নবী-রাসুলদের জীবন কত সহজ-সরল ছিল তা আমরা বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কর্মময় জীবন থেকে সহজেই জানতে পারি।

বাস গৃহের ব্যাপারে তিনি (সা.) সাদাসিধা থাকা পছন্দ করতেন। সাধারণতঃ তার ঘরগুলো হত এক কামরার এবং তার সামনে ছোট আঙ্গিনা।

সেই কামরার মাঝখান দিয়ে টানানো থাকতো একটা রশি। সেই রশির ওপর কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে তিনি (সা.) আলাদা এক পাশে সাক্ষাৎ প্রার্থীদের সাথে কথাবার্তা বলতেন। তিনি চৌকি বা খাট ব্যবহার করতেন না। বরং, মাটির ওপরই বিছানা পেতে শুতেন।

তিনি জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে এত বেশী সাদা-সিধে ছিলেন যে, হজরত আয়শা (রা.) মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর বলেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবিতকালে আমাদেরকে কয়েকবার শুধু পানি আর খেজুর খেয়েই দিন কাটাতে হয়েছিল। এমনকি, যেদিন তার মৃত্যু হয় সেদিনও আমাদের ঘরে পানি ও খেজুর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। (বোখারি)।

 

হজরত রাসুল করিম (সা.)-এর বিছানাপত্রও ছিল নিতান্ত অনাড়ম্বর। সাধারণতঃ একটি চামড়া কিংবা উটের পশম দিয়ে তৈরী একটি কাপড়। হজরত আয়শা (রা.) বলেছেন, আমাদের বিছানা এত ছোট ছিল যে, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে ইবাদত করার জন্য উঠতেন তখন আমি এক পাশে সরে গিয়ে জড়ো হয়ে থাকতাম। কারন, বিছানা ছিল ছোট। যখন ইবাদতের সময় তিনি দাঁড়াতেন তখন আমি হাটু সোজা করতে পারতাম, আর যখন তিনি সিজদা করতেন তখন আমি হাটু জড়ো করে নিতাম। (বোখারি)।

পানাহারের ব্যাপারেও তিনি (সা.) সর্বদা অত্যন্ত সরল ছিলেন। খাবারের মধ্যে লবন বেশী হল বা কম হল কিংবা রান্না খারাপ হল এসব ব্যাপারে তিনি কখনই কিছু বলতেন না, বা অসন্তোষ প্রকাশ করতেন না। এ ধরনের খাবার যতটা সম্ভব খেয়ে নিয়ে তিনি রাধুঁনির মনোকষ্ট দূর করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তা যদি একেবারেই খাওয়ার অযোগ্য হয়, তাহলে তিনি হাত সরিয়ে রাখতেন এবং কখনোই বলতেন না যে, এই খাবার খেতে আমার অসুবিধা হচ্ছে’ (বোখারি)।

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনও এক নাগাড়ে তিন দিন পেট ভরে খাবার খাননি এবং এই অবস্থা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত পর্যন্ত চলেছিল’ (বোখারি)।

আজ আমরা যদি এই মহান ও শ্রেষ্ঠ রাসুলের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে চলি তাহলে আমাদের প্রতিটি পরিবার জান্নাতে পরিণত হবে সেই সাথে দেশ থেকে মুছে যাবে সকল অশান্তি।

মহানবী (সা.) হলেন মানবজাতির জন্য অনুকরণীয়, সব জগতের জন্য রহমত এবং আল্লাহর প্রিয় সেই স্বত্ত্বা যিনি আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি মানুষের দু:খ-কষ্ট লাঘব করার জন্য সারা রাত নিঘূর্ম কাটিয়েছেন।
তিনি (সা.) আল্লাহর সৃষ্টিজীব মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যে ব্যাকুলতার প্রদর্শন করেছেন এবং যে কষ্টে ও বেদনায় নিজেকে নিপতিত করেছেন তা দেখে আরশের অধিপতি স্বয়ং তাকে (সা.) সম্বোধন করে বললেন, ‘তারা মুমিন হচ্ছে না বলে তুমি কি নিজ প্রাণ বিনাশ করে ফেলবে?’ (সুরা আশ শোআরা, আয়াত: ৩)।

আমাদের সবার উচিত হবে, শ্রেষ্ঠ রাসুলের জীবন অনুসরণ করে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা, অসহায়দের সেবায় এগিয়ে যাওয়া, প্রতিবেশির খোজ নেয়া, অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেয়া, বস্ত্রহীনদের গায়ে বস্ত্র পড়িয়ে দেয়া।

আমরা যদি শুধু ব্যক্তিগত সার্থকে না দেখে সবার কথা ভাবি তাহলে এদেশে যেমন থাকবে না কোনো অভাবী তেমনি দেশের সকল প্রকার অপরাধও অনেকটা কমে যাবে।

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে বিশ্বনবীর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com