নীলাকাশ টুডেঃ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় নেই এক সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পড়শী। অনুরুপ আইচ ও আরফিন রুমীর হাত ধরে সংগীতাঙ্গনে জনপ্রিয়তা পান তিনি। তারপর থেকে তার জয়জয়কার শুরু হয় চারিদিকে। আরফিন রুমীর সঙ্গে তার তিনটি গান এখনো সুপারডুপার হিট। তারপর থেকে ভালোই যাচ্ছিল পড়শীর সময়।

হঠাৎ ‘রাস্তা’ শিরোনামের একটি গান বের করেন এই শিল্পী। রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় গানটির বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠে। এটির ভিডিওতেও নিজেকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করেন পড়শী। সেই গানটিতে লাইকের চেয়ে ডিসলাইকের সংখ্যাই বেশি ছিল।

এ সমালোচনার পর থেকে নিজেকে আড়াল করে ফেলেন পড়শী। তারপর থেকে তাকে আর সেভাবে পাওয়া যাচ্ছিল না স্টেজ শো, নতুন গান কিংবা ইউটিউবেও। কিছুদিন আগে ইমরানের সঙ্গে তার একটি নতুন গান প্রকাশ হয় সিএমভি থেকে। এই গানটিতে লাইক ভিউয়ের পরিমাণ বাড়লেও পড়শী কিংবা ইমরানের আগের জনপ্রিয় গানগুলোর মতো আলোড়ন তৈরি হয়নি। এর প্রেক্ষিতে অনেকেই বলছেন পড়শীর মনে হয় আর গানে ফিরে আসা সম্ভব নয়। কারণ ইমরান এই সময়ে ইউটিউবে অসম্ভব জনপ্রিয় একজন শিল্পী।

ইমরানের সঙ্গে গান করেও পড়শী তার পূর্বের গান ‘তোমারই পড়শ’, ‘খুঁজে খুঁজে’ গানগুলোর মতো আলোড়ন তুলতে পারেনি। সে কারণে পড়শীকে নতুন করে চিন্তা করতে হবে এবং আরফিন রুমীর দারস্থ হয়ে হলেও নতুন করে নিজের যোগ্যতাকে প্রমাণ করতে হবে বলে ভাবছেন সংগীতবোদ্ধারা। তবে আরফিন রুমী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গানে ফিরেননি। তবে পড়শী ঘনিষ্ঠ অনেকেই বলছেন আরফিন রুমীর হাত ধরেই আবারও যেন পড়শী সংগীতাঙ্গনে নতুনভাবে যাত্রা শুরু।

এ প্রসঙ্গে যতবারই পড়শীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ততবারই তার ব্যক্তিগত নাম্বার পাওয়া যায় না। হয়ত তার মা কিংবা ভাইয়ের মোবাইলে কথা বলতে হয়। তারা পড়শীকে সব সময়ই আড়াল করে রাখেন। তাতে করে পড়শী অনেকের চেয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় থাকেন সারা বছর। এটিও তার সংগীত ক্যারিয়ারে একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই বিবেচিত হয়। অন্যদিকে গানের পাশাপাশি সিনেমাতেও শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন পড়শী।

সেখানে একটি গানেও পারফর্ম করতে দেখা গিয়েছিল পড়শীকে। এরপর পড়শীকে পরবর্তীতে আর কোনো গানেও দেখা যায়নি। নিন্দুকেরা বলছেন যে, পড়শী হয়ত ভেবেছিলেন যে শাকিব খানের ওপর ভর করে ফিল্মে যদি গায়িকার পাশাপাশি নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়, সেজন্য তিনি আকর্ষণীয় পোশাক পরে যথাসাধ্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে পড়শীভক্তরা অভিনয়ে নয় গানেই স্বমহিমায় ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

 

