নীলাকাশ টুডেঃ ভবনের উপর বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ইতালির মিলানে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে বিবিসি রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলানের লিনেট বিমানবন্দর থেকে সার্ডিনিয়া দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল ব্যক্তিগত ওই বিমানটি। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর মিলান শহরের উপকণ্ঠে একটি ফাঁকা দোতলা ভবনে ধাক্কা লেগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে আটজন নিহত হয়। নিহতরা সবাই বিমানের যাত্রী ছিলেন।

বিমানের যাত্রীরা সবাই ফ্রান্সের নাগরিক ছিলেন বলে স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে তারা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পান। এরপরই সেখানে আগুন লেগে যায়। আগুন লাগার পর আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তবে ভবনের আশেপাশে থাকা কেউ আহত হয়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জিউসেপ জানান, প্রথমে তিনি আকাশে কোনো বিমানের ইঞ্জিন থেমে যাওয়ার মতো শব্দ শুনতে পান। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে জোরে বিস্ফোরণের আওয়াজ পান। বিস্ফোরণের ধাক্কায় তার বাড়ির জানালার কাঁচগুলো কাঁপছিল। তখন তিনি জানালা খুলে আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখেন।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ভবনের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায়। পরে দমকলবাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আরও পড়ুন

দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

নীলাকাশ টুডেঃ কুষ্টিয়ায় এক রাতে দুই উপজেলায় প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ অক্টোবর) রাতে মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নে নফরকান্দি গ্রামে নফরকান্দি মহামায়া মন্দির এবং খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের আজইল গ্রামের হিন্দু মহল্লায় অবস্থিত আজইল সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে নফরকান্দি মহামায়া মন্দিরের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্রতিমার মাথা ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে।

মিরপুরের ছতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, এর আহে এলাকায় এমন কোনও ঘটনার নজির নেই। আশা করি দ্রত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাদের জানান, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

অপরদিকে, খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের আজইল গ্রামের হিন্দু মহল্লায় অবস্থিত আজইল সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে চারটি মূর্তির মাথা ভেঙে মাটিতে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা।

মন্দির কমিটির সভাপতি চণ্ডী কুমার বিশ্বাস জানান, রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি মন্দিরেই ছিলেন। সকালে জানতে পারেন, কে বা কারা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। দুর্বৃত্তরা চারটি মূর্তির মাথা ভেঙে মাটিতে ফেলে রাখে।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, মন্দিরের জায়গা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মামলাও চলছে আদালতে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। আরও তদন্ত চলছে।

মিরপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, রাত দেড়টা পর্যন্ত মন্দিরে লোকজন কাজ করেছেন। সেখানে সিসি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতে ক্যামেরা খুলে বাড়ি নিয়ে যান মন্দির কমিটির এক সদস্য। কয়েকটি মূর্তির মাথা ভেঙে ফেলা হয়েছে। কেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। পুলিশ এ ঘটনায় কাজ করছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার আইকা সংঘ পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।