নীলাকাশ টুডেঃ সম্প্রতি গণমাধ্যম ঝড় তোলা আলোচিত -সমালোচিত নায়িকা চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি ২৩ জুন আরেক বিস্ফোরক স্ট্যাটাস দিলেন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন পরীমনি। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়াসহ সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়, যার রেশ এখনো কাটেনি। এবার নিজের ফেসবুকে আরও একটি বিস্ফোরক পোস শেয়ার করেছেন পরীমনি। পরীমনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন ‘সরি’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্মৃতি পরীমনি নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দিয়ে সেটি তার ভেরিফায়েড পেজ থেকে শেয়ার করেন। তিনি একজন পরিচালকের উদ্দেশ্য করে এ স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। তবে তার নাম উল্লেখ করেননি। ঢালিউড নায়িকার এ স্ট্যাটাস পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘সমস্যা হইলো … আমি মাইয়া লোক কিন্তু লুতুপুতু মাইয়া টাইপ আচরন করি নাই আপনার সাথে, ঘইটা গেল সমস্যা! চিকন সুরে ভাইয়া ভাইয়া করিনাই আপনারে, বিশাল সমস্যা! কাজের ফাঁকে আলগা রসের পিরিতের আলাপ করি নাই, ব্যাস এইতো সমস্যা!

কাজে মত প্রকাশের অধিকার দেখাইছি, তাতেই সমস্যা! আপানার চোক্ষের সামনে আরো পাঁচ-দশ জনের মতো না হারাইয়া যাইয়া দিন দিন ক্যারিযার বানাইতেছি, নাম কামাইতেছি..এইখানে হইয়া গেল সমস্যা! আপনি পরিচালক হইয়া ৫ বছরে একটা সিনেমা বানান আর আমার এক বছরে পাঁচ সিনেমা রিলিজ হয়, আমার তো প্রচুর সমস্যা! আপনারে প্রযোজক বাগাইতে দিলামনা, ওরে সমস্যা! শুটিং সেটে উহ আহ করা দামরা ধইরা নগদে থাপড়াই, চরম সমস্যা! কোনোরকম চামচামি না নিয়া আপনার মুখের উপরে তিতা সত্য বইলা দেই, আমারই তো সমস্যা! তারপরতো বিড়ি খাওয়া, মদ খাওয়া, প্রেম করা, বিদেশে ইচ্ছা মত ঘুরতে যাওয়া, শুয়োরের বাচ্চা-বালছাল বইলা গালিটালি দেওয়া, পিরিয়ড নিয়া কথা বলা এইগুলাতো আছেই! পাইছেন কই এইগুলা? আমিই তো দিছি। আপনাদের মন ভরে না কেন বলেন তো!? টুপ কইরা কথায় কথায় চরিত্র হাতাইতে আসেন!

বাসার মধ্যে মদের খালি বোতলের শোপিস দেইখা চরিত্র বুইঝা ফেলেন কেমনে বলেনতো!? বাসায় যে জায়নামাজ,কোরআন, নামাজের ঘর আছে সেইটা কেন দেখতে পাইলেন না আপনে!? আহারে একটু জিরান এইবার। ক্ষমা দেন। অন্যায়কে অন্যায় বলতে শিখেন! অপরাধীকে অপরাধী বলতে শিখেন। একটা ন্যায়ের জন্যে লড়াইয়ের সাথে থাকেন। না পারলে এইবার অন্তত নিজের ব্যাক্তিগত হিংসাত্মক আক্রমণ কইরেন না প্লিজ।

এই লড়াই শুধু যে আমার একার না এইটা বোঝার সু-জ্ঞান উদয় হোক সবার।’ গত ১৩ জুন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী পরীমনি। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে পর দিনই সাভার থানায় শুধু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন তিনি। ১৪ জুন উত্তরার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযুক্ত নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে মাদকসহ গ্রেফতার করে। এর পর বেশ কয়েকটি ভিডিওতে পরীমনি বেপরোয়া জীবন উঠে আসে। এসব বিষয়ে পরীমনি গণমাধ্যমকে বলেছেন- ‘কয়েক সেকেন্ডের বিভ্রান্তিকর অস্পষ্ট ক্লিপ নয়, আমি পুরো ভিডিওটি চাই। শুরু থেকেই বলে আসছি, ক্লাবের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার জন্য। যদিও কয়েক সেকেন্ড পাওয়া যায়, তা হলে নিশ্চয়ই পুরো ফুটেজই আছে। আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করে আবারও বলছি— দয়া করে পুরো ফুটেজ প্রকাশ করুন। সবাই সত্যটা জানুক কী ঘটেছে সেই রাতে।

আরও পড়ুন

 

নীলাকাশ টুডেঃ ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ডিএনএ টেস্ট করানোর কথা বলেছেন আদালতকে। পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসানের আদালতে ওই দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখানোসহ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। সাভার থানার পরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেন রিমান্ডের এ আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পরীমনি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির একজন অভিনেত্রী।

আসামিরা তাকে মারধর করে শ্লীলতাহানি করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরীমনিকে মদপানের চেষ্টা করিয়ে পরবর্তীতে ধর্ষণসহ আরও বড় কোনো ক্ষতি করার পরিকল্পনা ছিল কি না- তা জানার জন্য এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত জরুরি। আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, অবশ্যই তিনি (পরীমনি) সেলিব্রেটি।

তা না হলে কি আর রাত ১২টায় ক্লাবে যাই। মামলায় ধর্ষণের নয় চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্ট করানো যেতে পারে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এসব করলেও প্রমাণ পাওয়া যাবে যে নাসির উদ্দিন মাহমুদ নিরপরাধ। পরে শুনানি শেষে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রসঙ্গত, ১৩ জুন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে পরীমনি অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন পরীমনি। ১৩ জুন রাতে বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের তিনি জানান, গত ৮ জুন রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমির সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার একটি ক্লাবে। সেখানে মদ্যপানরত কয়েকজনের সঙ্গে পরীমনির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। ওই ব্যক্তিদেরই একজন হঠাৎ জোর করে তার মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

 

আরও পড়ুন

 

নীলাকাশ টুডেঃ চিত্র নায়িকা পরীমনির ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় আবাসন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও নায়িকার বন্ধু তুহিন সিদ্দিকী অমির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসান শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক কামরুল ইসলাম তাদের গ্রেফতার দেখানোসহ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। মাদক মামলায় গ্রেফতার নাসির ও অমির সাত দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয় আজ। এরপর তাদের আদালতের হাজত খানায় রাখা হয়।

গত ৯ জুন মধ্যরাতে সাভারে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার চার দিন পর ১৩ জুন রাত ৮টার দিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এবং রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনা প্রকাশ করেন নায়িকা পরীমনি। পরদিন ১৪ জুন সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন তিনি। এদিন বিকালে উত্তরা থেকে নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এরপর ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ১৫ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি নাসির ও অমির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে আজ পরীমনির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নতুন করে আরও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

 

আরও পড়ুন

নীলাকাশ টুডেঃ চিত্র নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার ঘটনা নিয়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে ঠিক সেই সময় নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রায় দুই যুগ আগে নিহত মডেল কন্যা সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি।

কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। প্রায় ১৯ বছর আগে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি।

পরীমনিকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন মহল সোচ্চার হয়েছে। অনেকেই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সেই সময় নতুন করে নিহত মডেল তিন্নিকে সামনে আনলেন হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি।

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সোমবার একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে মডেল তিন্নির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ছোটপর্দার এই অভিনেত্রী।

এর পর থেকে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে নিহত সেই তিন্নি।