শিক্ষা

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেলেন শ্যামনগরের ইসমাইল হোসেন

  মোঃ শাহাজান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ৫ মে ২০২৩ , ৩:১২:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

 

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯ এর প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের তালিকা তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৭৮ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হন। তার মধ্যে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ এর ৪ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে। রবিবার (৩০ এপ্রিল) ইউজিসির রিসার্চ সাপোর্ট এন্ড পাবলিকেশন ডিভিশনের পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

ইসমাইল হোসেন মিয়ারাজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম” বিভাগ থেকে ২০১৯ সালে স্নাতক এবং ২০২০ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন । সে ব্যবসায় অনুষদ এবং ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

ইসমাইল হোসেন মিয়ারাজ বেড়ে উঠেছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের খালিশাবুনিয়া (চকবারা) গ্রাম থেকে। এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা ও সুন্দরবন তীরবর্তী একটি উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল । এস এম আবু মুছা ও মোছাঃ জেবুন্নেছা খাতুন এর ২ সন্তানের মধ্যে ইসমাইল হোসেন বড় সন্তান। তার ছোট ভাই মিনহাজ হোসেন এইচএসসি তে জিপিএ ৫ পেয়ে এডমিশন এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের বাবা পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকতা বর্তমানে কৃষক।

ইসমাইল হোসেন ছোট বেলা থেকেই এই উপকূলীয় লবণাক্ত পরিবেশ অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার এর মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। তিনি ২০১২ সালে নওয়াবেকী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৪ সালে নওয়াবেকি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তারপরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগে ২০১৫-২০১৬ সেশনে অধ্যায়নের জন্য ভর্তি হন। একাডেমিক লাইফে তিনি অনেক অনেক পরিশ্রম করেছেন। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক- ২০১৯ পেতে যাচ্ছে এজন্য তিনি অনেক আনন্দিত। শ্যামনগর উপজেলা সহ গাবুরা ইউনিয়নের সকলেই এ সুখবর পেয়ে সকলের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে সকলেই আনন্দিত ও তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছে ।

ইসমাইল হোসেন এর সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
উপকূল এলাকা থেকে বেড়ে উঠা খুব সহজ বিষয় ছিল না। শহরের অন্যান্য ছেলেদের মতো আমাদের উপকূলীয় জীবনযাপন ছিল অনেকটা আলদা, পরিশ্রম ও কষ্টের। বার বার প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও বছরের অধিকাংশ সময় লোনা পানিতে ডুবে থাকা দূর্বিষহ জীবন একদিকে যেমন বড় ঝুঁকি অন্যদিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, নৌকা পারাপারের মধ্যদিয়ে স্কুল, কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ভাল একটা জায়গায় স্থান পাওয়া অনেকটা অসাধ্যের ছিল। কিন্তু পরম করুনাময় আল্লাহর রহমতে, পরিবারের সকল সদস্যের ও নিজের পরিশ্রম সাথে পিতৃসুলভ মামা মো: মিজানুর রহমান, স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বন্ধুবান্ধবদের সমর্থন আজ এ পর্যন্ত আসতে সহযোগিতা করেছে। নিজের প্রবল ইচ্ছা থাকলে সব বাধা অতিক্রম করেও ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব। আমি চাই সকলেই যেন নিজেদের মনের ভিতরে বড় হওয়ার ভাল কিছু আশা নিয়ে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সাফল্যের চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে যেতে পারে। আমি সকলের কাছে দোয়া চাই যেন জীবনে আরো ভাল কিছু করে পরিবার ও আমার অঞ্চলের নাম বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে পারি ।

আরও খবর: শিক্ষা