মজার গল্প– এসির বাতাস খেতে মার্কেটে ঢুকে মেয়েদের পোশাক নেড়েচেড়ে দেখছিলাম। হঠাৎ কর্মচারী বললো, “এভাবে নাড়াচাড়া না করে বউ বা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আসুন। শপিং করতে মজা পাবেন। ”

নিজেকে অপমানিত বোধ করছি, তবুও সামান্য ভাব নিয়ে বললাম, ” আমার গার্লফ্রেন্ডের জন্য আমি কিনতে এসেছি তোমার সমস্যা কি? ”
– স্যরি স্যার, তবে আমি বলছিলাম কারণ আপনি পছন্দ করে নিলে ঝামেলা হবে। ৭০% এর বেশি তার পছন্দ হবে না, তখন আবার রিটার্ন কিংবা পরিবর্তন করতে আসতে হবে।
– বললাম, আমার গার্লফ্রেন্ড এখানেই আসছে তাই অপেক্ষা করছি।
লোকটা আর কিছু না বলে চলে গেল। আমি খুব বুদ্ধিমানের মতো হাঁটতে লাগলাম, কিন্তু এখন গার্লফ্রেন্ড কীভাবে আনবো। কারণ আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড তো দুরের কথা, মেয়ে বান্ধবীও নেই।
এমন করে আমি যখন চিন্তার সাগরে ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছি তখন হঠাৎ করে একটা মেয়ে সেখানে প্রবেশ করলো। আমি তার কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলাম।
– কেমন আছেন?
– কে আপনি?
– একটা উপকার করবেন?
– যেমন।
আমি তাকে সবকিছু খুলে বললাম। মেয়েটা তখন আমার সঙ্গে গার্লফ্রেন্ডের মতো অভিনয় করতে লাগলো। তারপর তার যা যা লাগবে সবকিছু সে কিনতে লাগলো। সবকিছু কেনা শেষ করে মেয়েটা আমাকে বললো,
– একটা কথা বলতে চাই।
– বলেন।
– আপনি যেহেতু কিছুই কিনবেন না তাহলে শুধু শুধু এখানে কেন এসেছেন?
– এসির বাতাস খেতে। বাহিরে প্রচুর গরম তাই ভাবলাম কিছুক্ষণ ফ্রী ফ্রী এসির ভেতরে বাতাস উপভোগ করি।
মেয়েটা খুব হাসতে লাগলো। তার হাসি দেখে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে রইল, আমি অনেকটা গর্ব নিয়ে বুক টানটান করলাম।
– ঠিক আছে তাহলে আপনি আরো কিছুক্ষণ বাতাস খেতে থাকুন আমি চলে গেলাম।
– আচ্ছা ঠিক আছে, কিন্তু আমিও আপনার সঙ্গে বের হতে চাই। কারণ এরা ভাববে গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে বয়ফ্রেন্ড যাচ্ছে না কেন?
– না না তাহলে সমস্যা হবে, বাহিরে আমার বাবা দাঁড়িয়ে আছে। আর তিনি আপনার সঙ্গে বের হতে দেখলে বকাঝকা করবেন।
মেয়েটা চলে গেল ক্যাশিয়ারের কাছে। তারপর কিছুক্ষণ কথা বলে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
– আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছি তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসো।
আমি ভাবলাম বাহহ কত বুদ্ধি তার। আমাকে আরও কিছুক্ষণ বাতাস খাবার ব্যবস্থা করে চলে গেল।
কিন্তু আর না, এবার বের হতে হবে।
বের হতে যাবো এমন সময় আমাকে তারা ধরে ফেললো।
– ভাই টাকা না দিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?
– কিসের টাকা?
– আপনার গার্লফ্রেন্ড ১৩৭৯০ টাকার পোশাক নিয়ে গেল সেই টাকা।
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। ফ্রীতে বাতাস খেতে এসে আমি আমার ২২ হাজার টাকা দামের মোবাইল জমা রেখে বের হতে চাইলাম। কিন্তু সেই প্রথম যে লোকটার সঙ্গে কথা হয়েছে সে আমার কাছে এসে বললো,
– এখানে অপেক্ষা করুন, আর আপনার পরিচিত কাউকে টাকা নিয়ে আসতে বলেন।
– আশ্চর্য, এতক্ষণ আমি কি করবো?
– কেন? ফ্রী ফ্রী এসির বাতাস খাবেন।