নীলাকাশ টুডেঃ নারীদের এক দল সাজতে পছন্দ করে। আরেক দল করে না। তবে দুই দলই কমবেশি লিপস্টিক পছন্দ করে। সাজার যা কিছু আছে, তার ভেতর লিপস্টিককে ‘জনপ্রিয়তম’ খ্যাতিতে আখ্যায়িত করলে বাড়াবাড়ি হবে না। আর যিনি লিপস্টিক পছন্দ করেন, তাঁর কালেকশনে অন্তত ১০টি লিপস্টিক থাকবেই। মহামারিকালে মাস্কের নিচেও লিপস্টিকের ব্যবহার চলেছে। ইনস্টাইল ও হাফডপোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মেয়াদোত্তীর্ণ লিপস্টিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে। মহামারিকাল পেরিয়ে দীর্ঘ সময় বাক্সে বন্দী থাকা লিপস্টিক ব্যবহারের আগে জেনে নেওয়া যাক সেই সম্পর্কে।

শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন

লিপস্টিক আপনার শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন। কেননা, লিপস্টিকে ক্যাডমিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, সিসাসহ নানা ধরনের ধাতব পদার্থ থাকে। সেগুলো খেলে শিশুর শরীরের ক্ষমতার তুলনায় বেশি মাত্রার ক্ষতিকর ধাতব উপাদান প্রবেশ করে। আর সেটা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তো কথাই নেই!

 

মেয়াদোত্তীর্ণ লিপস্টিক ব্যবহার করলে কী হবে?

মেয়াদোত্তীর্ণ লিপস্টিক ব্যবহারে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ লিপস্টিক ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়ার কারণে ঠোঁট ও ঠোঁটের আশপাশে চুলকানি হতে পারে। লিপস্টিকের অন্যান্য উপাদান হলো ল্যানোলিন, ওয়াক্স ও ডাই। মেয়াদোত্তীর্ণ ল্যানোলিনের কারণে অ্যালার্জি, ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, ফাটাসহ মিউকাস মেমব্রেন হতে পারে। পরে ব্যথাও হতে পারে। ল্যানোলিনের মাধ্যমে ধুলা, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও কিছু ভারী ধাতব ঠোঁট শোষণ করে। মানুষ যখন পানি পান করে, তখন এই ক্ষতিকর পদার্থগুলো সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। তাই লিপিস্টিক পরে পানি পান করার সময় সতর্ক থাকবেন। যতটা সম্ভব ঠোঁটের স্পর্শ ছাড়াই পানি পান করবেন। মেয়াদোত্তীর্ণ লিপস্টিক ব্যবহার দীর্ঘস্থায়ী সিসায় বিষক্রিয়া হতে পারে। এর ফলে রক্তশূন্যতা, পেটে ব্যথা, রেনাল ফেইলিওর, এমনকি ব্রেন নিউরোপ্যাথির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ লিপস্টিকে অবস্থিত রঞ্জক পদার্থ অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এসে ক্যানসারের কারণ হতে পারে। যখন একটি লিপস্টিকের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, এটি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

লিপস্টিক পরে ঐশ্বরিয়ার মতো উড়ন্ত চুমু দেওয়ার আগে গায়ে লেখা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখটি দেখুন
লিপস্টিক পরে ঐশ্বরিয়ার মতো উড়ন্ত চুমু দেওয়ার আগে গায়ে লেখা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখটি দেখুনছবি: ইনস্টাগ্রাম
কীভাবে বুঝবেন লিপস্টিকের মেয়াদ শেষ?

* লিপস্টিকের গায়ে লেখা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখটি দেখুন। সাধারণত একটা প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ১২ থেকে ১৮ মাসের মতো ভালো থাকে। আপনার মেকআপ বাক্সে যত লিপস্টিক আছে, সব কটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার দিন–তারিখ টুকে নিন। মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে সেটা ডাস্টবিনে ফেলুন।
* মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া লিপস্টিক আপনি ঠোঁটে লাগালেই টের পাবেন। দেখবেন অস্বস্তি হচ্ছে। এই লিপস্টিক ঠোঁট আর্দ্র করে না। ঠোঁটের সঙ্গে সহজেই মিশে যায় না।
* মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে লিপস্টিকের যে নিজস্ব গন্ধ, সেটি আর থাকে না। তাই স্বাভাবিক গন্ধটা আছে কি না, সেটা চেক করুন।