নীলাকাশ টুডেঃ রাজধানী ঢাকার সাভার মডেল থানায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে আলোচিত নায়িকা পরীমণি ও তার সহযোগী কস্টিউম ডিজাইনার জিমিকে। রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে দুটি গাড়ি নিয়ে সাভার মডেল থানায় উপস্থিত হন পরীমণি।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফির কক্ষে তাকে বোট ক্লাবের সেই রাতের ঘটনা নিয়ে পুলিশ বিভিন্ন প্রশ্ন করেছে। জানতে চাওয়া হয়, কী কারণে তিনি বোট ক্লাবে গিয়েছিলেন? সেখানে কী হয়েছিল? পরীমণি তার বক্তব্য পুলিশের কাছে তুলে ধরেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখা হয় সাভার থানায়। এ সময় মিডিয়াকে সাভার মডেল থানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

থানার মূল ফটকটি বন্ধ করে রাখা হয়। উল্লেখ্য যে, গত ৯ জুন সাভারের বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে মধ্যরাতে পরীমণি দুটি গাড়িসহ দলবল নিয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে বোট ক্লাব পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের সঙ্গে মদপান নিয়ে তার ঝামেলা হয়।

এরপর পরীমণি নাসির ইউ মাহমুদ ও অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ১৪ জুন সাভার থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে দেখা গেছে বোট ক্লাব ঘটনার আগের দিন পরীমণি মধ্যরাতে ঢাকার অল কমিউনিটি ক্লাবে গিয়েও মাতলামি ও ভাঙচুর করেন। অল কমিউনিটি ক্লাব সেই সব ভাঙচুর ও মাতলামির দৃশ্য মিডিয়াতে প্রচার করে।

 

আরও পড়ুন

 

রাতে চরমপন্থি নেতাকে গুলি করে হত্যা

 

নীলাকাশ টুডেঃ পাবনা সদর উপজেলায় এক চরমপন্থি দলের আঞ্চলিক নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। নিহতের নাম বিল্লাল হোসেন (৩৮)। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাজার সংলগ্ন জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত বিল্লাল সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত মোঃ আব্দুল করিমের ছেলে। পুলিশ বলেছেন, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি দল সর্বহারা পার্টির স্থানীয় নেতা। আতাইকুলা থানা পুলিশের ওসি মোঃ জালাল উদ্দিন বলেছেন, বিল্লাল পাবনা শহর থেকে মোটর সাইকেলে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ি পৌঁছানোর আগে তাকে কয়েক জন সন্ত্রাসী ৩-৪টি গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাটক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।

 

এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ওসি বলেন, নিহত ব্যক্তি চরমপন্থি দলের স্থানীয় নেতা ছিলেন। অভ্যন্তরীণ বিরোধে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। হত্যাকারীদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

 

আরও পড়ুন

 

পুলিশ আইলে মাস্ক পরি, চইলা গেলে খুইলা রাহি

নীলাকাশ টুডেঃ ৫১ বা ৬১ ঊর্ধ্ব বয়সের তিন জন বয়স্ক বসে আছেন নিশ্চিন্তে, পাশে বসে আছে আরও দুই জন। তাদের দেখে মনে হয় করোনা নেই আশপাশের কোথাও, কারো মুখেই নেই মাস্ক। অনেকে বলেন, মাস্ক পড়লে দম বন্ধ হয়ে আসে।

পুলিশ আসলে মাস্ক পরি, চলে গেলে খুইলা রাহি। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌরসভার ভাবকির মোড়ের চিত্র এটি। এমন চিত্র মুক্তাগাছা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের। সরকারের নির্দেশিত কোনো স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি কোথাও। জনবহুল মুক্তাগাছা উপজেলায় জনসাধারণের মাঝে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। ময়মনসিংহ-মধুপুর মহাসড়কের পাশেই অবস্থান জনবহুল মুক্তাগাছা বাজার। জেলার মধ্যে অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ উপজেলা মুক্তাগাছা। ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র মুক্তাগাছা বাজার। প্রতিদিন প্রায় অর্ধলাখ মানুষের সমাগম ঘটে বাজারটিতে। কেনাকাটা করতে আসা বেশিরভাগ মানুষের মুখে নাই মাস্ক। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা তাদের কাছে একবারেই গুরুত্বহীন। সরেজমিন দেখা যায়, দুই-একজন নিয়মকানুন মানলেও অধিকাংশরা মানতে নারাজ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে ছড়িয়ে গেছে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে। মৃত্যু ও সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। তবুও এখানকার মানুষ করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছে।

 

যার ফলে পরস্পরের দ্বারা ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মুহূর্তে মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করতে না পারলে এর মূল্য দিতে হবে বহুগুণে। তাই সময় থাকতে দ্রুত পুলিশ-প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি মাস্ক পরিধান করা, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। করোনা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মনতলা গ্রামের আব্দুল হালিমকে (৬২) মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা-টরোনা আমাগো ধরবার নাই, দেখচুন মাস্ক পরি নাই, কই কিছুই তো হইতাছে না। আমাগো মাস্ক লাগবার লয়। করোনা বড়লোকগো ধরব, আমাগো না।