নীলাকাশ টুডেঃ কুমিল্লা নগরীর একটি পূজামণ্ডপে হনুমান মূর্তির কোলে পবিত্র কুরআন শরীফ রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এতে ৫ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে ।
বুধবার বেলা ১২ টার দিকে নগরীর নানুয়া দীঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার রাতে নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে হনুমান মূর্তির কোলে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে বুধবার সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ মানুষ নানুয়ার দিঘিরপাড়ে জড়ো হয়ে মিছিল করেন।

পূজা মন্ডপ এলাকার চতুর্দিকে শতশত মানুষ জড়ো হয়ে যায়৷ তারা মিছিলে শ্লোগান দিতে থাকেন, এত বড় অপরাধের পর ও পূজা বন্ধ না করে চালিয়ে যাবার ধৃষ্টতা দেখাতে চায় প্রশাসনের কতিপয় লোকজন। সেখানে পুলিশ গোলাগুলি করে। পুলিশের গুলিতে অনেক সাধারণ জনতা আহত হন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। কুরআনে কারিমের অপমান ঘটানোর পরও পূজা মন্ডপের পূজা বন্ধ না করে উল্টো ক্ষোভরত জনতার উপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

তারা বলেন, আজ যদি কোনো মাসজিদের ভিতরে নিয়ে মূর্তি পোড়ানো হতো তাহলে সেই মাসজিদ কমিটির ১৪ গুষ্টির জেল হতো। আদৌ সেই মাসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি হতো কিনা সেটা সন্দেহ আছে।

সূত্র জানায়, ওই এলাকায় কয়েক শত মানুষ জড়ো হয়ে দুটি মণ্ডপে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এতে প্রায় পাঁচ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেছেন, আমরা পবিত্র কোরানের মর্যাদা বুঝি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা আমাদের বলেছেন, পূজা বন্ধ রাখতে। আমরা তাদের পূজা চালিয়ে যেতে বলেছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ইসলামেও কারও ধর্ম পালনে বাধা দেওয়ার বিধান নেই।