নীলাকাশ টুডেঃ কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির নির্দেশে সদর সভাপতিকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনকে গতিশীল করতে কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি গঠন শুরু করেছে উপজেলা সভাপতি-সম্পাদক। সম্প্রতি তিনটি ইউনিয়নের কমিটিও ঘোষণা করেছেন তারা। এতে ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ- উদ্দীপনা, প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিলেও সাংগঠনিক এ কার্যক্রমকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করতে পারেননি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন।

তাকে না বলে কেন এসব ইউনিটে কমিটি গঠন করা হয়েছে- সেই অজুহাতে বুধবার রাত ১১টার দিকে তার অনুগত ক্যাডার পাঠিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী তামজিদ পাশার ওপর বর্বর হামলা করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপহরণ চেষ্টারত হামলাকারীদের হাত থেকে আহত ছাত্রলীগ নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা।

এ সময় তামজিদ তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মায়ের দোয়া শুঁটকি বিতানে বেচাকেনারত ছিলেন। হামলাকারীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা ও মূল্যবান পণ্যসামগ্রীও নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন আহত ছাত্রলীগ সভাপতি তানজিম।

আহত ছাত্রলীগ সভাপতি তামজিদ বলেন, কমিটি কেন গঠন করেছি তা নিয়ে একাধিকবার ফোন করে বিভিন্ন ভাবে আমাকে গালমন্দ করেছেন। করেছেন বকাঝকাও। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমার সাংগঠনিক অভিভাবক হওয়ায় এ বকাঝকাকে তেমন গুরুতর ভাবে নেইনি। কিন্তু বুধবার রাতে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হামলা চালায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির সাদ্দামের অনুসারী সাদমান, আরিফ, মুন্না ও শিহাবসহ বেশ কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেয়। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ঘটা হামলার ঘটনায় আমাকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে আমার চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে হামলার সত্যতা মিলেছে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা সাদ্দাম ভাইকে না জানিয়ে কোন সাহসে কমিটি দিয়েছিস বল? তোকে আজ মেরেই ফেলব… এসব কথা বলতে বলতে আমার ওপর হামলা করে। এ সময় তারা বলে- এখানে মেরে ফেললে ধরা পড়ে যাব, চল আস্তানায় নিয়ে যাই বলে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।

হামলায় তামজিদের মুখে, হাতে, শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে। তাকে না জানিয়ে কমিটি গঠন করায় ফোন করে বকাঝকা করার সত্যতা স্বীকার করলেও হামলার বিষয়টি অবগত নয় জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন বলেন, হামলায় যারা অংশ নিয়েছে তারা আমার সাথে থাকে সেটা ঠিক, তবে আমি তামজিদকে মারতে তাদের পাঠাইনি। হামলা করালে অপরিচিত কাউকে দিয়ে করাতাম, এটা তৃতীয় কোনো পক্ষের কারসাজি। আমি ঢাকায় রয়েছি, কক্সবাজার ফিরে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র দে বলেন, সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর হামলার বিষয়ে একটি এজাহার পেয়েছি। ছাত্রলীগের আরেকটি পক্ষও একটি এজাহার দিয়েছে। ঘটনা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।