কোলকাতা সংবাদদাতাঃ দিনভর পরিশ্রমের পর খিদে এবং ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত এক চিত্রগ্রাহককে দু’টি বিকল্প দেওয়া হয়েছিল। তিনি খেয়ে, বিশ্রাম নিয়ে সময় নষ্ট করতে চান? না কি একজন পেশাদার হিসেবে নিজের কাজটুকু করে সাম্মানিক নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান। জবাবে এক মুহূর্তও দেরি না করে ওই ফটোগ্রাফার প্রথম বিকল্পটিই বেছে নিয়েছেন। যদিও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এখন তিনি দোটানায়। নেট মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন তাঁর সিদ্ধান্তে ভুল ছিল না তো!

নেটমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ওই ফটোগ্রাফার। লিখেছেন, তিনি পেশাদার ফটোগ্রাফার নন। শখেই ছবি তোলেন। মূলত কুকুর বা পোষ্য জীবজন্তুর ছবি তুলেছেন এত দিন। তবে কিছু দিন আগে হঠাৎই এক বন্ধু তাঁকে নিজের বিয়ের ছবি তোলার প্রস্তাব দেন। সেখান থেকেই সমস্যার শুরু।

শখের ফটো তুলিয়ে জানিয়েছেন, প্রথমে ওই প্রস্তাবে রাজি হতে চাননি। এমনকি বন্ধুকে তিনি জানিয়ে দেন, আগে কোনও বিয়ের অনুষ্ঠানে ছবি তোলেননি তাই এ কাজের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও বন্ধু তাঁকে জোর করতে থাকেন। এমনকি ‘ছবি দেখতে ঠিক ঠাক হলেই হল’ বলে সাহসও জোগান। ওই আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, বন্ধুর অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত ছবি তুলতে রাজি হন। কিন্তু এখন তিনি আফসোস করছেন।

বিয়ে বাড়িতে হওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ফটোগ্রাফার লিখেছেন, ‘সকাল ১১টা থেকে কাজ শুরু করেছিলাম। বিকেল ৫টা নাগাদ সবাইকে খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু আমি দেখলাম আমার জন্য কোনও টেবলে একটি বসার জায়গাও সংরক্ষণ করা হয়নি।’ ভদ্রতাবশত এর পরও ঘণ্টাখানেক ছবি তোলেন তিনি। তবে দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত থাকায় ক্লান্তিতে শারীরিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ‘বন্ধু’র কাছে খাওয়ার জন্য ২০ মিনিটের ছুটি চান তিনি। জবাবে শুনতে হয়, ‘টাকার বিনিময়ে কাজ করছো। হয় পেশাদারের মতো কাজ করে টাকা নিয়ে বাড়ি যাবে। না হলে কাজ ছেড়ে বিশ্রামই নাও।

সারাদিনের ক্লান্তির পর এর পর আর মাথার ঠিক ছিল না ফটোগ্রাফারের। তিনি বন্ধুর সামনে তৎক্ষণাৎ তাঁর বিয়ের তোলা সবক’টি ছবি ডিলিট করে দেন এবং বাড়ি ফিরে যান। তবে রাগের মাথায় করা কাজ ঠিক হয়েছে কি না, সেটা ভেবে তিনি এখন দোটানায়। নেটমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁর বন্ধু বিয়ের একটি ছবিও নেটমাধ্যমে দেননি। অনেকে তাঁদের জিজ্ঞাসাও করছেন ছবির ব্যাপারে। সে সব দেখে অপরাধবোধে ভুগছেন ওই আলোকচিত্রী। জানতে চেয়েছেন, তিনি যা করেছেন, তা ঠিক ছিল কি!

আরও পড়ুন

এসির ফাও বাতাস খেতে গিয়ে বিনা পয়সার গার্লফ্রেন্ডের প্রতারণার শিকার যুবক!

