নীলাকাশ টুডেঃ ঢাকাই ছবির নায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ পাঁচজন’ কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে তিন জন নারী রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফূর্তির জন্য মাসিক টাকা দিয়ে নারীদের রাখতেন নাসির ইউ মাহমুদ।

নাসির উদ্দিন ও অমি ছাড়া গ্রেফতার অন্য তিন নারী হলেন, লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯)
ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা (২৪)।

 

সোমবার দুপুরে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, এটা অমির বাসা। পরীমণির সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে নাসির তার তিন রক্ষিতাকে নিয়ে এ বাসায় পালিয়ে ছিলেন। মাদক রাখার অভিযোগে সে তিন জনকেও আমরা গ্রেফতার করেছি।

ওই বাসাটিতে অভিযান পরিচালনার সময় বিভিন্ন ব্যান্ডের বিদেশি মদ-বিয়ার ও ১ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার মেয়েদের দেখানো জায়গা থেকে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।

নাসির বলেছেন, নাসিরের বিরুদ্ধে আগেও মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। নানা অভিযোগে তাকে উত্তরা ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জেনেছি। কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আমরা সেগুলোর তদন্ত করব।

পরীমণি ক্লাবের সদস্য না হয়ে সেখানে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, সে (পরীমণি) স্বনামধন্য নায়িকা। ওখানে (বোট ক্লাব) যেতেই পারেন। গেলে যে তাকে ওখানে হ্যারেজ (হয়রানি) করবে সেটা ঠিক না। আসলে কী ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্ত করে বলতে পারব।

তিনি বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন পরীমণি। সংবাদ সম্মেলনের পরপরই আমরা অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, তবে যেহেতু রাতে মামলা হয়নি, তাই আমরা অ্যাকশনে যাইনি। সাভার থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করি।”

“হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় নাসিরকে সাভার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে বর্তমানে মাদক উদ্ধারের মামলায় জিজ্ঞাসা- বাদের জন্য তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার পরীমনি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটি থানায় আমলে নেওয়া হয়নি, এই বিষয়ে কী করবেন জানতে চাইলে হারুন- অর- রশিদ বলেন, ‘আমরা পরীমনির সঙ্গে কথা বলব। আমরা প্রতিটি অভিযোগকে খতিয়ে দেখছি। আমরা তো এদের সাভার থানার মামলা থেকেই গ্রেফতার করেছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার করেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি।

আরও পড়ুন

কে এই নাসির, কেন তার বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার,,,,,

নীলাকাশ টুডেঃ ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টা করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমিসহ পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডে নাসির উদ্দিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর-তেজগাঁও, গুলশান, মিরপুর ও উত্তরা) এবং সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশীদ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

এর আগে দুপুরে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদসহ ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাসিরের বাসায় প্রবেশ করে। এসময় নাসির তার বেডরুমে খাটের ওপর বসা ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে ডিবি। তবে সেগুলো অনুমোদিত কিনা তা যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

 

গোয়েন্দা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, উত্তরার এক নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাসা থেকে নাসির উদ্দিন মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তিন জন নারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ওই বাসা থেকে কিছু মাদকও জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেছেন, গুলশান বিভাগে একটি টিম অভিযানে এসেছে। আমরা জানি, পরীমণি একটি হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন। মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নাসিরের বাসায় আসছি, অভিযান চালাচ্ছি।

নাসির ইউ মাহমুদ ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য। তিনি ৩৭ বছর ধরে ডেভেলপার ব্যবসায়ে আছেন। ১০ বছর ধরে মাহমুদ কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। কুঞ্জ ডেভেলপার্সের আগে তিনি মাহমুদ বিল্ডার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের এমডি ছিলেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেন। তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান সরকারের গণপূর্ত অধিদফতর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি), রাজউক, রেলওয়েসহ সরকারি-বেসরকারি নানা ঠিকাদারি কাজ করেন।

নাসির ইউ মাহমুদ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সাবেক নির্বাহী পরিষদের সদস্য। তিনি ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের উত্তরা ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি, লায়ন ক্লাবের ঢাকা জোনের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাপার ৯ম কাউন্সিলে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়।