নীলাকাশ টুডেঃ দুই শিশু পুত্রকে আগ্নেয়াস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বিচারক পিতা। এমন একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি সিনিয়র সহকারী জজ জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

৬ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বনের ভেতর দুই শিশু পুত্রকে একটি পিস্তল চালনা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন পিতা। নদীর ধার ঘেষে বনের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা দুই সন্তানকে নিজে অস্ত্র চালানা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এ সময় একজন সকল কর্মকাণ্ড ভিডিও করছিলেন।

এ সময় দেখা যায়, পিস্তল হাতে শিশুপুত্র। পেছনে দাঁড়িয়ে বিচারক পিতা। তিনি ছেলেকে শেখাচ্ছেন ট্রিগার চাপার কৌশল। ছেলেও একের পর এক ছুড়ছেন গুলি। বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে চারপাশ।

এ বিষয়ে বিচারক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এ ঘটনায় পারিবারিক লোকজন জড়িত। পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই নিয়াজ মাহমুদ নামে একজন আমাকে বিপাকে ফেলতে ভিডিওটি নতুন করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। আমার বড় বোন তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করার কারণে সে আমাদের পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ। সে রাষ্ট্র, আওয়ামী লীগকে নিয়ে অনেক আজে- বাজে কথা বলেন, সেফুদা’র মতো।

তিনি জানান, ভিডিওটি ২০১৬ সালের দিকের। সে সময় আমি সুন্দরবনে ছিলাম। তখন বাচ্চারা শখ করে এক/ দুই দিন করেছে। কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে নয়, এই ধরেন গাছকে এইম করে গুলি করা এই আরকি। আমি ডিউটিকালীন সময়ে ঘুমিয়ে গেলে আমার সহকর্মীরা পিস্তল নিয়ে ডিউটি করত, এটা কোনো অপরাধ নয়। কয়রায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন সুন্দরবনের বনদস্যু ও ডাকাতদের হটাতে গুলি চালাতে হত।

তিনি বলেন, ‘এটা খুব সহজ জিনিস, কিন্তু উনি (নিয়াজ মাহবুব) পারিবারিক দেখাদেখির মানে দেখে নেব- এই মনমানসিকতা থেকে নেগেটিভ ভাবে উপস্থাপন করেছেন।

শিশুদের হাতে বন্দুক তুলে দেওয়া ঠিক ছিল কি না জানতে চাইলে জুয়েল বলেন, তখন তো বন্ধুবান্ধব আমরা এমনি ফায়ার করতাম। একটা গাছ টার্গেট করে ফায়ার করতাম, আমার যেহেতু অস্ত্র আছে দুইটা, আমার ওয়াইফ ও আমার ছেলেমেয়েরা একটু শিখত। শ্যুটিং একটা স্পোর্টস। এরা এখন থেকে শিখলে এটা ঠিক হবে, এটুকুই।

বাচ্চাদের আগ্নেয়াস্ত্র চালনা শেখানো নৈতিক ভাবে কতটুকু ঠিক এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটা বাচ্চারা শখ করে করেছে। তবে এটা করা ঠিক হয়নি। সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

সূত্র যুগান্তর

 

আরও পড়ুন

দেশমাতার কাছে নিরাপত্তা চাইলেন পরীমণি

নীলাকাশ টুডেঃ দেশমাতার কাছে একটু নিরাপত্তা চেয়েছেন অভিনেত্রী পরীমণি। সোমাবার বিকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি এই নিরাপত্তা চেয়েছেন।

পরীমণি তার পোস্টে লিখেছেন, দেশমাতা, আমাকে কি একটু নিরাপত্তা দিতে পারেন! রাস্তায় মানুষগুলোও এতো অনিরাপদ না। একবার একটু দেখেন না আমার দিকে, কি করে বেঁচে আছি।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর হাতে লেখা একটি চিঠির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লড়াই করে বেঁচে থাকার নেপথ্যের গল্প তুলে ধরে ছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “একটা চিঠি। আমার সব শক্তির গল্প এখানেই।” পোস্ট করা চিঠিতে দেখা যায়, “নানু আমি ভালো আছি। কোনো চিন্তা করবা না। তোমার সাথে শিগ্রই দেখা দিবো।”

চিঠির বিষয়ে পরীমণি জানান, “আমি গ্রেফতার হওয়ার পর নানু ভাই আমাকে চিঠিটি দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই আমি এটি অক্ষত রাখার চেষ্ঠা করেছি। আটক, রিমান্ড, জেলসহ নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত আমি এটি অক্ষত রাখতে পেরেছি। এই চিঠিটি আমার জীবনের একটি শক্তি।”

গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে মাদকসহ পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‌্যাব। এরপর ৫ আগস্ট র‌্যাব বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমণি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। এরপর রিমান্ড-জেল শেষে গত ৩১ আগস্ট ৫০ হাজার টাকা মুচলেকা ও তিন বিবেচনায় পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।

আরও পড়ুন

সরকারি কলেজের ছাত্রীদের টয়লেটে ফুটফুটে নবজাতক

নীলাকাশ টুডেঃ খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্রীদের কমন রুমের টয়লেট থেকে এক নবজাতক উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ নবজাতককে উদ্ধার করে। নবজাতকের মা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিক উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ২০২১ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়ার নির্ধারিত দিনে অনেক শিক্ষার্থী এসেছিল। ছাত্রীদের কমন রুমের টয়লেটে নবজাতকের কান্না শুনে শিক্ষার্থীরা খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি চলছে।

খাগড়াছড়ি শহর সমাজসেবা কেন্দ্রের পরিচালক নাজমুল আহসান বলেছেন, কলেজের টয়লেটে নবজাতকের কান্না শুনে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাকে নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোনো অভিভাবক চাইলে শিশুটিকে দত্তক নিতে পারবে।