মজার গল্প- এসির বাতাস খেতে মার্কেটে ঢুকে মেয়েদের পোশাক নেড়েচেড়ে দেখছিলাম। হঠাৎ কর্মচারী বললো, “এভাবে নাড়াচাড়া না করে বউ বা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আসুন। শপিং করতে মজা পাবেন। ”
নিজেকে অপমানিত বোধ করছি, তবুও সামান্য ভাব নিয়ে বললাম, ” আমার গার্লফ্রেন্ডের জন্য আমি কিনতে এসেছি তোমার সমস্যা কি? ”
– স্যরি স্যার, তবে আমি বলছিলাম কারণ আপনি পছন্দ করে নিলে ঝামেলা হবে। ৭০% এর বেশি তার পছন্দ হবে না, তখন আবার রিটার্ন কিংবা পরিবর্তন করতে আসতে হবে।
– বললাম, আমার গার্লফ্রেন্ড এখানেই আসছে তাই অপেক্ষা করছি।
লোকটা আর কিছু না বলে চলে গেল। আমি খুব বুদ্ধিমানের মতো হাঁটতে লাগলাম, কিন্তু এখন গার্লফ্রেন্ড কীভাবে আনবো। কারণ আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড তো দুরের কথা, মেয়ে বান্ধবীও নেই।
এমন করে আমি যখন চিন্তার সাগরে ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছি তখন হঠাৎ করে একটা মেয়ে সেখানে প্রবেশ করলো। আমি তার কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলাম।
– কেমন আছেন?
– কে আপনি?
– একটা উপকার করবেন?
– যেমন।
আমি তাকে সবকিছু খুলে বললাম। মেয়েটা তখন আমার সঙ্গে গার্লফ্রেন্ডের মতো অভিনয় করতে লাগলো। তারপর তার যা যা লাগবে সবকিছু সে কিনতে লাগলো। সবকিছু কেনা শেষ করে মেয়েটা আমাকে বললো,
– একটা কথা বলতে চাই।
– বলেন।
– আপনি যেহেতু কিছুই কিনবেন না তাহলে শুধু শুধু এখানে কেন এসেছেন?
– এসির বাতাস খেতে। বাহিরে প্রচুর গরম তাই ভাবলাম কিছুক্ষণ ফ্রী ফ্রী এসির ভেতরে বাতাস উপভোগ করি।
মেয়েটা খুব হাসতে লাগলো। তার হাসি দেখে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে রইল, আমি অনেকটা গর্ব নিয়ে বুক টানটান করলাম।
– ঠিক আছে তাহলে আপনি আরো কিছুক্ষণ বাতাস খেতে থাকুন আমি চলে গেলাম।
– আচ্ছা ঠিক আছে, কিন্তু আমিও আপনার সঙ্গে বের হতে চাই। কারণ এরা ভাববে গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে বয়ফ্রেন্ড যাচ্ছে না কেন?
– না না তাহলে সমস্যা হবে, বাহিরে আমার বাবা দাঁড়িয়ে আছে। আর তিনি আপনার সঙ্গে বের হতে দেখলে বকাঝকা করবেন।
মেয়েটা চলে গেল ক্যাশিয়ারের কাছে। তারপর কিছুক্ষণ কথা বলে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
– আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছি তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসো।
আমি ভাবলাম বাহহ কত বুদ্ধি তার। আমাকে আরও কিছুক্ষণ বাতাস খাবার ব্যবস্থা করে চলে গেল।
কিন্তু আর না, এবার বের হতে হবে।
বের হতে যাবো এমন সময় আমাকে তারা ধরে ফেললো।
– ভাই টাকা না দিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?
– কিসের টাকা?
– আপনার গার্লফ্রেন্ড ১৩৭৯০ টাকার পোশাক নিয়ে গেল সেই টাকা।
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। ফ্রীতে বাতাস খেতে এসে আমি আমার ২২ হাজার টাকা দামের মোবাইল জমা রেখে বের হতে চাইলাম। কিন্তু সেই প্রথম যে লোকটার সঙ্গে কথা হয়েছে সে আমার কাছে এসে বললো,
– এখানে অপেক্ষা করুন, আর আপনার পরিচিত কাউকে টাকা নিয়ে আসতে বলেন।
– আশ্চর্য, এতক্ষণ আমি কি করবো?
– কেন? ফ্রী ফ্রী এসির বাতাস খাবেন।