নীলাকাশ টুডেঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচ জিতে একম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করল পাকিস্তান। চলতি বছরে এ নিয়ে ১৯ টি-টোয়েন্টি জিতল বাবর আজমরা। এক বর্ষপঞ্জীতে এটাই রেকর্ড জয়।

এর আগে ২০১৮ সালে রেকর্ড ১৭ ম্যাচে জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। নিজেদের সেই রেকর্ড ভেঙ্গে এবার নতুন ইতিহাস গড়ল বাবর আজমরা।

মঙ্গলবার করাচি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান করে পাকিস্তান। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩১ রানে ২ উইকেট হারায় উইন্ডিজ।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা অধিনায়ক নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে নিয়ে ৪৬ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন ওপেনার ব্রান্ডন কিং। তাদের এই জুটিতেই জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল উইন্ডিজ।

এরপর সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। ২৬ বলে ২৬ রান করে দলীয় ৮৫ রানে ফেরেন অধিনায়ক নিকোলাস। ১১ বলে ৪ রানে ফেরেন রোভম্যান পাওয়েল। ইনিংসের শুরু থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া ব্রান্ডন কিং ফেরেন ক্যাচ তুলে দিয়ে। তার আগে ৪৩ বলে ৬টি চার ও তিন ছক্কায় দলীয় সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন তিনি।

৬ বলে ১২ রান করে ফেরেন ওডিন স্মিথ। ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে পরপর দুই বলে ডমিনিক ড্রাকস ও হিডেন ওয়ালসকে আউট করেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। নিজের ঠিক পরের ওভারে আকিল সোহেনকে রান আউট করেন শাহিন।

শেষ দিকে একের পর এক উইকেট পতনের কারণে জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় উইন্ডিজ।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। ওভারের প্রথম বলে ডাবল আর দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাকান রোমারিও শিফার্ড। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নেওয়ার সুযোগ পেয়েও বাউন্ডার হাঁকানোর আশায় স্টাইক বদল করেননি তিনি রোমারিও।

চতুর্থ বলে চার মেরে দলকে জয়ের কিঞ্চিত আশা জাগান শিফার্ড। জয় পেতে হলে শেষ দুই বলে ১১ রান করতে হতো ক্যারিবীয়দের। কিন্তু পঞ্চম বলে সিলেঙ্গ রানের বেশি নিতে পারেননি শেফার্ড। শেষ বলে ক্যাচ তুলে দেন ওশান থমাস। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১৬৩ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯ রানের জয় পায় পাকিস্তান।

এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে হায়দার আলীর সঙ্গে ৪৮ রানের জুটি গড়ে ফেরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। আগের ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৮ রান করা এই ওপেনার এদিন ফেরেন দলীয় সর্বোচ্চ ৩৮ রান করে।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৩৪ বলে ৩১ রান করে ফেরেন হায়দার আলী। আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নেন মোহাম্মদ নওয়াজ, আসিফ আলী ও মোহাম্মদ ওয়াসিমরা।

শেষ দিকে ব্যাটসম্যানদের এই আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন ইফতেখার আহমেদ ও শাদাব খান। ১৯ বলে ৩২ রান করে ফেরেন ইফতেকার।

ইনিংসের একিবারে শেষ দিকে নেমে মাত্র ১২ বলে এক চার আর ৩ ছক্কায় ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে ১৭২/৮ রানে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন লেগ স্পিনার শাদাব খান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৭২/৮ রান (মোহাম্মদ রিজওয়ান, ৩৮, ইফতেখার আহমেদ ৩২, হায়দার আলী ৩১, শাদাব খান ২৮*)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৬৩/ ১০ রান (ব্রান্ডন কিং ৬৭, রোমারিও শিফার্ড ৩৫*, নিকোলাস পুরান ২৬, ওডিন স্মিথ ১২; শাহিন আফ্রিদি ৩/২৬)।

ফল: পাকিস্তান ৯ রানে জয়ী।