নীলাকাশ টুডেঃ আওয়ামী যুবলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে যুবলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি একজন ওসির দলীয় স্লোগান দেয়া নিয়ে করা ফেসবুক লাইভের বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি সংগঠন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকতে পারে।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই কমিটিতে আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে জায়গা পান সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ব্যারিস্টার সুমন হিসেবে পরিচিত এই আইনজীবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে নিয়মিত লাইভ করে আলোচনায় আসেন। তবে সেই লাইভের কারণেই এবার দলীয় পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

তদন্তে গিয়ে পরীমণির সাথে প্রেম! সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস, ডিবি কর্মকর্তা’কে নিয়ে হুলস্থূল

নীলাকাশ টুডেঃ আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি কাণ্ডে এবার নাম জড়ালো পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার। তার নাম গোলাম সাকলায়েন শিথিল। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি’র গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি ঢাকার অদূরে তুরাগতীরে বহুল আলোচিত বোট ক্লাব মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন সাকলায়েন। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত চলার সময় নায়িকা পরীমণির সাথে সখ্য গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। র‍্যাবের হাতে পরীমণি গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তার সাথে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি উঠে এলো আলোচনায়। তাদের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।

পরীমণির গাড়ি চালক নাজির হোসেন যমুনা টেলিভিশনের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এরই মধ্যে পরীমণি- সাকলায়েনকে নিয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, রাজাবাগ পুলিশ অফিসার্স কলোনির মধুমতি ভবনের গেটের সামনে ১ আগস্ট সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে একটি সাদা গাড়ি এসে থামে। লাল রংয়ের টি-শার্ট পরিহিত একজন প্রথমে নামেন। এরপর কোলে একটি কুকুরসহ সাদা রংয়ের জামা পরে নামেন আলোচিত নায়িকা পরীমণি। রিসিপশনে থাকা সদস্যদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে দু’জন লিফটে প্রবেশ করেন। পরে গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ট্রলি ব্যাগ। এরপর রাত দেড়টার দিকে ওই ভবনের সামনে আবার আসে পরীমণির গাড়ি। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় পরীমণির পরনে ছিল কালো রংয়ের পোশাক।

 

সিসিটিভি ফুটেজে মিলেছে বেরিয়ে আসার ছবিও।
পরীমণির গাড়িচালক নাজির জানান, পরীমণির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ছিলেন ডিবি কর্মকর্তা সাকলায়েন। এর আগেও হাতিরঝিল এলাকায় একই গাড়িতে তারা দু’জন সময় কাটিয়েছেন, ঘোরাঘুরি করেছেন।

সূত্র যমুনা নিউজ

আরও পড়ুন

গরিব ঘরের মেয়ে পরী’র প্রথম বিয়ে খালাত ভাইয়ের সঙ্গে

নীলাকাশ টুডেঃ দেশের সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালী গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। তার পুরো নাম শামসুন নাহার স্মৃতি। তার নানারা খুবই গরিব ছিলেন। সেখানে এসএসসি পাসের পর খালাত ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয় পরীমনির।

পরীমনির নানা শামসুল হক গাজী জানান, পরীমনির মায়ের মৃত্যুর পর তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। সে আমাদের বাড়িতে থেকে স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া করে। অত্যন্ত মেধাবী ছিল সে। গরিব হওয়ায় কোনো প্রাইভেট পড়তে পারেননি পরীমনি। তারপরও তিনি ভগিরাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।

তিনি জানান, প্রথমবার ফেল করলেও দ্বিতীয়বার এসএসসি পাশ করে। পরে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হলেও বরিশালে থাকা খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। সেখানে ২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদ হয়।

স্থানীয়রা জানান, উচ্ছৃঙ্খল জীবনের জন্য খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ও ২০২০ সালে তৃতীয় বিয়ে হয় পরীমনির।

বুধবার বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও মাদকসহ চিত্রনায়িকা পরীমনিকে আটক করে র‌্যাব। এরপর বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় আদালত ইতোমধ্যে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পরীমনির গ্রেফতারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব। বাংলাদেশের এই এলিট ফোর্সের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তার নাম শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতিমনি ওরফে পরীমনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তিনি ২০১৪ সালে সিনেমা জগতে আসেন। এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও ৫-৭টি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। তাকে পিরোজপুর থেকে ঢাকার সিনেমা জগতে আনেন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ।