নীলাকাশ টুডেঃ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ খেলায় ১৬২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে বাংলাদেশ। ৮.৫ ওভারে ৪৬ রানে স্বাগতিকরা হারায় লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ নাঈম ও মুশফিকুর রহিমের উইকেট।

মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে মাত্র ২৬ রানের ‍জুটি গড়ে ফেরেন লিটন দাস। আগের দুই ম্যাচে ৬ ও ১৫ রানে আউট হওয়া এ ওপেনার এদিন ফেরেন ১২ বলে ১০ রান করে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে (১,৩৩,১৫,৬ ও ১০) ১৩ গড়ে মাত্র ৬৫ রান করেন লিটন। শুক্রবার শেষ ম্যাচে লিটনের বিদায়ে ২৬ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।

তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেননি এ তারকা ব্যাটসম্যান। চার ম্যাচ পর দলে ফিরে ৯ বলে মাত্র ৪ রানেই আউট হন।

শুরু থেকে ভালোই খেলছিলেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। ২১ বলে ২৩ রান করে ফেরেন এ ওপেনার। নাঈম আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মুশফিকুর রহিমও। ৮ বলে ৩ রান করে ক্যাচ তুলে দেন সাবেক এ অধিনায়ক। তার বিদায়ে ৮.৫ ওভারে ৪৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এর আগে ফিন অ্যালান ও টম ল্যাথামের ঝড়ো ইনিংসে শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০* রান করেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। এছাড়া ৪১ রান করেন ওপেনার ফিন অ্যালান।

শেষ ম্যাচে জয় পেতে হলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলকে ১৬২ রান করতে হবে। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ আগেই ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সুচনা করে নিউজিল্যান্ড। উদ্বোধনীতে ৫.৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে ৫৮ রান তুলেন দুই ওপেনার ফিন অ্যালান ও রাচিন রবীন্দ্র। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় সফরকারীরা।

প্রথম ৯ বলে ৩০ রান দিয়ে উইকেটের দেখা পাননি শরিফুল ইসলাম। এরপর কিউই শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন এ তরুণ পেসার। তার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালান ও রাচিন রবীন্দ্র।

১২ বলে ১৭ রান করে শরিফুলের বলে ক্যাচ তুলে দেন রবীন্দ্র। আর ২৪ বলে ৪টি চার ও তিন ছক্কায় ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বোল্ড হন ফিন অ্যালন।

এরপর আফিফ হোসেনের বলে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন উইলি ইয়াং। আগের ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করা এ তারকা ব্যাটসম্যানকে এদিন মাত্র ৬ রানে ফেরান আফিফ।

দলীয় ৮৩ রানে নাসুম আহমেদের স্পিনে বিভ্রান্ত হন কলিন ডি গ্রান্ডহোম। আগের চার ম্যাচে ৯ রান করা গ্র্যান্ডহোম এদিন ফেরেন ৯ রানে।

পঞ্চম উইকেটে হ্যানরি নিকোলসকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ২১ বলে দুই বাউন্ডারিতে ২১ রান করে নুরুল হাসান সোহানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন নিকোলস।

এরপর কোল ম্যাককলিনকে সঙ্গে নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালান টম ল্যাথাম। শেষ দিকে মাত্র ২১ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন তারা। তাদের এই জুটিতেই ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে নিউজিল্যান্ড। ৩৭ বলে দুটি চার ও সমান ছক্কায় ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন ল্যাথাম। ১০ বলে তিন চারে ১৭ রান করেন ম্যাককলিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬১/৫ (টম ল্যাথাম ৫০*, ফিন অ্যালান ৪১, হ্যানরি নিকোলস ২০, ম্যাককলিন ১৭*, রাচিন রবীন্দ্র ১৭; শরিফুল ২/৪৮)।

আরও পড়ুন

দীর্ঘদিন পর করোনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

নীলাকাশ টুডেঃ দীর্ঘদিন পর দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু পঞ্চাশের নিচে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৮৩২ জনে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ২৭ হাজার ২১৫ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৭ হাজার ২৩০টি। পরীক্ষা করা হয় ২৬ হাজার ৮৭৮টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ৯২ লাখ ২ হাজার ৭৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই তুলনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।

আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৭ জন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এর দশদিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম একজনের প্রাণ কেড়ে নেয় ভাইরাসটি। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। কিন্তু এবার সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে দেশ। গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।