মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৫


MD Nuruzzaman প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২৪, ৪:৩৯ পূর্বাহ্ন /
মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৫

নীলাকাশ টুডে

 

চট্টগ্রামে ডিজিটাল ক্যামেরা হাতিয়ে নিতেই কলেজছাত্র শাওন বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে খুনিরা। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে মঙ্গল ও বুধবার ভোরে নগরীতে অভিযান চালিয়ে মূলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশের একাধিক টিম।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (উত্তর) পঙ্কজ দত্ত।

 

পঙ্কজ দত্ত বলেন, খুনের শিকার শাওন পড়াশোনার পাশাপাশি বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি করতেন। সোমবার শাওনের পরিচিত বড়ভাই জনির মাধ্যমে মোহরার একটি ক্লাবে গায়ে হলুদের ছবি তোলার কাজ পান। বিয়ে অনুষ্ঠানের কথা বলে শাওনকে চান্দগাঁও থানার বেপারি পাড়ার ভাঙা পুলের মাথায় আসতে বলা হয়। সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ইমন, তৌহিদ ও চালক আলমগীর অপেক্ষায় ছিলেন। মুরাদ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাওনকে রিসিভ করে নিয়ে যায়। ঘটনাক্রমে অপেক্ষায় থাকা সিএনজি অটোরিকশার দিকে না গিয়ে অনন্যা আবাসিক এলাকায় নিয়ে যায় মুরাদ। মুরাদ ছোরা ধরে শাওনের কাছ থেকে ডিজিটাল ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। না দেওয়াতেই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় ছুরিকাঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পরে মুরাদ বিষয়টি বাহারকে বলে, ‘ভাই আমি শাওনকে মেরে ফেলেছি।’ তখন বাহার এসে ক্যামেরাসহ মুরাদকে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু রেখে যায় শাওনের মুঠোফোনটি। সেই মুঠোফোনের সূত্র ধরে ওই পাঁচ হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশের একাধিক টিম। তারা হলো- ইমতিয়াজ আলম মুরাদ (২১), আশহাদুল ইসলাম ইমন (২৪), তৌহিদুল আলম (২৩), বাহার (২২) ও আলমগীর (৩০)।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে যারা ফটোগ্রাফি করে তারাই ওদের টার্গেট।’ বিভিন্ন মাধ্যমে নম্বর সংগ্রহ করে নামে-বেনামে ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়াই তাদের কাজ। গ্রেফতারদের মোবাইল ফোনে আরও অনেক ফটোগ্রাফারের নম্বর পাওয়া গেছে। ধারণা করা যাচ্ছে তাদের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত আছে। তাদেরও শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে নগরীর চান্দগাঁও থানা পুলিশ শাওনের (২২) রক্তাক্ত লাশ অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।