ডেস্ক রিপোর্টঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অজ্ঞান পার্টির ভয়ে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে, এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপর হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন উপজেলা বাসি। জানা গেছে, এলাকায় অজ্ঞান পার্টির কবলে কেউ বাদ যাচ্ছে না। অজ্ঞান পার্টির বিষয়ে নীলাকাশ টুডে এর কাছে একটি অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ঝাঁচড়াহাটীনন্দী গ্রামের মোঃ আব্দুল মাজেদ এর স্ত্রী ইশারুন নেছা ০৩ নং খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত আছে । গত ইং- ২০ই জানুয়ারি ২০২২ রাত পৌনে বারোটার দিকে শিক্ষক ইশারুন নেছার পরিবারের অন্য কেহ বাসায় না থাকায় সেই সুযোগে অজ্ঞাত নামা কে বা কাহারা ইশারুন নেছার বসত ঘরের গ্রীল কেটে ঘরের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষিকা ইশারুন নেছার কোন কিছুই বুঝে উঠার আগেই প্রাণ নাশের ভয় দেখাইয়া ধারালো চাকু ও অস্ত্রপাতি বাহির করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করিয়া ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক চেতনা নাশক পাউডার জাতীয় দ্রব্যাদি পানির সাথে মিশ্রিত করিয়া খাওয়াইয়া থাকে। এর পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে বিছানায় শয্যায় লুটে পড়ে।

অতঃপর অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিরা ঘরের মধ্য থেকে স্টিলের আলমারী ড্রয়ায়ের তালা ভেঙ্গে সেখানে রক্ষিত নগদ ১২ হাজার টাকা, কানে থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের দুল মূল্য ৩৫ হাজার, একটি মোবাইল ফোন মূল্য ১২ হাজার টাকা, সহ পরিহীত গহানাপাতি ইত্যাদি নিয়া যায়। এর প্রায় ১৫ ঘন্টা পরে ২১ তারিখ দুপুর দুই টা ত্রিশ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষিকার স্বামী বাড়ীতে এসে তাকে অচেতন অবস্থায় শয়ন কক্ষে দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করিয়া জ্ঞান না ফেরায় তাকে চিকিৎসার জন্য শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসার জন্য ভর্তি করিয়ে দেয়। ডাক্তারের পর্যবেক্ষনে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শিক্ষিকা ইশারুন নেছা চিকিৎসাধীন শেষে বাড়ি ফিরেন। এই ঘটনায় কারো নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগেও একই ইউনিয়নের অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

এই বিষয়ে শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী ওয়াহিদ মুর্শিদ নীলাকাশ টুডে কে জানিয়েছেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি তদন্ত করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সহ এলাকা বাসি।