সাহিত্য টুডেঃ গভীর রাত! চারদিক যখন অন্ধকার হয়ে আসে, চাঁদের আলো যখন জানালা দিয়ে উঁকি মারার চেষ্টা করতে থাকে, শহর যখন নীরব হয়ে আসে, ব্যস্ত নগরী হটাৎ করেই যখন এক ভিন্ন রূপ ধারন করে। আমি তখনো জেগে থাকি, আমি জেগে থাকি তখন আমার মাথার ভেতরে চলা ভয়ানক এক যুদ্ধের নীরব দর্শক হয়ে। আমি উপভোগ করতে চেষ্টা করি মনের মধ্যে চলতে থাকা ভয়াবহ এই যুদ্ধকে, কিন্তু আমি বারবার ব্যর্থ হই। এরপর আমি আস্তে আস্তে করে দুর্বল হতে শুরু করি।

 

গভীর রাত! আমি তাকিয়ে থাকি প্রানহীন দেয়ালের দিকে। আমার চোখ দুটি ভারী হয়ে আসে, আমি ঘুমানোর আপ্রান চেষ্টা করি। কিন্তু আমি আরো একবারের জন্য ব্যর্থ হই। অচেনা এক দৈত্য আমার চামড়া ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চায়, আমার মাথার ভেতরে স্মৃতির বোমা বিষ্পোরিত হতে থাকে। আমি ভাবতে থাকি আমার করা অন্যায়গুলো নিয়ে, আমি ভাবতে থাকি আমার প্রতি করা অন্যায়গুলো নিয়ে। এরপর আমি মুক্তি চাই এই তীব্র যন্ত্রনা থেকে, কিন্তু আমি আবারো ব্যর্থ
হই।

গভীর রাত! আমি আস্তে আস্তে করে নিজের উপর বিশ্বাস হারাতে থাকি। আমি নীরবে চিৎকার করতে থাকি। আমি কারো সাথে একটু কথা বলতে চাই। আমি ফোন হাতে নেই, এরপর আমি বুঝতে পারি কেউ নেই আমাকে একটু শোনার জন্য। আমি বুঝতে পারি আমি বড্ড বেশি একা, আমি অনেক বেশি শূন্যতায় নিজেকে হারিয়েছি। আমি চরম নির্জনতা অনুভব করতে থাকি। এরপর আমি নিজের সাথে নিজে কথা বলা শুরু করি, আমি নিজের সাথে নিজে হাসতে থাকি। আমি আফসোস করতে থাকি অনেক কিছু নিয়ে, আমি ভালো স্মৃতিগুলো মনে করার চেষ্টা করি। আমি ব্যর্থ হই আরো একবার।

গভীর রাত! আমি আমার সাথে আমার সব সিক্রেট শেয়ার করি। আমার আত্না আমাকে বলে তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে, আমি তাকে বিশ্বাস করে। সে আমার সবকথা মনযোগ দিয়ে শুনে। সে একবারের জন্যেও আমাকে জাজ করে না। এরপর রাত প্রায় শেষ হয়ে আসে, সে আমাকে বিদায় জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়। আমি মনের অজান্তেই বলি, ‘তোমার মত কেউ কখনো আমাকে এভাবে শোনেনি’। আমার আত্না জবাব দেয় ‘আমার থেকে তোমাকে আর কেউই কখনো ভালোবাসেনি, তুমি একটু আমার যত্ন নাও। আমাকে আর ক্ষতবিক্ষত করো না। আমি বলি ‘চেষ্টা করব’। এরপর আমি নিস্তেজ হতে থাকি আস্তে আস্তে হালকা একটা মন নিয়ে, আগামীকাল নতুন একটা সূর্যের আলো স্নান করবো এই আশা নিয়ে।

দেশি আলাপ ওয়েব সাইট থেকে নেওয়া,,,
লেখক মোশাররফ হোসেন