মোঃ নুরুজ্জামান ,গল্প– সখ করে বড় সড় আকারে এক চাকরিজীবি মেয়ের সাথে প্রেম করেছিল বেকার কোম্পানির এক চেয়ারম্যান। গরীব ঘরে জন্ম নিয়ে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখে প্রেম চালিয়ে চাচ্ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে। বেকার কোম্পানির চেয়ারম্যান হওয়ার পরেও মেয়েটির মন হৃদয় ছেলেকে দিয়ে দিল। বহুদিন প্রেম- ভালোবাসার পরে মেয়ের পরিবারের ধুমধারাক্কা আয়োজনে ছেলের হাতে তুলে দিলো তাদের এক মাত্র মেয়েকে।

যদিও ছেলের পরিবার তেমন আয়োজন করেনি। তবে মজার ব্যপার হচ্ছে ছেলের থাকার কোন ভালো ঘর বাড়ি নেই, আছে পৃথিবী জোড়া মন, সাগরের মত হৃদয়, উজাড় করে দিয়েছে ভালোবাসা। কিন্তু প্রবাদে আছে অভাব যখন দরজায় আসে ভালোবাসা তখন করোনা ভাইরাসের মত কাশে। কেউ তখন তার কাছে যেতে চাই না। বাস্তবতা হচ্ছে, মেয়ের কোন আর্থিক অভাব নেই, ছেলের কোন চিন্তা নেই।

 

সকালে ঘুম থেকে উঠিয়া বৌকে মোটরসাইকেল করে পিছনে বসিয়ে স্ট্যাট দিয়ে গিয়ার মেরে, পিকাপ ধরে গ্যাস দিয়ে ভোঁভোঁ করে বৌয়ের কর্মস্থলে পৌছায়ে দিয়ে ৬ ঘন্টা অপেক্ষার পরে আবার ছুটি দিলে একই স্টাইলে বাড়ি এসে খেয়ে ঘুম। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি পড়ছে ঝুমঝুম। ঘুম ভাঙ্গার পরে ভাবছে চেয়ারম্যান বেকার কোম্পানির। আমি তো আর এখন বেকার নেই! চাকরি করা বৌয়ের অফিসে পৌছানোর দায়িত্ব, এটাও একটা চাকরি। মাস শেষে বৌয়ের কাছে হাত পেতে টাকা নেওয়া কতটা সম্মান জনক? এমন ভাবতে ভাবতেই আবার ঘুম। মশার কামড়ে ঘুম ভেঙে আবার উঠলো জেগে, তখন নতুন করে ভাবছেন বৌ টা খুব ভালো, তার পরও নিজে আয় না করে, বৌ এর টাকায় সংসার চালোনো আমি সত্যিই কেমন পুরুষ। আমার বৌ কিছু না বললেও আমার নিজের কাছে কেন এমন ছোট লাগছে। জানি না কপালে কি আছে। শেষ মেষ বেকার কোম্পানির চেয়ারম্যান একটি কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন,,,

এবার বুদো পণ করেছে সে একটা কিছু করবে,

হয় বাঁচার মত বাঁচবে, না হয় মরার মত মরবে।

বুদোর পণ শুনে সবাই বললে,
বুদো একি তুমি করলে,
সময়মত পণ না করে সব হারিয়ে ফেললে!

থাকগে মশায় থাকগে যা আছে যা গেছে তা যাগগে, শেষ বারের মত পণ করেছি যা আছে তাই ভাগগে।

লেখক, সম্পাদক নীলাকাশ টুডে