নীলাকাশ টুডেঃ ধান্ধা লীগে বিব্রত আওয়ামী লীগ শিরোনামে ঢাকার জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি সংবাদ নীলাকাশ টুডে এর পাঠকের জন্যে হুবহু তুলে ধরা হলো-

সংগঠনের নামের আগে ‘লীগ’ ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য কিংবা ‘মুক্তিযোদ্ধা’ নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার একযুগে ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে উঠেছে আট শতাধিক। ‘অনুমোদন’ বিহীন এসব রাজনৈতিক দোকান গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, তদবির ও কমিটি বাণিজ্য করা। এসব সংগঠনের নেতারা নানা সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে আলোচনায় এলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ‘ধান্ধাবাজির’ এসব দোকানের নেতাদের কর্মকান্ডে বিব্রত আওয়ামী লীগ।

এসব সংগঠনকে খোদ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরই ‘রাজনৈতিক দোকান’ নামে অভিহিত করেছেন। আর দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, নামের আগে লীগ যোগ করলেই আওয়ামী লীগ নয়। এদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। ‘বাংলাদেশ চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি ধান্ধাবাজির দোকান খুলে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর। একই সঙ্গে তাকে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় নেতাদের অবশেষে ঘুম ভাঙতে শুরু করেছে। নামের আগে ‘লীগ’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অথবা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এমনকি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, কিংবা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধ লাগিয়ে রাজনৈতিক দোকান খুলতে দেওয়া হবে না। যারাই এসব করবে এখন থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে অ্যাকশন শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। ‘বাংলাদেশ চাকরিজীবী লীগ’ নামের নতুন দোকান খুলে সারা দেশে জেলা-উপজেলা এমনকি বিদেশেও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে আলোচনায় আসেন ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে ছিলেন কুমিল্লা জেলা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ‘চাকরিজীবী লীগ’ খোলাসহ নানা কর্মকান্ডের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি গতকাল রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি সংগঠনবিরোধী নানা কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় আমরা এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
দলীয় সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হচ্ছে, যুবলীগ, মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও মৎস্যজীবী লীগ।

এ ছাড়া ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হচ্ছে, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগ। মহিলা শ্রমিক লীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ আওয়ামী লীগের ‘নীতিগত’ অনুমোদিত সংগঠন। এর বাইরে আওয়ামী লীগের সহযোগী কিংবা ভ্রাতৃপ্রতিম কোনো সংগঠন নেই। সূত্র মতে, দল ক্ষমতায় এলেই ওরা গড়ে তোলে নিত্যনতুন লীগ। নামসর্বস্ব এসব সংগঠনের পেছনে ‘লীগ’ শব্দ জুড়ে তো দিচ্ছেই, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেল ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যের নামও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করেও জানান দিচ্ছে অনেক সংগঠন। এসব সংগঠনের বেশির ভাগ উপস্থিতি দেখা যায় রাজধানীতে। জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, পাবলিক লাইব্রেরি, জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনসহ রাজধানীর বেশ কিছু মিলনায়তনে ওইসব ‘ভুঁইফোঁড়’ সংগঠনের উপস্থিতি। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখেও তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়।

সূত্র মতে, ২০০৮ সালের আগে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী এবং আমরা সূর্যমুখীসহ হাতে গোনা ৪-৫টি সংগঠন ছাড়া তেমন কোনো সংগঠন বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের কথা বলতে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের গত এক যুগে শিশু লীগ থেকে শুরু করে নাপিত লীগ, চাকরিজীবী লীগসহ বিভিন্ন নামে প্রায় আট শতাধিক ভুঁইফোঁড় সংগঠন গড়ে উঠেছে। লীগ শব্দ ব্যবহার করে এমন সংগঠনের মধ্যেই রয়েছে- ‘বাংলাদেশ ইলেকট্রিক লীগ’ ‘নাপিত লীগ’, ‘ফকির লীগ’ ‘জননেত্রী লীগ’, ‘প্রবীণ লীগ’, জনসেবা লীগ, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তরুণ জনতা লীগ’ ‘ডিজিটাল লীগ’ নাগরিক লীগ’ পর্যটন লীগ, তরিকত লীগ, আওয়ামী অভিভাবক লীগ, দর্জি লীগ, তরুণ লীগ, রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, যুব হকার্স লীগ, নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, ছিন্নমূল হকার্স লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, তৃণমূল লীগ, স্বাধীনতা লীগ, হোটেল শ্রমিক লীগ, সেলুন মালিক লীগ, হকার্স লীগ, চালক লীগ, প্রচার ও প্রকাশনা লীগ, বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, সমবায় লীগ, হারবাল লীগ, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, পরিবহন শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু হোমিওপ্যাথি লীগ, আওয়ামী সজীব ওয়াজেদ লীগ, অভিভাবক সচেতনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ প্রভৃতি। এসব সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকলেও সংগঠনের নেতারা সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিসে গিয়ে ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে নিজেকে বড় ‘আওয়ামী লীগার’ দাবি করে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ জেলা-উপজেলায় কমিটি অনুমোদন দেওয়ার জন্য মোটা অংকের চাঁদাবাজিও করছেন।

২০১৯ সালের আগস্ট মাসে তাঁতী লীগের এক শোক সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব সংগঠনকে ‘রাজনৈতিক দোকান’ অভিহিত করে বলেছিলেন, এদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ময়ূরের পেখম লাগালেই কাক কখনো ময়ূর হয় না, তেমন লীগের নাম ব্যবহার করলেও প্রকৃত আওয়ামী লীগ হওয়া যায় না।

 

আরও পড়ুন

 

ভারতের দেয়া ২০০ টন অক্সিজেন দেশে পৌঁছেছে (ভিডিও)

নীলাকাশ টুডেঃ ভারতের মোদি সরকারের দেয়া ২০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে পৌঁছেছে ভারতের এক্সপ্রেস ট্রেন। শনিবার রাত পৌনে দশটার দিকে বেনাপোলে আসে ট্রেনটি। এই প্রথম বিশেষায়িত ট্রেনে দেশের বাইরে অক্সিজেন পাঠালো ভারত।

ভারতের ঝাড়খণ্ড প্রদেশের জামশেদপুর টাটানগর থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দশটি কন্টেইনারে তরল অক্সিজেন নিয়ে একটি ট্রেন বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রোববার সকাল নাগাদ বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছানোর পর অক্সিজেন খালাস করা হবে।

ভারত জুড়ে ভয়াবহ অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়ার পর গত ২৪ এপ্রিল থেকে অক্সিজেন এক্সপ্রেস ট্রেন সেবাটি চালু করে ভারতীয় রেলওয়ে। যার মাধ্যমে দেশজুড়ে দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহে করতে সক্ষম হয়েছে কেন্দ্র সরকার।

২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল ভারতে এই বিশেষ ট্রেন সেবা শুরুর পর থেকে এই প্রথম প্রতিবেশী দেশে অক্সিজেন এক্সপ্রেস চালু হলো। এ পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে এই ধরনের ৪৮০টি অক্সিজেন এক্সপ্রেস চালু করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

মাস্ক ছাড়া বের হওয়ায় রোদে বসিয়ে রাখা হলো ১২ যুবককে

নীলাকাশ টুডেঃ অহেতুক এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হওয়ায় রোদে জনসম্মুখে ৩০ মিনিট রাস্তার উপর বসে সাজাভোগ করতে হয়েছে ১২ যুবককে।

শনিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি বাজারে তাদের এমন সাজা ভোগ শেষে আর এভাবে বের না হবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুবকেরা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত তৃতীয় মেয়াদে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও যশোর সেনানিবাস ২৭ ফিল্ড আর্টিলারির রেজিমেন্টের সচেতনতা মূলক যৌথ অভিযান চালান।

অভিযানকালে কোনো কারণ ও মাস্কছাড়া ঘোরাঘুরি করছিল যুবকেরা। এসময় তাদের তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বাইরে বের হওযার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় ১২ যুবককে ৩০ মিনিট রাস্তার উপর বসিয়ে রাখা হয়।

সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানের ২৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির লেফটেন্যান্ট শাদমান ইকবালসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৯

নীলাকাশ টুডেঃ ভারতে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে জায়গায় জায়গায় ধস নেমেছে। এতে একসঙ্গে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে মুম্বাই থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রায়গড় জেলার কোঙ্কণে। বৃহস্পতিবার সেখানকার বেশ কিছু জায়গায় ধস নামে। তাতে এক জায়গা থেকে ৩২ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।

অন্য আরেকটি জায়গা থেকে আরও চারটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কমপক্ষে আরও ৩০ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধার করতে হেলিকপ্টার নামিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, মহারাষ্ট্রে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভূমিধসসহ বৃষ্টিজনিত ঘটনায় ১২৯ জন মারা গেছেন।

গত কয়েক দিন ধরেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে মহারাষ্ট্রে। তাতে মুম্বাইসহ একাধিক এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে রায়গড়, রত্নগিরি, কোলাপুরসহ একাধিক জেলায়।

গত ৪০ বছরে জুলাই মাসে এই পরিমাণ বৃষ্টি মহারাষ্ট্রে হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
উদ্ধার কাজ চালাতে নৌবাহিনী এবং উপকূল বাহিনীর সাহায্যও নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নামানো হয়েছে। একটানা বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে একাধিক জায়গায় বাড়িও ভেঙে পড়েছে।

মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর ৫০ শতাংশ ডুবে গেছে।

অনেক জায়গায় আটকে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের পানি ভেঙে বের হওয়ার ঝুঁকি নিতে নিষেধ করা হয়েছে। বাড়ির ছাদে অথবা উঁচু জায়গায় থাকতে বলা হয়েছে, যেখান থেকে হেলিকপ্টার তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাবে।

 

আরও পড়ুন

ট্রাকে মাছের ড্রামের ভেতর মানুষ!

নীলাকাশ টুডেঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশের ন্যায় গাজীপুরেও সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। প্রথম দিন শুক্রবার সকাল থেকে রাস্তায় জরুরি সেবার গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

মহাসড়কে মানুষের চলাচল ছিল না বললেই চলে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে রয়েছে চেক পোস্ট। এছাড়া কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। রয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এরকম কঠোর বিধি নিষেধের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছবাহী ট্রাকের পিঠে ড্রামে ভেতর চেপে বাড়ি ফিরছিলেন ১০ জন যাত্রী। তারা ঢাকা থেকে ওই ড্রামের ভেতরে উঠে বসেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চেক পোস্ট পাড় হলেও রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এসে ধরা পড়ে যায়। ওই পয়েন্টের দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সন্দেহ হলে ট্রাকটি আটক করে চেক করলে বেরিয়ে আসে মাছে ড্রামে লুকিয়ে থাকা যাত্রীরা।

পরে তাদেরকে ট্রাকে থাকা মাছের খালি ড্রাম থেকে বের করে এনে ছেড়ে দিলেও ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের এসি (উত্তর) মেহেদী হাসান জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। এমন সময় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি মাছের ট্রাক সন্দেহ হলে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ওই ট্রাকে মাছের ড্রামের ভেতর থেকে প্রায় ১০ জন যাত্রী বের করে আনা হয়। পরে ড্রামের ভেতর থেকে যাত্রীদের নামিয়ে এনে ছেড়ে দিলেও চালকের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ব্যবস্থা এবং ট্রাকটি আটক রাখা হয়েছে।