সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
সাতক্ষীরায় একজনের ফাঁসি শ্যামনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় অফিসার সহ আহত ৩ সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় গৃহবধূ নিহত হিরো আলমকে তথ্যমন্ত্রীর অভিনন্দন তাদেরকে হেদায়েত কর, না হলে মাটিতে মিশিয়ে দাও! শ্যামনগরে হরিণের মাংস সহ ডিঙ্গি নৌকা আটক বেনাপোলে ফেনসিডিল সহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক ওয়াজ মাহফিলে দাওয়াত না পেয়ে আ.লীগের দু’পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা গ্রাহকদের কাছ থেকে দাম বেশি নিয়ে ডাকাতি করছেন গ্যাস ব্যবসায়ীরা! স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব, ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে শেষ করলেন স্বামী ঢাকায় ‘ছোঁ পার্টির’ ১৬ জন গ্রেফতার স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে যত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক ফেসবুক লাইভে এসে যা বললেন হিরো আলম

জোর করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের সামনেই নারীর বিষপান!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
আপডেট মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩, ৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় জোর করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের সামনে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে এক নারী বিষপান করেছেন। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নুরপুর গ্রামে মৌসুমির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও প্রতিবেশিরা ওই নারীকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার পাকস্থলি পরিষ্কার করে সেখানকার চিকিৎসক তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৌসুমীকে স্বজনরা ঢাকা নিয়ে যাচ্ছেন।

 

মৌসুমী আক্তার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের আইয়ুব খানের মেয়ে।

তার মা শাহানা বেগম হাসপাতাল চত্বরে অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আখাউড়া থানার এএসআই আব্দুল আজিজ মহিলা পুলিশসহ ৮/১০ জন মিলে আমার বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে ধরে থানায় নিয়ে যেতে চায়। আমার মেয়ে তখন তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে বলে, আমাকে থানায় নেবেন কেন, আমি কী করেছি? আমার দুইটা ছেলে আছে, আমার স্বামী পাগল। আমি থানায় যাবো কেন? আজিজ দারোগা বল্‌ ওসি সাহেব তোমাকে থানায় নিয়ে যেতে বলেছে। এ সময় আমি পুলিশকে বলি, আমার মেয়ের হার্টে ব্লক আছে, তাকে নিয়েন না। দরকার হলে আমি থানায় যাব। এ সময় পুলিশ জোরাজোরি করে ধরে নিতে চাইলে আমার মেয়ে পুলিশের সামনে বিষ খেয়ে ফেলে। কিন্তু পুলিশের সামনে বিষপান করলেও কেউ তাকে আটকাতে আসেনি। পরে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও পুলিশ কয়েকবার আমাকে ধরে আনতে চেয়েছিল।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক ওই নারীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ সময় আখাউড়া থানা পুলিশের ওসি আসাদুল ইসলামসহ বেশ কয়েক পুলিশ সদস্য উপস্থিত রয়েছেন। পরে রাত ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় থানার এসআই আবু ছালেক সঙ্গে যান।

 

এ ব্যপারে আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. লুৎফুর রহমান বলেন, রোগীর প্রেসার অনেক কমে গিয়েছিল। স্টমাক ওয়াশ করে বিষ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে আখাউড়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আজিজকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

আখাউড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, কিছু মাদক উদ্ধার হয়েছিল। আমাদের কাছে তথ্য ছিল মাদকগুলো তাদের। এ প্রেক্ষিতে আমি পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। তার ঘরে কিছু পাওয়া যায়নি। আগে রোগীর চিকিৎসা হোক। তারপরে যদি তদন্তে এএসআই আজিজের কোনো অপরাধ থাকে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরো খবর