নীলাকাশ টুডেঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামের কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীছাউনিতে পড়ে থাকা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদের (৮৮) দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিফা নুসরাত। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আব্দুর রশিদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান তিনি।

জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ তিনটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরশাদ সরকারের আমলে নন্দীগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন। জমিজমাও ছিল ১৪ বিঘা। কিন্তু সব হারিয়ে নিঃস্ব আব্দুর রশিদ স্ত্রী-কন্যার কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নেন উপজেলার কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীছাউনিতে। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সেখানেই অবস্থান করছিলেন তিনি। এ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে যান ইউএনও শিফা নুসরাত। তিনি সেখানে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ ওই প্রবীণ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন।

 

এ সময় নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আনিছুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ও ভাটগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। তারা ওই শিক্ষকের শারীরিক সমস্যাগুলো জেনে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে উপজেলার বিজরুলে অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। ভর্তির পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন ও আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল মাহমুদ শিক্ষক আব্দুর রশিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

চিকিৎসকরা জানান, তার (আব্দুর রশিদ) ফুসফুসে পানি জমেছে। এছাড়া তার কোমরের হাড় ভাঙা, মানসিক সমস্যা, পানিশূন্যতা ও চর্মরোগ আছে। এসব কারণে তার বেশ কিছু পরীক্ষা করানো দরকার। এজন্য শহরের কোনো ভালো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিতে হবে। তবে সেখানে নেওয়ার আগে শারীরিক সুস্থতা প্রয়োজন। অন্তত দুদিন হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদানের পর শহরে নেওয়া যেতে পারে।

এ সময় ইউএনও শিফা নুসরাত জানান, প্রবীণ এই শিক্ষকের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলে থাকার জন্যও ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, তার (আব্দুর রশিদ) পরিবারের প্রথম দায়িত্ব ছিলো পাশে থাকা। তারা যেহেতু তা করেননি, এ কারণে প্রশাসন তথা সরকারের দায়িত্ব তার পাশে দাঁড়ানো। বর্তমান সরকার এটি নিশ্চিত করতে চায় যে, কোনো মানুষই গৃহহীন থাকবে না এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এটিও তারই অংশ। তার চিকিৎসা, আবাসনসহ মানবিক সকল বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।