নীলাকাশ টুডেঃ আজ বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মিডিয়াতে কী লিখল আর টকশোতে কী বলল, ওসব নিয়ে আমি দেশ পরিচালনা করি না। আমি দেশ পরিচালনা করি অন্তর থেকে। ’ আজ বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

‘টকশোতে সমালোচকরা অভ্যাসবশত সরকারের সমালোচনা করে’, এ কথা উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, ‘আছে কিছু লোক। আছে না? যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। এই অবস্থায় কিছু লোক ভুগে। আর কিছু লোক আছে হতাশায় ভুগে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মানুষের একটা বদঅভ্যাস হয়ে গেছে, কথায় কথায় হতাশ হওয়া। আর যতই কাজ করি তারপরও বলবে, এটা হলো না কেন, ওটা হলো না কেন? আমি একটু বলব; এটা না বলে আগে কী ছিল আর এখন কী আছে সেটা দেখলেই তো হয়ে যায়। সেটা দেখতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য বছরের পর বছর তিনি জেল খেটেছেন।

নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোর জন্য কী কাজ করতে হবে, যেটা শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকে মায়ের কাছ থেকে আমি সেটাই কাজে লাগাই। মানুষ তার সুফল পাচ্ছে কি না? সেটা যাচাই করি। কে কী বলল ওটা শুনে হতাশ হওয়া বা উৎসাহিত হওয়া আমার সাজে না, আমি করিও না। এটা হলো বাস্তবতা।

 

আরও পড়ুন

অনিবন্ধিত সব অনলাইন বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না- তথ্য মন্ত্রী

নীলাকাশ টুডেঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সাতদিনের মধ্যে অনিবন্ধিত সবগুলো অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হবে। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আদালতকে আমরা জানাবো সাতদিনের মধ্যে সবগুলো বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না।

অনেকগুলো বন্ধ করবো, আদালতকে জানাবো, আসলে কি প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে।
কিছু গণমাধ্যমকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে- জানতে তিনি বলেন, আবেদনের পর যাচাই- বাছাই করার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগুলো তদন্তকারী সংস্থাকে দেয়। সেটি শেষ করে না আসা পর্যন্ত আমরা দিতে পারি না। এ কারণেই সময় লাগছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন যেগুলো রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত, সেগুলো ছাড়া আর কোনো অনলাইন ভবিষ্যতে বের হবে না, তেমন নিয়মতো নেই। যেসব অনলাইন সত্যিকার অর্থে গণমাধ্যম হিসেবে কাজ করে না বরং নিজস্ব বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে এবং ব্যাঙের ছাতার মতো এত অনলাইন দেশে প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, যার যেমন ইচ্ছে একটি অনলাইন খুলে বসবে এবং সেটি নিয়ে যেমন ইচ্ছে তেমন সংবাদ পরিবেশন করবে, মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করবে, গুজব রটানোর কাজে ব্যস্ত হবে, অন্যের চরিত্র হনন করবে, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে, কোন ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সেখানে লেখালেখি হবে, এটি কখনোই সমীচীন নয়। সেক্ষেত্রে এ আদেশ অবশ্যই একটি সহায়ক আদেশ।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা আদালতের লিখিত কপি পাওয়ার পর যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, সে সময়সীমার মধ্যে অবশ্যই কিছু অনলাইন বন্ধ করবো। তবে ভবিষ্যতেও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে। একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।

আমরা আদালতের কাছে সে বিষয়টি উপস্থাপন করবো। কিছু অনলাইন আমরা বন্ধ করবো। ইতি মধ্যে কিছু বন্ধও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আমরা আদালতের নজরে এটিও আনবো, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং যাচাই -বাছাই ছাড়া সবগুলোকে একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেটিও কতটুকুক সমীচীন, সেটিও ভাবার বিষয়। সেজন্য আমরা আদালতের নজরে আনবো।

 

আরও পড়ুন

নিউজপোর্টাল বন্ধ করাটা আত্মঘাতি হবে- প্রেস ইউনিটি

যেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কথা বলে বর্তমান সরকার পরপর ৩ বার ক্ষমতায় এসেছে এবং আছে, সেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর অন্যতম মাধ্যম অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করাটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন অনলাইন প্রেস ইউনিটির নেতৃবৃন্দ। ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টায় অনলাইন প্রেস ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। এতে কার্যকরী সভাপতি এ্যাড. নূরনবী পাটোয়ারী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান একরামুল হক লিটন গাজী, হাবিবুর রহমান চৌধুরী, সফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন অনলাইন প্রেস ইউনিটির ৪ দফা বাস্তবায়নে সংবাদযোদ্ধাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভূমিকা রাখতে হবে। আর সেই ৪ দফা হলো- ১. ১০ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা-স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রমাণিত সংবাদযোদ্ধাদের দক্ষতার আলোকে সহজ শর্তে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধন প্রদান এবং অনলাইন-প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদ যোদ্ধাদের মধ্যে দেশবিরোধী- দুর্নীতিবাজ ও ভূঁইফোরদেরকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে থানা -জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। ২. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংবাদপত্র ও সংবাদকর্মী বান্ধব আইনী প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩. থানা ও জেলা পর্যায়ের সংবাদযোদ্ধাদেরকে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা মাসে সরকারী ভাবে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. সাগর-রুণী ও মুজাক্কির সহ সকল সংবাদকর্মী হত্যার বিচার বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংবাদযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় করা রাজনীতিকদের মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এসময় মোমিন মেহেদী বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রকৃত প্রতিনিধিরা সংবাদযোদ্ধাবান্ধব বাংলাদেশ দেখতে চায়। আর তাই সংবাদযোদ্ধাদেরকে নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ভাগাভাগি বন্ধ করে সাংবাদিক ইউনিয়নকে একটি ব্যানারে রাখতে হবে।