নীলাকাশ টুডেঃ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে ভোটকেন্দ্রে গোলাগুলিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

নিহতরা হলেন- নৌকার এজেন্ট আবদুল হালিম (৩৫) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আবুল কালাম (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আবদুল হালিম নিহত হন।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুতুবদিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

আবদুল হালিম বড়ঘোপ ইউনিয়নের গোলদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। নির্বাচনে তিনি ৫নং ওয়ার্ডের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট ছিলেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মাঝে আহত ১৮ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক মোঃ শরীফ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু লোক ভোটকেন্দ্রে উশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এটি ঠেকাতে জটলার ভেতর ঢুকে যান হালিম। ছিনতাই ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য গুলি চালালে গুলিতে আবদুল হালিম আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুতুবদিয়া থানার ওসি মোঃ ওমর হায়দার ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা নিয়ন্ত্রণের সময় আবদুল হালিম নামে একজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। তার লাশ কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে হালিম নিহত হয়েছেন।

ঊড়গুপ ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ওই কেন্দ্রে আপাতত ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোলাগুলির ঘটনা শুনেছি। তবে কাদের গুলিতে নিহত হয়েছে, তা সঠিকভাবে এখনও জানা যায়নি।

এদিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে নৌকার সমর্থকের গুলিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন।

নিহতের নাম আবুল কালাম। তিনি স্থানীয় পশ্চিমপাড়ার ছোট মিয়ার ছেলে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।

 

এ ঘটনায় আহত আরও গুলিবিদ্ধ ১০ জন মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

কুতুবজোম ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মাসুদ কুতবী জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নৌকা ও চশমার সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার জন্য ৪ ও ৫নং কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণও শুরু হয়েছে।

মহেশখালী থানার ওসি আবদুল হাই জানান, বর্তমানে কুতুবজোম ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভোটগ্রহণও চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে কঠোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

নির্বাচনী সহিংসতায় বৃদ্ধা নিহত, আহত ৪

নীলাকাশ টুডেঃ বাগেরহাটের মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে চাঁদপাই মোড়ে নির্বাচনী সহিংসতায় ফাতেমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

রবিবার রাত নয়টার দিকে দুই সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ফাতেমা বেগম নিহত হন।

সংঘর্সের সময় ১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য প্রার্থী মতিউর রহমান মোড়ল, বোরহান শেখ, মতিয়ার রহমান শেখ ও ইসরাফিল হোসেন আহত হয়েছেন। প্রার্থী মতিউর রহমান মোড়লসহ চারজনকে মোংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সহিংসতার আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
মোংলা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে জানান, চাঁদপাই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপাই মোড়ে রাত ৯টার দিকে বর্তমান ইউপি সদস্য ও প্রার্থী মতিউর রহমান মোড়লের সাথে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিকুল ইসলামের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে প্রার্থী মতিউর রহমান মোড়ল, তার বৃদ্ধা ফুফু ফাতেমা বেগম, বোরহান শেখ, মতিউর রহমান শেখ ও ইসরাফিল হোসেন আহত হয়।

আহতদের দ্রুত মংলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ফাতেমা বেগম মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য চারজনকে মোংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত পোহালেই নির্বাচন, এ ঘটনায় যাতে আরও বড় রকমের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।