে টিকা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। কিন্তু আমাদের দেশের টিকা নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। যেখানে ২৭ থেকে ২৮ কোটি ডোজ টিকা দরকার, সেখানে রেডিও টিভিতে সরকার ঘোষণা করছে ৫ লাখ ডোজ, ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। বাকি টিকা কখন, কোথা থেকে আসবে তা কেউ জানে না। এটা অত্যান্ত হতাশাজনক।

জিএম কাদের বলেন, ভ্যাকসিন হচ্ছে করোনা মোকাবেলার প্রধান অস্ত্র। সবাইকে যত দিন টিকা দেওয়া না যাবে, ততদিন সরকারিভাবে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আবার লকডাউন দিলে কর্মহীন মানুষের পরিবারকে প্রতি মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা দিতে হবে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল তৈরি করেছেন। আমরা এক বছরের বেশি আগেই বলেছি, প্রতিটি হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ডাক্তার, নার্স এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে, দেওয়া হয়নি। প্রতিটি হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে বলেছি, কিন্তু সকল হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এর ব্যবস্থা করা হয়নি। অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগী মারা যাচ্ছে। যাদের টাকা আছে তারা রাজধানীতে এসে বেসরকারি হাসপাতালে চিৎিসা নিচ্ছে। আর যাদের টাকা নেই, তারা বিনা চিকিৎসায় গ্রামে-গঞ্জে মারা যাচ্ছে। দরিদ্র মানুষেরা করোনা টেষ্ট করতে পারছে না, বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে- সরাকারি হিসাবে তাদের সংখ্যা আসছে না। আইসিইউ থেকে বের করলেই মারা যাবেন মা, কিন্তু তা জেনেও টাকার অভাবে সন্তানরা করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু মাকে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বের করছেন। এমন হৃদয়বিদারক অসংখ্য ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।

বিরোধী দলীয় এ উপনেতা বলেন, বাজেটে খুবই কম টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় স্বাস্থ্য খাতে। আর বরাদ্দের বিশাল অংশই দুর্নীতিবাজরা লুটপাট করে খায়।

তিনি বলেন, যারা মানুষের জানমালের দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছে, তারা দায়িত্বে অবহেলা করলে শুধু জনসাধারণ নয়, আল্লাহর দরবারেও জবাব দিতে হবে।