মোঃ নুরুজ্জামানঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগরে মহাজনি সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ নাকি সন্তুষ্ট এবারে থাকছে নীলাকাশ টুডের দ্বিতীয় পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। বহু পরিবার সুদের যাতা কলে সর্বহারা হয়ে গেলেও কিছুই বলতে চাচ্ছে না। কারণ হিসেবে অনেকেই সম্মানের কারণে বলতে চাচ্ছে না। তবে কেউ কেউ বলেছে আপনাদের সাথে বললে কি সুদের হাত থেকে আমরা বাঁচতে পারবো?

যদি আপনাদের সাথে বলি তাহলে আমাদেরই লস হবে পরবর্তীতে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি তারা আর আমাদের বিপদে টাকা দিবে না।

একদিকে চলছে মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হার বৃদ্ধি। অন্যদিকে সুদের হার বেড়েই চলেছে। অপরদিকে সরকার লক ডাউন দিয়েছে। যার ফলে মধ্যেবিত্ত পরিবার ধংস হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হচ্ছে। তার উপর সুদের গ্যাড়াকলে পড়েছে।

শুধু নুরনগর না উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। যারা সুদে টাকা নিচ্ছে তাদের বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের সুদে টাকা না নিলে আমরা চলবো কি করে। টানা ১৫ মাস লক ডাউন চলছে দেশে। সরকার আমাদের বিনা সুদে লোন দিলে আমরা অবশ্যই সুদে টাকা নিবো না৷ প্রকৃত পক্ষে আমরা সুদের টাকা নিতে চাইনা। বিপদে পড়ে নিতে হয়। করোনার আগে সুদের কবলে পড়ে নুরনগর বাজারে মোহাম্মদ আলি হালদার নামে একজন বড় মাপের কাপড় ব্যবসায়ী দোকান ঘর বিক্রি করে ভারতে পালিয়ে যায়। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যাচ্ছে তিনি ভারতের কোলকাতা শহরে ঘাড়ে করে গামছা বিক্রি করছে। শুধু মোহাম্মদ হালদার নয় এমন শতশত উদাহরণ আছে। অনেকেই বলেছে সুদের কবলে কেউ সহজে পড়তে চাই না। অভাবের তাড়নায় সুদে কবলে পড়তে হয়। এর পিছনে ধনি ব্যক্তিদের কে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা। এই বিষয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য হচ্ছে আমাদের ধনীরা টাকা হাওলাদ দিলে আমাদের সুদখোরদের কাছে যাওয়া লাগতো না।

এই বিষয়ে উপজেলা ও জেলার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ চুপচাপ ছিলেন অদৃশ্য কারনে। শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর বাজারে কে বা কারা সুদের সাথে জড়িত কারো অজানা নয়। বড় বড় সুদখোরদের আড্ডা চলছে নুরনগর সহ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে।

জানা যায়, নুরনগর বাজারের সুদের কারবারে জড়িতরা নাম মাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে এক হাজার টাকার বিনিময়ে দৈনিক ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। স্টাম্পের উপর লিখেও নেন।

ভুক্তভোগীরা বিপদে পড়ে ব্যাংকের চেক, স্টাম্প, স্বর্ণের গহনা বন্ধকরূপ রেখে টাকা নেন। এই বিষয়ে দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।