নীলাকাশ টুডেঃ বগুড়ায় ফেসবুক থেকে মেয়েদের ছবি সংগ্রহ করে ফেক আইডি খুলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের অভিযোগে দুই কলেজ ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর থানা পুলিশ তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শহরের গোয়ালগাড়ি এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মাদ বাঁধন (১৯) ও নবাববাড়ী এলাকার রঞ্জন পোদ্দারের ছেলে সীমান্ত পোদ্দার (১৯)।

বাঁধন শহরের বেসরকারি একটি কলেজে প্যারামেডিকেল এ ও সীমান্ত একটি বেসরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করে।

উপশহর স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার জুরাইয়া (ছদ্মনাম) নামের এক মেয়ে এই দুই কলেজ ছাত্র দ্বারা ব্ল্যাক মেইলের শিকার হলে তার মামা জিয়াউর রহমান (৩৭) পুলিশের কাছে অভিযোগ করে। পুলিশ প্রথমে তাদের আটক করে। পরে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের হলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা বলেছেন, উপ-শহর এলাকার জিয়াউর রহমান (৩৭) ভাগ্নি জুরাইয়া (ছদ্মনাম) ছবি ব্যবহার করে কে বা কারা শ্রুতি নামে ফেসবুক আইডি খুলে ব্যবহার করছে। আইডি থেকে মেয়েটির আত্মীয় -স্বজনসহ বিভিন্ন লোকজনদের সঙ্গে মেসেঞ্জার ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ ছবি ভাইরাল করে দিবে বলে ভয় -ভীতি দেখাতে থাকে এবং বিকাশে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে ২ হাজার ৪০ টাকা নেয়। পরে মেয়েটিকে নিয়ে তার মামা উপায় না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তথ্য -প্রযুক্তির সাহায্য নিশ্চিত হয় বাঁধন ও সীমান্ত দুই বন্ধু মিলে যৌথ ভাবে এ অপরাধ সংগঠিত করছে।

পরে প্রথমে নবাববাড়ীতে অভিযান চালিয়ে সীমান্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে বাঁধনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, তাদের মোবাইলে আরও ৬টি মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল ও মিডিয়া মুখপাত্র) ফয়সাল মাহমুদ জানান, গ্রেফতার দু’জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

সেবা নিয়ে ফেরার পথে অফিসারকে বললেন স্যার খাস দিলে দোয়া কইরেন, আমি করোনা পজিটিভ

নীলাকাশ টুডেঃ দুপুরের দিকে মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তি ব্যাংকে সেবা নিতে যান। কাজ শেষ হলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে দোয়া চেয়ে ওই ব্যক্তি জানালেন, তিনি ‘করোনা পজিটিভ’, হাসপাতালে যাচ্ছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরের ডাকঘর সড়ক এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় ঘটে।

ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রাত সোয়া আটটার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে করোনা সংক্রমিত ওই গ্রাহকের পরিচয় উল্লেখ না করে ঘটনাটির বর্ণনা দেন।

স্ট্যাটাসটি নজরে পড়লে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলেন। ব্যবস্থাপক বলেন, ওই গ্রাহক এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে তাঁর চেম্বারে গিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর গ্রাহকসহ ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তাকে নিয়ে বুথে যান। বেশ কিছু সময় চেষ্টা চালিয়ে বিষয়টির সমাধান হয়নি। পরে ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহকের হাতে নগদ টাকা তুলে দেন। ফেরার সময় গ্রাহক তাঁকে বললেন, ‘স্যার খাস দিলে দোয়া কইরেন, আমি করোনা পজিটিভ। হাসপাতালে ভর্তি হতে যাচ্ছি।’ এরপর ওই গ্রাহক দ্রুত বেরিয়ে চলে যান। ব্যবস্থাপক বলেন, গ্রাহকের কথা শুনে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বলেন, শহরের একটি ভাড়া বাসায় শুধু তিনি ও তাঁর স্ত্রী থাকেন। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ওই গ্রাহক বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে জ্বরে আক্রান্ত হলে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে নমুনা পরীক্ষা করান। তবে ফলাফল পজিটিভ নয় বলে দাবি করেন। ব্যবস্থাপকের সঙ্গে আলাপচারিতার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে তাঁর কিডনিতে কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে। তাই, সিলেটে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) প্রিয়জ্যোতি ঘোষ বলেন, গত বছর করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার মোট ২১১ জন ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন। হোম আইসোলেশনে আছেন ৫১ জন। মারা গেছেন তিনজন। সংক্রমণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।