স্টাফ রিপোর্টারঃ–

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরি প্রায় মহামারী আকার ধারণ করেছে। একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনায় থানায় জিডি বা অভিযোগ হচ্ছে কিন্তু চোরেরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। শখের মোটরসাইকেল হারিয়ে মালিকেরা দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও কোনো হদিস বের করতে না পেরে হতাশ হয়ে তাদের চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

এ পর্যন্ত চুরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেলও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করতে পারেনি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ঝিকরগাছা থেকে ৩টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে শ্রীরামপুর গ্রামের সবুজের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ঘরের দরজা খুলে একটি হিরো স্পেলেন্ডার মটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন বাড়ির মালিক সবুজ হোসেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে থেকে কাশিপুর গ্রামের একজনের মোটরসাইকেল চোরেরা নিয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও এখনও চোর সনাক্ত বা গাড়ি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে ঝিকরগাছা মাছ বাজার থেকে ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের একটি ডিসকভার গাড়ি চুরি হয়েছে। কয়েক বছর আগে একই জায়গা থেকে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ইকবাল আহমেদ রবির ডিসকভার ১৩৫ সিসির গাড়ি চোরেরা নিয়ে যায়। কৃষ্ণনগর ৩নং ওয়ার্ডের তরিকুল ইসলাম লিটনের একটি এবং পানিসারা কুলিয়া গ্রামের সোহেলের একটি পালসার মোটরসাইকেল জানাজার নামাজ আদায়ের সময় চুরি হয়ে যায়। লক্ষিপুর গ্রামের সাবেক ইউ পি সদস্য এবং শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের একটি, লুৎফর রহমানের ছেলে সোহাগের একটি, শিক্ষক মনিরুজ্জামান মিঠুর একটি নতুন পালসার মোটরসাইকেল, লাউজনি হাইস্কুলের শিক্ষক আশরাফুল আলমের একটি, কাশিপুর হাইস্কুলের শিক্ষক সরোয়ার আলমের একটি, কৃষ্ণনগরের শাওন রেজা খোকার একটি পালসার এবং তার আপন চাচা মোর্তজা রেজা মনির নতুুন ইয়ামাহা এফ জেড, ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাজিবুল ইসলামের একটি, ঝিকরগাছা মহিলা কলেজের প্রভাষক মিলনের একটি সহ এরকম আরও অনেক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে।

এরমধ্যে অধিকাংশ গাড়িই দিনের আলোতে চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে। মোটরসাইকেল মালিকরা সবসময় আতংকে থাকছেন কখন না জানি তার সখের গাড়ি চুরি হয়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের অনেক সদস্য আটক হলেও ঝিকরগাছার চুরি যাওয়া গাড়ির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন ভক্ত বলেন, মোটরসাইকেল উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে গঙ্গানন্দপুর একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন চোরও আটক করা হয়েছিল। তবে ভুক্তভোগী গন এই বিষয়ে পুলিশের আরও বেশী ভুমিকা রাখার দাবি জানিয়েছেন।