নীলাকাশ টুডেঃ  সম্প্রতি বোটক্লাব কাণ্ডে আলোচনায় থাকা ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমণি জানিয়েছেন, তিনি একটিমাত্র হ্যারিয়ার গাড়ির মালিক যেটির ব্যাংক লোন চলছে ও ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকেন। বুধবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন তিনি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমণি লিখেছেন, আজ এসব নিয়েও লিখতে হচ্ছে ভাবতে কষ্ট হচ্ছে সত্যি। যখন বড় বড় সম্মানিত শিল্পীরাও পিছে রটানো গসিপ নিয়ে আমার দিকে আঙ্গুল তুলতেও ছাড়লেন না আজ! একবার একটু জেনে নিতেই পারতেন চাইলে।যাইহোক, এসব এর একটু পরিত্রাণ দরকার এবার।

আমার একটি মাত্র হ্যারিয়ার গাড়ি। যেটি ব্যাংক লোনে চলছে। এবং আমি একটি ভাড়া ফ্লাটে থাকি। আমি আমার আয়ের হিসেব সরকারের কাছে অবশ্যই প্রদান করি।আমি নিয়মিত একজন করদাতা। আমার কোনো ১০ কোটি টাকার বাড়ি বা ৫/৪/৩ কোটি (যেমনটা আপনারা বানালেন আরকি) টাকার গাড়িও নেই। আপনারা দোয়া করবেন, আমাকে নিয়ে আপনাদের এই মহান উচ্চ আশা পূরন করবো ইনশাআল্লাহ। মিথ্যা বা গুজব ছড়ানোর জন্য আপনারা কতোটুকু জয়ী হলেন ভেবে দেখবেন প্লিজ।- আপনাদের পরীমনি।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন পরীমণি তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করেছেন। সেদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে জানান অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ও অমির নাম।

তাদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতাও চান তিনি। সে অনুযায়ী নাসির ইউ মাহমুদ, অমিসহ আরও চার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গ্রেফতার হয়ে এরইমধ্যে জামিনও পান তারা। তবে এরপর থেকে গুলশান ও বনানীর আরও দুটি ক্লাবেও পরীমণির যাতায়াত এবং তার বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি। পাশাপাশি তার ব্যয়বহুল গাড়ি ও বিদেশ ট্যুর নিয়ে সমালোচনা করতে ছাড়েননি নেটিজেনরা।

আরও পড়ুন

খুলনা মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে ছড়িয়ে পড়েছে জীবানু

নীলাকাশ টুডেঃ খুলনা মেডিকেলের পিসিআর ল্যাবে ছড়িয়ে পড়েছে জীবানু। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিন ল্যাবটিতে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল আহাদ বলেছেন, গতকাল বুধবার রাতে ল্যাবটিতে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ৯২টি পজিটিভ আসে।

তখন আমাদের সন্দেহ হয় যে হয়তো ল্যাবে জীবানু ছড়িয়ে পড়েছে। ল্যাব জীবানুমুক্ত করার পর ফের করোনার নমুনা পরীক্ষা চালু হবে।
ছড়িয়ে পড়া জীবানু করোনার কী না তা নিশ্চিত করেননি অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল আহাদ। তিনি জানান, ল্যাবে ২০০০টি করোনার নমুনা ছিল, সেগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

লকডাউনে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ত্রাণের বিষয়ে মন্ত্রীরা যা বললেন

নীলাকাশ টুডেঃ লকডাউনে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ত্রাণ পরিকল্পনা নেই সরকারের
বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া কঠোর বিধিনিষেধে নিম্নআয়ের মানুষকে কোনো ত্রাণ বা নগদ সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী।

করোনাকালে নানান বিধি -নিষেধের বেড়াজালে কাজ হারিয়ে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন প্রায় দুই কোটি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে আবারও ঘোষণা হয়েছে কঠোর বিধি -নিষেধের। এসময় সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখায় নিম্নআয়ের দিনমজুর ও প্রান্তিক পর্যায়ের যেসব মানুষ চরম সঙ্কটে পড়বে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে প্রশ্ন করা হলে তিনি একাত্তরকে বলেন, কঠোর বিধি-নিষেধের দিনগুলো নিয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই তবে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনে খাদ্যপণ্য ও নগদ সহায়তা দেয়া হবে।

একই প্রশ্ন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে করা হলে তিনি বলেন, চায়ের দোকানদার, রিকশাওয়ালা, ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য সরকার খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচী অব্যাহত রাখবে। নির্দেশনা পেলে খাদ্য মন্ত্রণালয় জিও -এর মাধ্যমে খাদ্য সংগ্রহ করবে। দেশে বর্তমানে খাদ্য মজুদে কোনো সমস্যা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করেছে সরকার। এসময় সকল গণপরিবহন, নৌ-রেল-আকাশপথে চলাচল বন্ধ থাকবে। সরকারি-বেসরকারি অফিসের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে সকল দোকানপাট ও শপিংমল। একইসাথে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা ব্যতীত এসময় অন্যান্য কল-কারখানাও বন্ধ থাকবে।

এমতবস্থায় দিনমজুরিরের কাজে নিয়োজিতরা, ভ্রাম্যমাণ ও রাস্তা-ফুটপাতে বসা অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশা-ভ্যান-অটোচালকসহ সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সংকটে পড়বে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ৮২২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১১৫ জন। এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে কঠোর বিধি-নিষেধ পালনে বাধ্য করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও র‍্যার সতর্ক অবস্থান রাখবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। এসময় অকারণে কেউ ঘরের বাহিরে বের হলেই তাকে গ্রেপ্তারসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

এমতবস্থায় সবকিছু এটি নির্দেশ করছে যে, কঠোর বিধি-নিষেধের দিনগুলো খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হবে। এমতাবস্থায় সরকারের ত্রাণ, খাদ্য ও নগদ প্রণোদনা ছাড়া পরিবার নিয়ে তাদের টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।