আরও পড়ুন

কারখানার মালিকপক্ষের বক্তব্যে উঠে আসে

নীলাকাশ টুডেঃ কারখানাটির ভবনের চার তলায় তালাবদ্ধ থাকায় ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র না থাকার যে অভিযোগ করেছে ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় প্রশাসন, এ ব্যাপারে সজীব গ্রুপের মালিক এম এ হাসেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মালিকপক্ষ আগুন লাগার পর আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও অভিযোগ মিলেছে। তবে মালিকের পক্ষ থেকে সজীব গ্রুপের ম্যানেজার কাজী রফিকুল ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ইকুইপমেন্ট (যন্ত্রপাতি) এনাফ (যথেষ্ট) ছিল। অ্যালার্ম দেয়ার জন্য সবকিছু ছিল। নিচ তলায় আগুন ধরার কারণে পুরো ভবনে ছড়িয়ে গেছে।

এই ঘটনার ক্ষেত্রে বড় অভিযোগ এসেছে যে ভবনে তালাবদ্ধ ছিল, এ কারণে শ্রমিকরা বের হতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস এই অভিযোগ করেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কারখানাটির কাজী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

কিন্তু ফায়ার সার্ভিস বলেছে, আগুন নেভানোর পর তারা চার তলায় তালাবদ্ধ থাকায় একটি জায়গায় ৪৯ জনের লাশ পেয়েছেন। তাহলে এটিকে কিভাবে মিথ্যা কথা বলছেন?

এই প্রশ্ন করা হলে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, যখন নিচ তলায় আগুনটা ধরেছে, তখন সবাই আতঙ্কে উপরে চলে গেছে।

এখন এত মানুষের মৃত্যু হলো-এর দায়িত্বটা কে নেবে? এই প্রশ্নে রফিকুল ইসলামের বক্তব্য হচ্ছে, ‘ডিসি মহোদয় ও ডিআইজির সাথে কথা বলা হয়েছে। এটা আমাদের মালিকপক্ষ দেখবে। এদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ ম্যানেজমেন্ট দেবে।’

কিন্তু ক্ষতিপূরণই শুধু বিষয় নয়। এই যে এতগুলো প্রাণহানি হলো, সেখানে একটা দায় দায়িত্বের প্রশ্ন আসে- এ ব্যাপারে কারখানাটির মালিকপক্ষের কাজী রফিকুল ইসলামের জবাব একই। ‘এটা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’।

কারখানাটির মালিকের পক্ষ থেকে অসঙ্গতির অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হলেও ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বিবিসিকে বলেছেন, ভবনে চার তলায় সিঁড়ির গেট তালাবন্ধ থাকায় সেখানে আটকা প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে। এক জায়গা থেকেই ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

দেবাশীষ বর্ধন আরো বলেছেন, লাশগুলো আগুনে পুড়ে এমন অবস্থা হয়েছে যে নারী, পুরুষ কিংবা পরিচয়- তাদের পক্ষে কোনো কিছুই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা কারখানার ভবনটি আগুন নেভানোর ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও তুলেছেন। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেছেন, তাদের তদন্তে সব অভিযোগ খতিয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যারা ছিলেন, তারা আমাকে জানিয়েছেন যে তারা সন্দেহ করছেন, একটা শট সার্কিট থেকে আগুনের উৎপত্তি হতে পারে।

জেলা প্রশাসক বলেন, যথেষ্ট পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া জুসের কারখানা কেমিক্যাল ও পলিথিন ছিল। এ কারণেও আগুন দ্রুত ছড়িছে বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছে।

কারখানাটিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আগুন লাগার পর রাত পর্যন্ত তিনজন নারী শ্রমিকের লাশ ও ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক মানুষের প্রাণহানির ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধারণা করতে পারেননি।

এরপর দুপুরে আগুনে বিধ্বস্ত ভবন থেকে একের পর এক ৪৯টি লাশ বের করে আনা হয়। এই লাশগুলো ভবনের চার তলায় পড়েছিল বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দেবাশীষ বর্মন জানিয়েছেন্

সূত্র : বিবিসি