স্টাফ রিপোর্টারঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগরে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অপদ্রব্য পুশের সময় আটক চিংড়ি (বাগদা) বিতরণের পর তা পুনরায় মালিকরা কিনে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযান শেষে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগের পরপরই মালিকের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় থেকে পুশকৃত সে সব চিংড়ি সংগ্রহ করে।

জানা গেছে, ওই চিংড়ি মাছ রপ্তানী উপযোগী করতে যাবতীয় কার্যক্রম শেষে রাতেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে (হিমাগার) পাঠিয়ে দেয়া হয় একই চিংড়ির ঐ চালান। আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর বাজারে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায় এলিট ফোর্স র‌্যাবের সাতক্ষীরা ইউনিটের একটি আভিযানিক দল সোমবার বেলা এগারটার দিকে নুরনগর বাজারে অভিযান চালায়। এসময় রপ্তানীর জন্য প্রস্তুতকৃত এসব চিংড়ির মধ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে অপদ্রব্য পুশের বিষয়টি হাতেনাতে ধরে র‌্যাব সদস্যরা। এক পর্যায়ে উক্ত বাজারের চার প্রতিষ্ঠানকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

এসময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পুশের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ সাবু, ময়দা উদ্ধারের পাশাপাশি প্রায় ৩০০ কেজি অপদ্রব্য পুশকৃত বাগদা জব্দ করেন তারা। অভিযানের শেষে সংশ্লিষ্টরা আটককৃত যাবতীয় চিংড়ি আশপাশের এলাকাসমুহে গড়ে উঠা এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোতে বিতরণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগের পরপরই বেলা তিনটার দিকে ঐ চার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার লোকজন বিতরণকৃত মাছ উদ্ধারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এসময় তারা একে একে বিতরণের চিংড়ি পাওয়া আশপাশের এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোতে পৌছে অপদ্রব্য পুশকরা সেসব চিংড়ির চালান ফিরিয়ে নেয়।

স্থানীয়দের দাবি, এতিমখানা ও মাদ্রাসাসমুহ থেকে চিংড়ির চালান ফিরিয়ে নেয়ার বিনিময়ে কতৃপক্ষকে নগদ পাঁচ হাজার করে টাকা দেয় সংশ্লিষ্ট চিংড়ির মালিকরা। এসময় স্বল্প পরিমান চিংড়ি এতিমখানা ও মাদদ্রাসার বাচ্চাদের খাওয়ার জন্য মালিকের লোকজন দিয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসা ও এতিমখানার এক জন শিক্ষক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিতরণের কয়েক ঘন্টার মধ্যে মালিকের লোকজন স্বশরীরে এসে চিংড়ি চালান দাবি করে। পরবর্তীতে কোন ঝামেলা বা বিড়ম্বনায় পড়ার শংকা থেকে তাদের দাবি মেনে নিয়ে পাত্রসহ চিংড়ি ফেরত দেয়া হয়। এসময় চিংড়ির চালান ফিরিয়ে দিতে সম্মত হওয়াতে তাদেরকে স্বল্প পরিমান চিংড়ির পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকাও দেয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে প্রকাশ্য কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না।