ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর যা অল্পদিনে ভেঙে গেছে। এক হাড় কিপটে একটুখানী কাপড় কিনে দর্জির কাছে গিয়ে বলল একটা টুপি বানিয়ে দিতে। দর্জি রাজি হলে কিপটে চলে গিয়েও আবার ফিরে এল ভাবল একই কাপড় দিয়ে যদি ২টি টুপি বানাতে পারে কিনা? দর্জিকে বলল দুইটা টুপি বানিয়ে দিতে। দর্জি রাজি হলো। কিপটে হাসি মন নিয়ে ফিরে গেল।

কিন্তু আবার তার মনে হলো ৩টি টুপি বানালে হয়। দর্জিকে বলল তিনটি বানাতে। দর্জি আবারও সহজে রাজি হলে কিপটে ক্রমান্বয়ে ৪টি, ৫টি টুপি বানাতে বলল।
যথা সময়ে টুপি ডেলিভারী নিয়ে দেখে টুপিগুলোর সাইজ এত ছোট যে মাথায় দেয়া যায় না। কিপটে খেপে গিয়ে দর্জিকে ধরলে দর্জি সহজ জবাব দেয় একটা টুপির কাপড় দিয়ে ৫ টুপি বানালে তা মাথায় দেয়া যায় না।

উপজেলা পর্যায়ে গরীবদের জন্য বাড়ি বানানো হয়েছে। কত কম দামে বানানো যায় মনে হয় তার প্রতিযোগিতা হয়েছে- কর্তৃপক্ষকে তেল মারার, খুশি করার।

দেশে এলজিইডি এর এস্টিমেট আছে এখানে তা ফলো করা হয় নাই।

পিডাব্লিউডি এর এস্টিমেট আছে সেটাও ফলো করা হয় নাই। প্রাইভেট কোম্পানি পার স্কোয়ার ফুট ১০ হাজার টাকা নেয়, সেটাতো কল্পনা করা যায় না। এখানে সম্ভবত দুইটি ঘর দেয়া হয়েছে তার খরচ হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা মাত্র। পাইলিং করা হয় নাই, মাটি কমপ্যাক্ট করা হয় নাই, লিংকার বা লিনটন করা হয় নাই, লোহা বা রড ব্যবহার নাই। ঠিকাদার লাভ ছাড়া কাজ করবে ভাবা যায়? তাড়াহুড়ার তো অন্ত ছিল না।
এখন সরকারি কিছু অনভিজ্ঞ কর্মকর্তার চাকরি নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে, কিছু জনপ্রতিনিধির মান সম্মান নিয়ে টানাটানি হবে। মিডিয়া সরব হবে।

এটার জন্য সাজা হতে পারে যিনি এই এস্টিমেট করেছে কিংবা তৈল মর্দন করে কর্তৃপক্ষকে খুশি করার জন্য এগুলো করেছে। কম দামে ভাল জিনিস পাওয়ার চিন্তা অতি উর্বর মস্তিষ্ক হতেই আসে? কথায় বলে সস্তার বারো অবস্থা।

আমরা যদি ৫ লাখ টাকা দিয়ে দুইটি করে ঘর দিতাম তাহলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত। টাকটাতো আমাদের দেশের গরীবরাই পেত। আমরা তেলা মাথায় তেল দিতে অত্যন্ত শিদ্ধহস্ত। রাজউক পূর্বাচলে বা উত্তরায় যে প্লট ১০ লাখ টাকায় বরাদ্দ দিয়েছে তার বতর্মান বাজার মূল্য তিন থেকে ১০ কোটি টাকা। একজন মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখে সে অনেক বড়লোক। ধনীদেরকে যদি রাতারাতি আরও বড়লোক বানানো যায় তাহলে গরীবদেরকে ৫ লাখ টাকার বাড়ি দিতে কার্পণ্য কেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাজার কোটি টাকা ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি -পেশার মানুষকে প্রণোদনা দিচ্ছেন। তার কিছু অংশ গরীবরা পেতে পারেনই। মুজিবর্ষ উপলক্ষে এখনও সময় নিয়ে কিছু বাড়ি বেশি দামে বানিয়ে বিতরণ করা যেতে পারে। শুধু পাওয়াটাই বড় না তারা যেন বাকী জীবনটা ওই বাড়িতে বসবাস করতে পারেন। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। সত্যিকার অর্থে গরীবরা উপকৃত হবে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

ছাদ থেকে লাফিয়ে বাঁচার চেষ্টা আগুনে দগ্ধদের (ভিডিও)

নীলাকাশ টুডেঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভুলতা কর্ণগোপ এলাকায় একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকে বাঁচতে ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন অনেকে। অনেকে ভেতরে আটকা পড়েন।

বৃহস্পতিবার বিকালে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট।

এ ঘটনায় মিনা আক্তার (৪০) ও স্বপ্না রানী (৩৩) নামে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। স্বপ্না সিলেটের যথি সরকারের স্ত্রী। মিনা আক্তার রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল নতুনবাজার এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী। নিহত স্বপ্না রানীর মেয়ে বিশাখা রানীও এখানেই কাজ করেন।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। এর মধ্যে ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে রূপগঞ্জের ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজে ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

সেজান জুস ফ্যাক্টরি নামে পরিচিত হাশেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় ভবনের ছাদে আটকে পড়া ১২ জন শ্রমিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

আগুনে দগ্ধ ও ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত স্বপ্না, মানিক, আশরাফুল, সুমন, মোরছালিন, সজিব, মেহেদী, মুন্না, মাজেদা, রুমা, মনোয়ারা, নাদিয়া, আছমা, মারিয়া, রুজিনা, সুমা, শফিকুল, সুফিয়া, সুজিদা, পারুল, রওশন আরা, শ্যামলাকে রূপগঞ্জের কর্ণগোপ ইউএস বাংলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া নাহিদ, মনজুরুল, দ্বীপা, মহসিন, আব্দুর রহমান, আবু বক্কর, আমেনাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফ্যাক্টরির ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনের তৃতীয়তলা থেকে গ্যাস লাইন লিকেজ কিংবা বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ভবনের সব ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ফ্যাক্টরির কাঁচামাল, উৎপাদিত পণ্য ও মূল্যবান সামগ্রীসহ বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

খবর পেয়ে কাঞ্চন, পূর্বাচল, ডেমরা, আড়াইহাজার, আদমজী ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিটের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুনে ভবনের বিভিন্ন তলায় ফ্যাক্টরির কর্মচারী ও কর্মকর্তারা আটকা পড়ে। কেউ কেউ লাফিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় মহাসড়কের উভয়পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া আগুনে নিহতের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে শ্রমিকরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে আহত হন।

ফ্যাক্টরির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারখানার গ্যাস লাইন লিকেজ কিংবা বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ নুসরাত জাহান ও রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা উদ্দীপন বলেন, আগুন লাগার ৩০ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।