সম্পাদকীয় কলামঃ মোঃ নুরুজ্জামান- সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন শ্লোগান হৃদয়ে ধারণ করা দৈনিক দৃষ্টিপাত বিশ বছর পূর্ণ করে একুশে পা রাখলো। আলোচনা সমালোচনাকে পিছনে ফেলে বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া সুদক্ষ প্রকাশক ও সম্পাদকের সত্যের পথে অবিচল থাকা দৃষ্টিপাত সাতক্ষীরার গর্ব। দৃষ্টিপাত সাতক্ষীরার জেলা ডিঙিয়ে খুলনার বিভাগের আরও কয়েকটি জেলায় পাঠকের ভালোবাসায় সিগ্ধ হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে দৈনিক দৃষ্টিপাতের সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব জি এম নুর ইসলাম এর সত্যবস্তু নিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্যে। দৃষ্টিপাতের বিশেষ একটি গুন রয়েছে। গুনটি হলো, দৃষ্টিপাতের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টিপাত পত্রিকায় প্রতিবাদ ছাপানো হয় না। এতেই প্রমানিত হয় দৃষ্টিপাত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে আপসহীন।

দৃষ্টিপাত যে হলুদ সাংবাদিকতাকে সমার্থন করে না তার বাস্তব উদাহরণ এটি। যার ফলে দৃষ্টিপাত সাতক্ষীরার জনপ্রিয় পত্রিকা হিসেবে ছোট থেকে বড় সবার হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে। এটা পাঠক হিসেবে আমারও খুব ভালো লাগে। আমি অন্য একটি পত্রিকার একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে শ্যামনগর উপজেলার দৃষ্টিপাতের আরও কিছু পাঠকের সাথে কথা বলি। তাদের কাছে জানতে চাই, অন্য কোন পত্রিকা না পড়ে কেন দৃষ্টিপাত পড়েন? কয়েকজন আমাকে জানিয়েছেন, প্রথম সকালে দৃষ্টিপাত না পড়লে আমাদের দিনের শুরুতে মন খারাপ লাগে। কোন কিছু ভালো লাগে না৷ এছাড়া দৃষ্টিপাতের বিশেষ প্রতিনিধি এস এম জাকির হোসেনের বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে দৃষ্টিপাতের কল্যানে শ্যামনগরের প্রত্যান্ত অঞ্চলের সংবাদগুলো জানতে পারি। আমাদের শ্যামনগরের সংবাদগুলো দৃষ্টিপাতে গুরুত্ব সহকারে সম্পাদক প্রকাশ করে থাকে। জাতীয় সংবাদের পাশাপাশি আঞ্চলিক সংবাদগুলো এই পত্রিকায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের ভাষায় জাতীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো ৪পৃষ্ঠার এই পত্রিকা থেকে জানতে পারেন। ২০০১ সালের ১০ই অক্টোবরে সাতক্ষীরার আকাশে দৃষ্টিপাত জন্ম হয়েছিল, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় শিশু দৃষ্টিপাত আজ তরতাজা হৃষ্টপুষ্ট আলোক বর্তিকা। শিশু কিশোর, পেরিয়ে দৃষ্টিপাত স্ব-মহিমায়, আলোক উজ্জ্বল আভার বিকরন ছড়িয়ে প্রতিনিয়ত জানিয়ে দিচ্ছে দৃষ্টিপাত কেবল পাঠকের এবং অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা সর্বোপরি হলুদ সাংবাদিকতার প্রতিপক্ষ। দৃষ্টিপাতের আরও একটি গুন হলো, সত্যকে সত্য মিথ্যাকে মিথ্যা বলার অদম্য সাহস। এছাড়া প্রতিদিন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাকডাকা ভোরে গরীবের কুটির হতে ধনীর অট্টালিকায়, গ্রামীন জনপদ হতে শহরের কোলাহলময় প্রান্তরে দৃষ্টিপাত পৌছে যাচ্ছে। করোনা কালিন সময়েও দৃষ্টিপাত তার প্রকাশ বন্ধ করেননি। তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই সময়গুলোতে প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও পাঠকের দৃষ্টিপাতকে রোধ করতে পারেনি। শিক্ষা, সাহিত্য, উন্নয়ন সংস্কার, সহ সব ধরনের জনবান্ধব খবরের ক্ষেত্রে দৃষ্টিপাতের গুরুত্বে অনেকেই উৎসাহিত হয়। একুশ বছরে পা রাখা দৃষ্টিপাতের এই জন্মদিনে শুভ কামনা। আগামীতেও হাজার বছর ধরে বেঁচে থাক সকলের প্রিয় পত্রিকা দৃষ্টিপাত। সেই প্রত্যাসা করছি।

লেখক- চেয়ারম্যান, নীলাকাশ গ্রুপ

কেউ লেখাটি কপি করে নিজের নামে দিবেন না,,