নীলাকাশ টুডেঃ ভাড়াটে খুনি দিয়ে বাবাকে হত্যা করার বহু নজির আছে। তবে এই নারী বাবাকে খুন করার জন্য যা করলেন তা সত্যিই নজিরবিহীন।কারণ বাবাকে খুন করার জন্য এতোটাই বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিলেন যে এই কাজের বিনিময়ে তিন ডাকাতকে বাড়িতে প্রবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। রোববার একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার ওই নারী প্রথমে বাবাকে বিষ প্রয়োগে খুন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যান বাবা। এরপরই ওই তিন ডাকাতের শরণাপন্ন হন তিনি। তারা ওই নারীর বাবাকে গুলি করে হত্যা করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে বিনিময়ে তাদের ডাকাতি করতে দিতে হবে বলে শর্ত দেয় ডাকাতদল।

এরপর ওই তিন ডাকাত ২৮ সেপ্টেম্বর ওই বাড়িতে ডাকাতি করতে যায়। সে সময় গুলি করে মেয়েটির বাবাকে হত্যা করা হয়।

তবে গুলির শব্দে স্থানীয়রা চলে আসায় তারা আর ডাকাতি করতে পারেননি বলে ওই প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ওই ঘটনার তদন্তে পুলিশ নিহত ব্যক্তির মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এ ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। এ মেয়েটির অসংলগ্ন আচরণের কারণে পুলিশের সন্দেহ হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মেয়েটি বাবাকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনিদের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় বিষ প্রয়োগে বাবাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।

তিন ডাকাত ও মেয়েটিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে কেন মেয়েটি বাবাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

এমডির গাড়িতে থাকা সেই লাশের পরিচয় মিলল

নীলাকাশ টুডেঃ রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার সাউদার্ন সিএনজি স্টেশনের বিপরীত পাশের সড়কে পড়ে থাকা একটি প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম সঞ্জয় কুমার ঘোষ। বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়।

তিনি ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কালাম হোসেনের গাড়ি চালক। যে গাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেই গাড়িটি তিনিই চালাতেন। এদিকে লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা হয়নি।

শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সঞ্জয়ের লাশটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুই দিন ধরে টয়োটা ব্রান্ডের এসইউভি গাড়িটি ঘটনাস্থলে পড়েছিল। শনিবার রাতে গাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।পরে পুলিশ গিয়ে গাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে।

ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের জিএম আহসানুল হক যুগান্তরকে জানান, গত ৭ অক্টোবর মহাখালীর অফিস থেকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কালাম হোসেনকে বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার পর থেকে গাড়িসহ নিখোঁজ ছিলেন সজল কুমার। তিনি ধানমন্ডি থেকে মহাখালী যাচ্ছিলেন। কারণ গাড়িটি মহাখালীর অফিসেই পার্কিং করে রাখা হতো। ওইদিন বিকাল তিনটার পর থেকে গাড়ি এবং চালকের হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। এই ঘটনায় শনিবার ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

এহসানুল হক আরও জানান, সঞ্জয়ের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে জানা নেই।সঞ্জয় প্রায় ২ বছর ধরে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের গাড়ি চালাতেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি।তবে কে বা কারা, কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে- তা এখনো জানতে পারিনি।বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। গাড়িটি যেখানে ছিল সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। এর মাধ্যমে খুনীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছোটভাই সুমন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে মামলা করার কথা রয়েছে। মামলার এজাহার লিপিবদ্ধ করা হলেও তিনি এতে স্বাক্ষর করছেন না। এ কারণে মামলা রেকর্ড করা যাচ্ছে না। সুমনকে কেউ ভয় দেখিয়েছে কি না- সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলা করতে বাদীর খুব একটা আগ্রহ দেখছি না।

পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, যদি কেউ মামলা না করে তাহলে শেষ পর্যন্ত পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। বিষয়টি পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজ আল ফারুক এবং সহকারী কমিশনার আশিক হাসান মনিটরিং করছেন।