নীলাকাশ টুডেঃ ওই রাতে তিনি কেন গিয়েছিলেন, বিষয়টি সোমবার রাতে পরিস্কার করেছেন চিত্র নায়িকা পরীমনি।

তিনি বলেছেন, “ওখানে আমরা যাইনি। যাওয়ার পরেও আমরা জানি না ওটা বোট ক্লাব। আমাদের সঙ্গে থাকা ছোট বোনটার আম্মু অসুস্থ। আমরা বনানীতে গাড়ি থামিয়ে ওষুধও কিনেছি। আমরা উত্তরাতে যাব। যেহেতু অমি ভাইয়া আমাদের সঙ্গে ছিল, তিনি বলেছে আমার দুই মিনিটের কাজ আছে।

তিনি বলেন, “জিমিকে বারবার রিকোয়েস্ট করতে ছিল। বলল, এখন তো রাস্তা ফাঁকা। বেশিক্ষণ লাগবে না। জাস্ট দুই মিনিটের ব্যাপার একটু টাইম দে। সেখানে গিয়ে প্রথমে সে নামার জন্য বলে নাই। সেখানে সিকিউরিটি তাকেই ঢুকতে দিচ্ছিল না। কাকে যেন ফোন দিয়েছিল, তখন রাত ১২টা অনেক রাত। তখন ওই লোকটা আসল যার সঙ্গে তার কাজ ছিল।”

পরীমনি আরও বলেছেন, আমরা তারা দিচ্ছিলাম। আমার সঙ্গে যে মেয়েটা ছিল তার তাড়া ছিল। তার বাথরুমে ধরেছিল। অমি ভাইয়া বলেছিল এখানে সমস্যা নেই ওয়াশরুমে যেতে পার। তখন বেনজির ভাইয়ের নাম বলল। ওয়াশ রুমে তো যেতেই পারি। তখন তার (অমি) বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিল। ওখানে আমরা বসছি। ওখানে মদ খেতে ছিল। ওখান থেকেই এসে বলল ও পরীমনি তুমি আসছ। তখনই বুঝতে পেরেই আসলে তিনি ওভার ড্রাংক। আমি তাকে দাদা বলে সালাম দিয়েছে। উনি বলল বসো বসো কোনো সমস্যা নেই, বাচ্ছা মেয়ে।

ঢাকার আলোচিত চিত্র এই নায়িকা পরীমনি ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

থানায় পরীমনির দায়ের করা একটি মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে মামলার প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ ও অমিসহ ৫ জন। তাদের গ্রেফতারের পরেই রাতে বনানীর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকাই ছবি থেকে আলোচনায় আশা নায়িকা পরীমনি।

চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টা মামলায় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে নাসির ও অমিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় নাসিরের সঙ্গে থাকা অল্পবয়সী তিন নারীকেও গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে অমির গার্লফ্রেন্ড স্নিগ্ধা ও নাসিরের সঙ্গী লিপি ও সুমি রয়েছেন। গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান পরিচালনার সয়ম ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ-বিয়ার ও এক হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে।

এর আগে পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার ঘটনাটি কারও নাম উল্লেখ না করে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে এই ঘটনার বিচার চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। এর পরের দিন রোববার তিনি বনানীর বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে ঢাকা বোট ক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের নাম উল্লেখ করেন।

এদিকে ঢাকা বোট ক্লাবের আলোচিত ঘটনায় নির্বাহী সদস্যের পদ থেকে নাসির উদ্দিন মাহমুদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মির্জা ফখরুলের কাছে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, একজন মানুষ কবার জন্মায়?

 

নীলাকাশ টুডেঃ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘একজন মানুষ কবার জন্মায়? আপনারা বেগম খালেদা জিয়াকে এভাবে পাঁচ-ছটি জন্মের তারিখ দিয়ে কেন বারবার জন্মগ্রহণ করালেন!”

“বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিভিন্ন তারিখ ব্যবহার বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না’ গত রোববার হাইকোর্টের এই রুল জারির পর মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের বিষয়ে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে মন্ত্রী এ প্রশ্ন রাখেন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বেগম জিয়ার পাসপোর্ট ও করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাঁর জন্মতারিখের চিত্র নিজের আইপ্যাড থেকে সাংবাদিকদের দেখিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, মেট্রিক পরীক্ষার ফরমে খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। আবার তার বিবাহ সনদে জন্মের তারিখ উল্লেখ আছে ৫ আগস্ট ১৯৪৪ সাল। ১৯৯১ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন সরকারি নথিতে তাঁর জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে ১৯ আগস্ট ১৯৪৭ সাল। আর বর্তমানে যে পাসপোর্ট তিনি ব্যবহার করছেন, সেখানে তার জন্মতারিখ উল্লেখ আছে ৫ আগস্ট ১৯৪৬ সাল। অতি সম্প্রতি তিনি যে করোনার টেস্ট করেছেন, সেখানে তাঁর জন্মের তারিখ উল্লেখ আছে ৮ মে ১৯৪৬ সাল। কটি জন্ম তারিখ হলো!’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কোনো সরকারি নথিতে কোনো জায়গায় বেগম খালেদা জিয়ার জন্মের তারিখ ১৫ আগস্ট উল্লেখ নাই। অথচ বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ ১৫ আগস্ট দাবি করে কেক কাটা হয়। প্রকৃতপক্ষে ১৫ আগস্ট কেক কাটা হয় সেদিনের হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার জন্য, হত্যাকারীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য, ১৫ আগস্টের এই মর্মান্তিক ঘটনাকে উপহাস করার জন্য।