নীলাকাশ টুডেঃ গাজীপুরের ‍পূবাইলের একটি রিসোর্টে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন ঢাকার একটি কোম্পানির ১৮ জন কর্মী। ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএসের অফিস থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তারা বের হন। এরপর থেকেই তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা মোবাইল ফোনও রিসিভ করছিলেন না।

পরে রাতে জানা যায়, তাদের আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, আটকরা যে কোম্পানিতে কাজ করেন, সেই প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীনভাবে অনলাইনে সুদের ব্যবসা চালাচ্ছিল। তাদের কয়েক জনকে আটক করে যাচাই করা হচ্ছে।

আটক ১৮ জনের সবাই বারিধারা ডিওএইচএসএর নিউ মিরাকল ফিনটেক বিডি নামের একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে একটি বাসে (কোস্টারে) করে তারা পূবাইলের অরণ্যবাস রিসোর্টের উদ্দেশে অফিস থেকে বের হন। কিন্তু তারা বিকাল পর্যন্ত ওই রিসোর্টে না পৌঁছায় স্বজন ও বন্ধুরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

অরণ্যবাস রিসোর্টের মালিক মাহাবুবুর রহমান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ওই কোম্পানির কর্মীরা দিনভর থাকার বুকিং দিয়েছিলেন। তাদের রিসোর্টে রাতে থাকার সম্ভাবনাও ছিল। তাদের খাবার ও রুম প্রস্তুত ছিল। কিন্তু রিসোর্টে আসেননি তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, এরা অনলাইন সুদের ব্যবসা করে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সবাই চীনের। তারা বাংলাদেশিদের ব্যবহার করে ২ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে এক মাসে ৪ হাজার টাকা নেয়। মাইক্রোক্রেডিট দেখিয়ে অনলাইন প্লাটফর্মে বিদেশিরা এসে মহাজনী ব্যবসার মতো করছে। এটার কোনো অনুমোদন নেই। যাদের আনা হয়েছে, তাদের যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। যারা জড়িত নয়, তাদের ছেড়ে দিয়ে মূল মালিক যারা, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই ডিবি কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন

যে সুদ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে

নীলাকাশ টুডেঃ মাইক্রোক্রেডিটের (ক্ষুদ্রঋণ) নামে সারা দেশে অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী সমবায় সমিতি ও এনজিও
প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আদালতের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে দেওয়া মৌখিক আদেশের পর বুধবার বিচারপতি আবু তাহের মোঃ সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মোঃ জাকির হোসেনের লিখিত আদেশ প্রকাশ পায়। লিখিত আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আইনজীবী সুমন বলেন, বুধবার আমরা তিন পৃষ্ঠার লিখিত আদেশ হাতে পেয়েছি। দেশজুড়ে যেসব সুদকারবারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুদ নেওয়ার অনুমোদন নেই, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মাইক্রোক্রেডিটের (ক্ষুদ্রঋণ) নামে সারা দেশে অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী সমবায় সমিতি ও এনজিও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তালিকা করতে গিয়ে ওই সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের কার্যক্রমও বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত।

সেই সঙ্গে অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া ঋণদানকারী স্থানীয় সুদকারবারিদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন আদালত।

এ ছাড়া রুল জারি করেছেন আদালত। অর্থসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেন আদালত।